সিরাজগঞ্জের চরে ফসলের সমারোহ, কৃষকের মুখে হাসি

সিরাজগঞ্জে যমুনার বুক জুড়ে জেগে উঠা বিশাল চরে এখন নানা ফসলের সমারোহ। কৃষক পরিবার গুলিতে ফিরছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা।

বর্ষার সময় প্রতি বছরই যমুনা চরের মানুষ গুলির জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। এসময় তারা বাড়ি ঘর ছেড়ে আশ্রয় নেয় অন্যত্র। পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের পরতে হয় বিপাকে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তারা আশায় বুক বাধে। আবার তারা চরে এসে বসতি স্থাপন করে। জমিগুলিতে নতুন পলি পরায় জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় অল্প খরচে প্রচুর পরিমাণ ফসল জন্মায়। ইতিমধ্যেই জেলার কাজিপুর থেকে শুরু করে চৌহালি পর্যন্ত অসংখ্য চরে নানা ধরনের সবজিসহ বাদাম, ভুট্টা, গম, মরিচ, পিয়াজ, রসুন ধান সহ নানা ধরনের ফসলের ব্যাপক চাষ হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবছর যমুনা চরে ৭৪০০ হেক্টর ভুট্টা, ৫১৪০ হেক্টর বাদাম, ১০০০ হেক্টর মরিচ, ৩৫০০ হেক্টর খেসারী, ২৫৫০ হেক্টর মসুর, ৩৪৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে। নতুন পলিমাটিতে এইসব ফসলের ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। এতে এই সব চরের কৃষকরা খুব খুশি।

নাটুয়া পাড়া চরের কৃষক আমীর আলী জানান, প্রতি বছরই তারা নদীর পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে নতুন পলি মাটি পরা জমিতে মরিচ চাষ করেন। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এবছর সে ২ বিঘা জমিতে লক্ষাধিক টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

ইতিমধ্যেই সিরাজগঞ্জের চরে উৎপাদিত মরিচের সুনাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পরেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে এইগুলি কিনে নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু সেতুর পর থেকে অনেক চরই স্থায়ী চরে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এইসব দুর্গম চর গুলিতে বসেছে প্রাণের মেলা। শুষ্ক মৌসুমে চরগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ঘাস জন্মে যে কারণে অনেকেই এখন বাণিজ্যিকভাবে গবাদি খামার গড়ে তোলা হয়েছে। প্রচুর ঘাস থাকায় গবাদি পশু পালনে তেমন খরচ না হওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেলটার চরের কৃষক আবু সাইদ জানান, সে আবাদের পাশাপাশি গবাদি পশুর একটি খামার করেছেন। তার খামারে ৩টি গাভী ও ২টি ষাঁড় রয়েছে। তিনটির মধ্যে ২টি গাভী প্রতিদিন ১২ লিটার করে দুধ দিচ্ছে। যার বাজার মূল্য ৭২০ টাকা। এখন চরে ঘাস থাকায় তার তেমন খরচ নেই যে হচ্ছে তার প্রায় পুরোটাই থেকে যাচ্ছে। আর আগামী কোরবানিতে ষাঁড় দুটি বিক্রি করলে দেড় দুই লাখ টাকা বিক্রি করা যাবে। সে জানায় তার মত অনেকেই বাড়তি আয়ের জন্য কৃষির পাশাপাশি গবাদি পশুর খামার করে লাভবান হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু জাফর মো. আহসান শহীদ সরকার জানান, যমুনার পলি মাটিতে প্রচুর পরিমাণ ফসল জন্মে। এতে খরচ ও কম হয়। এছাড়া পলি মাটিতে কাচা ঘাস হওয়ায় পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কাচা ঘাস খাওয়ানো হলে গরু দুধ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়াও গরু মোটাতাজা করণে বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। যে কারণে চর এলাকার কৃষক পরিবার গুলোতে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।