দেশের সমুদ্র্রে ২০০ প্রজাতির সি-উইডের সন্ধান

দেশের সমুদ্রে সন্ধান মিলেছে ২০০ প্রজাতির সি-উইডের (এক ধরনের শৈবাল)। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি প্রজাতি বাণিজ্যিক হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব সি-উইড নানা ধরনের পুষ্টিসমৃদ্ধ ও ওষুধি গুণে ভরা। পশুপাখির খাবার তৈরির উপকরণ হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।

এসবে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও রোগ প্রতিরোধী এন্টিঅক্সিডেন্টস। যদি এ সম্পদকে কাজে লাগানো যায় তা ব্লু-ইকোনমিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে। এটি সমুদ্রে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার কক্সবাজারের একটি হোটেলের হলরুমে আয়োজিত ‘সি-উইড অ্যান্ড গ্রিন মাসলস ফার্মিং অ্যান্ড ব্লু-ফুড ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠানে গবেষণার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

ওয়াল্ডফিশ বাংলাদেশ-এর টিম লিডার প্রফেসর আবদুল ওয়াহাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) সাবেক উপাচার্য আবদুস সাত্তার মণ্ডল।

বক্তারা বলেন, সি-উইড সমুদ্রের পানিতে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান শোষণের মাধ্যমে সমুদ্রের অতি উর্বরতা হ্রাসে সহায়তা করে।

গবেষণার তথ্য মতে, কক্সবাজার উপক‚লে তিন প্রকার খাবার উপযোগী সি-উইড পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে জলজখাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশে ব্লু-ইকোনমিতে সহায়তা করা সম্ভব হবে। স্বল্প খরচে সহজেই চাষ করা যায় বলে অনেক নারী ও যুবক সি-উইড চাষে সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিচার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইএমআরএডি) মহাপরিচালক ক্যাপ্টেন এম মিনারুল হক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের পরিচালক শরীফ উদ্দিন, ইউএসএআইডির প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট আশরাফুল হক, বিএইউ-এর জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রফেসর মোস্তফা আলী রেজা হোসাইন, মেরিন ফিশারিজ ডিপার্টমেন্টের উপপ্রধান মু. তানভীর হোসাইন চৌধুরী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কাজী আহসান হাবীব, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন, কক্সবাজারের গ্রিন অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান জাহানারা বেগম, ওয়াল্ড ফিশের রিচার্স অ্যাসোসিয়েট আরিফুর রহমান, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আসাদুজ্জামান, প্রজেক্ট ম্যানেজার এম মাহবুবুল ইসলাম, বিজ্ঞানী জিল্লুর রহমান ও ইউএসএআইডি ও ইকোফিশের কমিনিউকেশন স্পেশালিস্ট আসাদুজ্জামান রাসেল প্রমুখ।

আলোচনা শেষে বিভিন্ন অ্যাগ্রো ফার্মের সি-উইড দিয়ে তৈরি খাবার স্টল প্রদর্শন করা হয়। হোটেল প্রাঙ্গণে সাজানো স্টলগুলোতে রান্না করা ও প্রক্রিয়াজাত সি-উইড খাবারগুলোর স্বাদ পরখ করে দেখেন অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।