সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে চাষির মুখে হাসি

বরগুনার আমতলী ও তালতলীতে এবার সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। সূর্যমুখী ফুলের সমারোহে ছেয়ে গেছে পুরো মাঠ। ওই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছে ফুলপ্রেমীরা। বাজারে সূর্যমুখী ফুল ও তৈলবীজের দামও ভালো থাকায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর দুই উপজেলায় ৯০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও দুই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ৬৯২ হেক্টর জমিতে কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। এর মধ্যে আমতলী উপজেলায় ২৮০ এবং তালতলী উপজেলায় ৪১২ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষকৃত জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে।

দুই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই কমবেশি সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ হয়েছে। তবে আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া, হলদিয়া ও আমতলী সদর এবং তালতলী উপজেলার শারিকখালী, বড়বগী ও ছোটবগী ইউনিয়নে বেশি চাষাবাদ হয়েছে। কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় বিনা মূল্যে কৃষকদের মাঝে সূর্যমুখী বীজ বিতরণ করা হয়। এই বীজ বপনের পর ফুল ও তেল সংগ্রহ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। খরচ কম ও দাম ভালো থাকায় সূর্যমুখী ফুল চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। লাভজনক হওয়ায় ওই ফুল চাষাবাদেও কৃষকরা সফলতা পাচ্ছেন।

সূর্যমুখীর বীজ দ্বারা তৈরি তেল চর্বিবিহীন। ওই তেল হৃদরোগীদের জন্য অনেক উপকারী। সূর্যমুখী ফুল ও তেল দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাজারে এখন এক লিটার সূর্যমুখী তেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং প্রতি কেজি বীজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

সরেজমিনে আমতলী ও তালতলী উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ হয়েছে। মাঠের চারদিকে হলুদ রঙের ফুল আর ফুল। এ যেন এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ওই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে ফুলপ্রেমীরা। অনেক ফুলপ্রেমীকে ফুলের মধ্যে ও সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেও দেখা গেছে।

আমতলী সদর ইউনিয়নের মানিকঝুড়ি সাতধারা গ্রামের কৃষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘পতিত জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ ভালো হয়ে থাকে। এ চাষাবাদে ঝুঁকি ও খরচ কম এবং লাভ বেশি। আমি এ বছর চার হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে দামও বেশি। ‘

তালতলীর বড়বগী ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, এ বছর তিনি পাঁচ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আরো সহযোগিতা পেলে সূর্যমুখী চাষাবাদ রবি ফসল হিসেবে গণ্য হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।

আমতলী ও তালতলী উপজেলা (অতিরিক্ত) কৃষি কর্মকর্তা সি এম রেজাউল করিম বলেন, দুই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে এবং কৃষকরা বাজারে দামও ভালো পাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ বিতরণ করাসহ সূর্যমুখী ফুল চাষে তাদের সহযোগিতা করা এবং দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।