শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত নাসিমা

শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন এই নারী। নির্বাচনে হুইল চেয়ারে বসে গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনগণের কাছে ভোট চেয়েছেন। অবশেষে সকল বাঁধা পেরিয়ে ইউপি নির্বাচনে জনগণের ভোটে সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নাছিমা আক্তার।

৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সপ্তম ধাপের ইউপি নির্বাচনে তিনি পায়রাবন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য হিসেবে ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে ২৬৩৪ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি পায়রাবন্দ ইউনিয়নের শালাইপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে তিনি। তার মায়ের নাম রেহেনা বেগম। নাছিমা আক্তার তিন ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়।

নাছিমা জানান, মাত্র দুই বছর বয়সে পোলিও আক্রান্ত হয়ে তার দুটি-পা বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। তারপর থেকে জীবন যুদ্ধে অদম্য নাছিমা কখনো থেমে থাকেননি। হুইলচেয়ারকে সঙ্গী করে নিজের প্রচেষ্টায় শালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে জায়গীর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পাশ করেন। বর্তমানে পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া কলেজে (উন্মুক্ত) এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন।

নিজের কর্মদক্ষতায় ২০১২ সালে ভোটের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জাতীয় প্রতিবন্ধী নারী পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন নাছিমা। এরপর ২০১৫-২০১৮ সালে তাকে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। তিনি প্রতিবন্ধী নারীদের বাজেট প্রণয়নে বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়,সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়,নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিবন্ধীদের বাজেট প্রণয়নে মতামত প্রদান করে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও আইনি সহায়তা প্রদানে কাজ করে আসছেন।

এছাড়াও নাছিমা আক্তার ‘বেগম রোকেয়া ফোরাম’, ‘জেলা আইন সহায়তা কেন্দ্র’, ‘বাংলাদেশ সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’সহ এডিডি ইন্টারন্যাশনাল সদস্যপদ লাভ করেন। কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ পেয়েছেন উপজেলা ও জেলা জয়িতা পুরস্কার, বিশ্ব নারী দিবস ভূমিকা পুরস্কার, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কারসহ অগনিত স্বীকৃতি ও সম্মাননা। তিনি বাংলাদেশ প্রেসক্লাব মিঠাপুকুর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য। এছাড়াও জাতীয় প্রতিবন্ধী নারী পরিষদের সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্বসহ ভারত, কাতার, দুবাই, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, কানাডা, ইংল্যান্ড প্রভূতি দেশ সফর করেছেন।

নাছিমা আক্তার বলেন, প্রতিবন্ধীরা দেশের বোঝা নয়, দেশের সম্পদ।সঠিক সহযোগিতা পেলে আমরাও দেশের সুনাম এবং দেশের সেবা করতে পারবো। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।