ডিজিটাল হচ্ছে দেশের সব রেলস্টেশন

পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব রেলস্টেশন ডিজিটাল করার মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শতভাগ অনলাইন হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। ১৬ ফেব্রুয়ারি রেল ভবনের সম্মেলন কক্ষে টিকেটিং সেবা নিয়ে সহজ লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব রেলস্টেশনকে ডিজিটাল করার মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শতভাগ অনলাইন করা হবে। রেলের টিকেটিং ব্যবস্থা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। টিকেটিং ব্যবস্থার ওপর রেলের ভাবমূর্তি অনেকাংশে নির্ভর করে। এ জন্য এই ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক বাধা অতিক্রম করে চুক্তি সই হয়েছে। এতদিন সিএনএস টিকেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল, ২০০৭ সালে তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়। তাদের সঙ্গে মামলা মোকদ্দমাসহ অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। টিকিটে তাদেরকে যে পরিমাণ টাকা দেয়া হতো সে অনুযায়ী আমরা সার্ভিস পাচ্ছিলাম না।’

সহজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা এম কাদের এবং রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী চুক্তিতে সই করেন। রেলসচিব মো. হুমায়ুন কবীর ও রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি হয়েছে। আগামী ১৮ মাস তারা বর্তমান টিকেটিং সার্ভারসহ অন্য কিছু ব্যবহার করবে। এই সময়ের মধ্যে তারা আধুনিক টিকেটিং ব্যবস্থা তৈরি করবে। এর ফলে টিকিট কালোবাজারি, টিকিট না পাওয়া এবং যাত্রী হয়রানি আর থাকবে না বলে আশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেলের ডাবল লাইনের কাজ আগামী ৬ মাসের মধ্যে শেষ হবে। তখন রেলওয়ের সেবা আরও বাড়বে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন চুক্তি অনুযায়ী রেলওয়ের অর্থ সাশ্রয় হবে। বর্তমান সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিএনএসকে প্রতিটি টিকিটের বিপরীতে সাড়ে তিন টাকার মতো দিতে হয় রেলওয়েকে। সহজকে দিতে হবে প্রতি টিকিটের জন্য ২৫ পয়সা। ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে সহজ লিমিটেড কাজ পেয়েছে।

রেলসচিব হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘রেল সেবায় মানুষের ভোগান্তি কীভাবে দূর করা যায় তা নিয়েও কাজ করবে রেলওয়ে। আমরা আশা করি, নতুন প্রতিষ্ঠান সহজ টিকিট ও যাত্রীসেবা আরও সহজ করবে।’

রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, ‘টিকিট নিয়ে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। আশা করি, নতুন প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলে অভিযোগ আর থাকবে না।’