নরসিংদীতে বাঙ্গি’র বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

জেলার রায়পুরায় বাঙ্গির (ফুট) বাম্পার ফলন হয়েছে। কম পুঁজিতে ভালো ফলন ও মুনাফা হওয়ায় প্রতি বছরই ওই এলাকার মানুষ বাঙ্গি চাষের প্রতি ঝুঁকছেন। ভালো দামে বাঙ্গির বিক্রি করতে পারায় উপজেলার বাঁশগাড়ির চান্দেরকান্দি এলাকার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

চান্দেরকান্দি বিস্তীর্ণ চরজুড়ে যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই কেবল দিগন্ত জোড়া সবুজ-হলুদ সংমিশ্রণে চৈত্রের বাহারী মৌসুমী ফল বাঙ্গি চাষের সমারোহ দেখা যায়। উৎপাদিত ফসল নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় কৃষকরা। রমজান শুরুর আগেই বাঙ্গির প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে কৃষদের কাছে থেকে কিনে খুচরা বাজারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

বাঙ্গি একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। তীব্র গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে বাঙ্গি তরমুজের পরের তালিকাতেই ধরা যায়। তীব্র গরমে রমজান মাসে সারাদিন রোজা থাকার পর শরীরের ক্লান্তির ছাপ মুছতে বেশির ভাগই বাঙালির ইফতারে সাথে বাঙ্গির চাহিদা থাকে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের চান্দেরকান্দি এলাকার বেশিরভাগ মানুষই মৌসুমী ফল বাঙ্গির চাষ করেছেন। বাঙ্গিগুলো বাজারজাতকরনের জন্য প্রতিদিনই কৃষকদের কাছে নরসিংদী জেলাসহ পাশের জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারী ক্রেতাদের বাঙ্গি ক্রয় করতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা তাদের সাধ্যমতো বাঙ্গি ক্রয় করে বিভিন্ন হাটেবাজারে বিক্রি করছেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এটি অন্যান্য সবজি বা ফসলের চেয়ে চাষের তুলনায় আয় বেশি তাই অধিকাংশ চাষিরাই বাঙ্গি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার এখনো পর্যন্ত বাঙ্গির ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। পাইকারী দরে বাঙ্গিগুলো প্রতি ১০০ পিস ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যা প্রতি পিস পায়কারী মূল্যে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পড়ছে।

স্থানীয় কৃষক সুজন মিয়া জানান, তিনি টানা ৪ বছর ধরে বাঙ্গির চাষ করছেন। এবার তিনি ৩৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ জমিতে বাঙ্গি চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত বাঙ্গি চাষে তার ব্যয় হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজার মূল্যে তার জমির ফসল বিক্রি করতে পারলে আনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা মতো লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

ওই কৃষক বলেন, গেলো বছর একই জমিতে তিনি ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় করে বাঙ্গির চাষ করে তা ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এতে তার ৭৫ হাজার টাকা লাভ হয়। এবার তিনি গতবারের বাজারমুল্য থেকে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী।

রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে প্রায় ৩৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গির আবাদ হয়েছে। যা থেকে প্রায় ৭ শ মেট্রিকটন বাঙ্গি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলটিতে শর্করা, ভিটামিন ও মিনারেলস থাকায় বাজারেও বাঙ্গির ভালো চাহিদা রয়েছে। এছাড়া, কম সুগার থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।