কঙ্গোতে স্বাস্থ্যসেবাতেও অনন্য বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা

সংঘাত-গোলযোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কঙ্গোর দরিদ্র অসহায় মানুষদের ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিয়ে অনন্য হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা। আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর গোমা এলাকায় নিয়োজিত ব্যানইঞ্জিনিয়ার-১১ কন্টিনজেন্ট তাদের অর্পিত দায়িত্বের বাইরেও প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণসহ নানা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা যায়।

শুক্রবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে- কঙ্গোর গোমা শহরের পাশে পাহাড় বেষ্টিত মুনিগি গ্রামে ক্যাম্প বসিয়ে সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেনিং’ পরিচালনা করছিলেন।

সিমিক প্রোগ্রামের আওতায় পরিচালিত গতকালের চিকিৎসা সেবা দানকালে সেখানে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দাকে চিকিৎসাসেবা ও ফ্রি ওষুধপত্র প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। এসময় সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সেখানে সৌহার্দ যে পরিবেশ দেখা যায় তাতে পারস্পারিক আস্থার একটি সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়েছে। এসময় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যানইঞ্জিনিয়ার-১১ কন্টিনজেন্টের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার মেজর মো. গোলাম আহাদ ও মেজর আসিফসহ বেশকিছু শান্তিরক্ষী। এসময় স্থানীয় রোগীদের সমস্যা শুনে (সহেলি ভাষায়) শান্তিরক্ষী চিকিৎসক এবং ওষুধ বিতরণকারীকে পাশে থেকে সেগুলো জানিয়ে দিচ্ছিলেন স্থানীয় বাংলাভাষী আলতামাস টাইগার ও মুসা। তারা বিভিন্ন কর্মকান্ডে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে থেকে ভালোবেসে এখন স্পষ্ট বাংলা ভাষায় কথা বলেন, গানও গান।

আলতাস টাইগার এ সময় বলেন, প্রতি শুক্রবার সকাল হলেই এখানে স্থানীয়রা নিজ থেকেই ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ নিতে চলে আসে। বাংলাদেশ ও সেনাবাহিনীকে আমরা ভালোবাসি। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনে নেতৃত্ব দেয়া ব্যানইঞ্জিনিয়ার-১১ কন্টিনজেন্টের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার মেজর মো. গোলাম আহাদ বলেন, সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার সকাল ৮ থেকে মুনিগিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফ্রি চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। করোনার কারণে এখন এভাবে বাইরে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। তবে জররুি চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন হলে ব্যানইঞ্জিনিয়ার কন্টিনজেন্টের লেভেল-১ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে কঙ্গোর গোমায় নিয়োজিত ব্যানইঞ্জিনিয়ার-১১ কন্টিনজেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুবুল হক বলেন, জাতিসংঘের দেয়া ‘ম্যান্ডেট’ বা অর্পিত দায়িত্বের বাইরেও আমরা এখানকার সাধারণ অসহায় মানুষদের সিমিক প্রোগ্রামের আওতায় নানা সেবা দেয়া হচ্ছে। যার অন্যতম হচ্ছে -সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয় মানুষদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ সামগ্রি বিতরণ। পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝে করোনা সংক্রমন রোধে নানাভাবে সচেতন করা হচ্ছে।

লেফ. কর্নেল মাহবুব আরো বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দেশের এই সম্মান ও মর্যাদা ধরে রাখতেই সিভিল মিলিটারি কোঅপারেশন (সিমিক) কার্যক্রমের আওতায় নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কঙ্গোতে (মনুস্কো) বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়া নর্দান সেক্টর কমান্ডার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা এখানে অত্যন্ত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে। এর বাইরেও বিশেষ করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে যেভাবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তাতেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা অনন্য মর্যাদায় রয়েছে।

তথ্যসূত্র: সময়ের আলো