মেট্রোরেলের উদ্বোধন ডিসেম্বরে

বহুল কাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেল উদ্বোধনের আর মাত্র সাড়ে আট মাস বাকি। সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষপর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরেই উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের আগেই ভাড়া চূড়ান্ত করা হবে। মেট্রোরেলের ভাড়া কেমন হতে পারে, তার একটি নমুনা তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সেখানে মেট্রোরেলের সর্বনিম্ম ভাড়া ২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া ১০০ টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়।

মেট্রোরেল আইন ২০১৫ অনুযায়ী, ভাড়া নির্ধারণ করতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।

ওই আইনে বলা হয়, মেট্রোরেলের পরিচালন ব্যয় ও জনসাধারণের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে ভাড়ার সর্বনিম্ম ও সর্বোচ্চ হার সুপারিশ করবে এ কমিটি। এজন্য ভাড়ার সুপারিশের ক্ষেত্রে রুট ও আরোহন স্থানের দূরত্ব, প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় এবং অন্যান্য গণপরিবহনের ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। আইন অনুযায়ী সেই কমিটি গঠন করা হয় ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর।

মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট- ডিটিএমসিএল। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার রেলপথে ৯টি স্টেশন নির্মাণ হবে। ৯টি স্টেশনের মধ্যে ৮টির রুপশেডের কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন প্রতিটি স্টেশনে চলছে বৈদ্যুতিক ও মেকানিকের কাজ। স্টেশনগুলোর অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজও পুরোপুরি শেষ। এখন চলছে স্টেশনের ভেতরের কাজ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই অংশের ৯১ দশমিক ৪১ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে শেষ। এদিকে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করতে গত আগস্ট মাসে মেট্রোরেলের পারফরম্যান্স টেস্ট (পরীক্ষামূলক চলাচল) শুরু হয়েছে। শুরুর পর থেকে টানা ৬ মাস এই পারফরম্যান্স টেস্ট চলেছে। এরপরের তিন মাস চলবে সমন্বিত পরীক্ষামূলক (ইন্টিগৈডেট টেস্ট) চলাচল। যা এখন চলছে। তার পরের পাঁচ মাসে ট্রায়াল রান (চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক চলাচল) শেষ করা হবে। এরপর আসছে ডিসেম্বরে যাত্রী পরিবহনে চলাচলের জন্য পুরাপুরি প্রস্তুত থাকবে মেট্রোরেল।

প্রকল্পের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইন-৬ এর উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণ কাজের সার্বিক গড় অগ্রগতি ৭৭ দশমিক ৮২ শতাংশ। জানা গেছে, দ্বিতীয় অংশেও ভায়াডাক্ট বসানো হয়েছে দুই মাস আগে। দুই অংশ মিলিয়ে রেলপথ ১৬ কিলোমিটার। যার মধ্যে ৪০ ভাগ কাজ শেষ।