বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেড়েছে আরও ২ মাস

এক বছরে বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু আরও ২ মাস ১৪ দিন বেড়ে ২০২০ সালে হয়েছে ৭২ বছর ৮ মাস। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭২ বছর ৬ মাস। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস-২০২০’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গড় আয়ু পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি। পুরুষের গড় আয়ু ৭১ বছর ২ মাস, নারীদের গড় আয়ু ৭৪ বছর ৫ মাস।

সোমবার (২৮ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক একেএম আশরাফুল হক।

চলতি বছর জানুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯১ লাখ ১ হাজার। পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৮০ লাখ। এ সংখ্যার আলোকে পরিসংখ্যানের আনুপাতিক হিসাব করা হয়েছে। মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের ২ হাজার ১২টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ২০২০ সালের হিসাবে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭২ বছরে ৮ মাস, যা ২০১৯ সালে ছিল ৭২ বছর ৬ মাস। এছাড়া ২০১৮ সালে গড় আয়ু ছিল ৭২ বছর ৩ মাস, ২০১৭ সালে ৭২ বছর এবং ২০১৬ সালে ৭১ বছরে ৬ মাস।

প্রত্যাশিত গড় আয়ু পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি। ২০২০ সালে পুরুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৭১ বছর ২ মাস। ২০১৯ সালে ছিল ৭১ বছর ১ মাস। ২০১৮ সালে ৭০ বছর ৮ মাস, ২০১৭ সালে ৭০ বছর ৬ মাস এবং ২০১৬ সালে ছিল ৭০ বছর ৩ মাস।

অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে গড় আয়ু ৭৪ বছর ৫ মাস, ৭৪ বছর ২ মাস, ৭৩ বছর ৮ মাস, ৭৩ বছর ৫ মাস এবং ৭২ বছর ৯ মাস।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার বাড়েনি। নমুনা এলাকায় এই হার ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ। শহর এলাকায় মহিলারা ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে। অন্যদিকে গ্রামে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ মহিলা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। তবে জন্মনিয়ন্ত্রণের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের হার বেড়েছে।

প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, এখন চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। মানুষ সহজেই চিকিৎসা নিতে পারছেন। তাছাড়া খাদ্যগ্রহণ আগের চেয়ে বেড়েছে। পুষ্টিগ্রহণের ক্ষেত্রে তুলনামূলক অগ্রগতি হয়েছে। মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে গড় আয়ু বেড়েছে।

তথ্যসূত্র: ঢাকাপোস্ট