রঙিলা-৭ পেঁয়াজ চাষে কৃষকের মুখে হাসি

রঙিলা-৭ হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ আবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন গোয়ালন্দের কৃষকরা। জাতটির ফলন দেশি পেঁয়াজের তুলনায় চারগুণ বেশি। ঝাঁজ ও স্বাদ দেশি পেঁয়াজের মতোই। সারা বছর স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ উপযোগী। প্রতিটি পেঁয়াজের ওজন ৬০-১০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

স্থানীয় কৃষক রফিক মিয়া ও আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, তারা নতুন জাতের এ পেঁয়াজ আবাদ করে অধিক লাভবান হয়েছেন। দেশজুড়ে এ জাতের পেঁয়াজের আবাদ করা গেলে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির ওপর প্রভাব কমবে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, সাভারের ইউনাইটেড সিড লিমিটেড তাদের নিজস্ব গবেষণায় এ জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবন করেছে; যা বাংলাদেশে এই প্রথম। নতুন উদ্ভাবিত এ জাতের পেঁয়াজ সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের ধারণা দিতে ও এ জাতের পেঁয়াজ বীজ চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়নে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রঙিলা-৭ সিড লিমিটেড রাজবাড়ী আঞ্চলিক কার্যালয় বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) উজানচরের মইজদ্দিন মোল্লাপাড়া গ্রামে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করে। ইউনাইটেড সিডের কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খোকোনুজ্জামান, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোনিয়া আক্তারসহ স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউনাইটেড সিডের পক্ষে আমজাদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, নতুন জাতের এ পেঁয়াজ বাংলাদেশে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। দেশব্যাপী এ জাতের পেঁয়াজের চাষাবাদ করা গেলে আমাদের জাতীয়ভাবে পেঁয়াজের চাহিদা সহজেই মিটে যাবে। বিদেশ থেকে আর আমদানি করা লাগবে না।

স্থানীয় ডিলার হুমায়ন কবীর রঙিলা-৭ সিড সম্পর্কে বলেন, শুরুতে পরিচিত অল্প কয়েকজনকে এই বীজ দিয়েছিলাম। যারা এর আবাদ করেছেন তারা অধিক লাভবান হয়েছেন। তবে কেউ কেউ ঝুঁকি নিতে চাননি। তারা এখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

অনুষ্ঠান শেষে কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়ে চরফরাদি গ্রামের কৃষক লাভলু মিয়ার পরীক্ষামূলক রোপিত এ জাতের পেঁয়াজের প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করেন।