নওগাঁয় বেড়েছে বোরো আবাদ, বাড়বে চালের উৎপাদনও

কৃষিক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনাময় এবং বিশেষ করে ধান উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁর মাঠে মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। অবারিত দৃষ্টি জুড়ে শুধুই বোরো ধানের ক্ষেত। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। সেখানে কৃষকরা তাদের ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। আবাদকৃত জমির মধ্যে হাইব্রিড জাতের রয়েছে ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর এবং উন্নত ফলনশীল উফশী জাতের রয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ২৯০ হেক্টর।

ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার ৪ হাজার ১৯০ হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সেই হিসেবে চাল উৎপাদনের পরিমানও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শামসুল ওয়াদুদ বলেন, ‘কৃষি বিভাগের ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রা প্রতি হেক্টরে ৪.৩৭ মেট্রিক টন হিসেবে এ বছর বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ ১১ হাজার ৯৪৬ মেট্রিক টন। সেখানে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৭১.৩০ মেট্রিক টন চাল।’

তিনি জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে হাইব্রিড জাতের মধ্যে হিরা-২, হিরা-৬, এসএল-৮ এইচ, ব্র্যাক হাইব্রিড, তেজ, সিনজেন্টা ১২০৩, চমক, এমএস-১সহ প্রায় ২৬ জাতের ধান আবাদ হয়েছে। অন্যদিকে উফশী জাতের মধ্যে অন্যতম ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৮১, ব্রি ধান-৮৯, জিরাশাইল, খাটো-১০, কাটারিভোগ, শম্পা কাটারিসহ প্রায় ২৭ জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে।

এবার নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলায় উপজেলাভিত্তিক বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে- নওগাঁ সদর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬০০ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ১৮ হাজার ৮০০ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ১৮ হাজার ৬০০ হেক্টর, বদলগাছী উপজেলায় ১১ হাজার ৭৫০ হেক্টর, মহাদেবপুর উপজেলায় ২৮ হাজার ৪২০ হেক্টর, পত্নীতলা উপজেলায় ১৯ হাজার ৬০০ হেক্টর, ধামইরহাট উপজেলায় ১৮ হাজার ৩২০ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ৮ হাজার ২০০ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় ১৯ হাজার ৮০০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে।