শতবছর পরও জনপ্রিয় স্বরূপকাঠির পেয়ারা

আজকাল প্রায় সারা বছরই বাজারে এই ফলের দেখা মেলে। ভিটামিন সি-যুক্ত এই ফলে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে ভরপুর। কার্ডিওভাসকুলার অসুখ, ছানির সমস্যা, বার্ধক্যের ছাপ এড়া‌তে চি‌কিৎসকরা অবশ্যই এই ফল খেতে পরামর্শ দেন।

কোন ফলের কথা বলা হচ্ছে বলুন তো? আ‌রেকটু তথ্য দেই। একে ‘আন্ডাররেটেড সুপারফুড’ বলছেন পুষ্টি‌বিদরা। যদিও অল্প ঝাল নুন মিশিয়ে এই ফলের টুকরো মুখে দিলেই স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে টিফিন ভাগ করে খাওয়া কিংবা ছুটির দুপুরে কৈশ‌রের সময়কার পড়ার কথা মনে আপনার পড়বেই। ঠিকই ধরেছেন। গরিবের আপেল মানে পেয়ারার কথাই বলা হচ্ছে।

শতবছর পরও জনপ্রিয় স্বরূপকাঠির পেয়ারা। স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে পেয়ারাকে বলা হয় বাংলার আপেল। আর এর মধ্যে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পেয়ারার জাতটিই বেশি জনপ্রিয়।

স্বরূপকাঠি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চপল কৃষ্ণ নাথ বলেন, উপজেলার ২২টি গ্রামের প্রায় ৬৫৭ হেক্টর জমিতে পেয়ারার বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ১০টন পেয়ারা হয়। স্বরূপকাঠীর প্রায় ১৮ শ’ পরিবার পেয়ারা চাষে জড়িত। এ ছাড়া বরিশালের বানারীপাড়া ও ঝালকাঠীর বেশ কিছু এলাকার লোকও এ পেয়ারা চাষ করছে। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুধু স্বাদই নয়, স্বরূপকাঠির পেয়ারার বাজারটিও দেখার মতো। রীতিমতো পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে এখানকার ভাসমান পেয়ারা বাজার। গাছপালা ঘেরা শাখানদী ও খালের ওপর সবুজ পেয়ারাভর্তি নৌকাগুলো দেখলেই প্রকৃতিপ্রেমীর মন মিশে যাবে ঘনসবুজের ছায়ায়।

ঢাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, স্বরূপকাঠি থেকে ২০ বছর ধরে ফল নিচ্ছেন। প্রতি মণ কিনছেন সাড়ে চার শ টাকায়। ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকায়। দাম পড়ে যাওয়ায় এবার খানিকটা লোকসানে আছেন তিনি। লকডাউনের কারনে ঢাকার ফেরিওয়ালারা পেয়ারা বিক্রি করতে পারছে না বলেই ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ