মেট্রোরেলের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭৭ শতাংশ;

রাজধানীর ভয়াবহ যানজট থেকে রেহাই পেতে নির্মীয়মাণ মেট্রোরেলের কাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করা দরকার। মেট্রোরেলের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৭৭ শতাংশ; প্রথম অংশের বাস্তবায়ন ৯০ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় অংশের ৭৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। একই সঙ্গে ইলেকট্রিক ও মেকানিক্যাল সিস্টেম এবং রেলকোচ ও ডিপো অংশের যন্ত্রপাতির কাজ ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বর্ধিত অংশের (মতিঝিল থেকে কমলাপুর) কাজও এগিয়ে চলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। আধুনিক নগর পরিকল্পনা ও গণপরিবহণে সবচেয়ে কার্যকর বাহন হিসাবে বিবেচনা করা হয় মেট্রোরেলকে। যানজট নিরসনের পাশাপাশি তুলনামূলক কম সময়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহণের কারণে উন্নত বিশ্বেও মেট্রোরেল সমাদৃত। জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ২০৩০ সালের মাধ্যে ঢাকায় ছয়টি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সবকটি লাইনের কাজ সম্পন্ন হলে রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে সন্দেহ নেই। অসহনীয় যানজট থেকেও মুক্ত হবে নগরবাসী। তাই মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রতি দেশবাসী, বিশেষ করে রাজধানীবাসীর আগ্রহ স্বভাবতই বেশি।

রাজধানী ও এর আশপাশ এলাকার গণপরিবহণ সংকটের সমাধানে যেসব প্রকল্পের কাজ চলছে, সেসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দু-একটি ছাড়া রাজধানীর সব রুটের গণপরিবহণে যাত্রীসেবা অত্যন্ত নিম্নমানের। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি কিনে থাকেন। রাজধানীর তীব্র যানজটের এটি একটি বড় কারণ। এ বাস্তবতায় রাজধানীবাসী মানসম্মত গণপরিবহণের অপেক্ষায় আছে দীর্ঘদিন ধরে। মেট্রোরেলের সবকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মানুষের সেই অপেক্ষার অবসান হবে। এ মহানগরীতে উত্তর-দক্ষিণমুখী সড়ক তুলনামূলক বেশি; পূর্ব-পশ্চিমমুখী সড়কের সংখ্যা অনেক কম। প্রথম চালু হওয়ার অপেক্ষায় থাকা মেট্রোরেলও উত্তর-দক্ষিণমুখী। এ বাস্তবতায় রাজধানীবাসীর যাতায়াতের দুর্ভোগ পুরোপুরি নিরসনে আমাদের নগর পরিকল্পনাবিদ এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের উচিত এ দিকটিতে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়া। প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রতার প্রবণতা রয়েছে আমাদের। মেট্রোরেলসহ মেগা প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে তেমনটি যেন না ঘটে, সেদিকে সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর সঙ্গে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষভাবে জড়িত। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত সবাই দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন, এটাই প্রত্যাশা।