কেজি প্রতি ১ টাকা ১৮ পয়সায় আম আসছে ঢাকা

রাজশাহীর বাঘায় আমের চাষ হয়েছে আট হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে। আমের পুরো মৌসুম শুরু হয়েছে দেড় মাস আগে থেকে। এর মধ্যে গোলাপভোগ আম প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ভরা মৌসুমে ট্রেনের মাধ্যমে আম পরিবহনে সরকারি উদ্যোগ আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উজ্জীবিত করেছে।

সোমবার পর্যন্ত এই ট্রেনে ঢাকায় আম গেছে মোট তিন লাখ ১১ হাজার ৭৫০ কেজি।

করোনাকালীন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগ আম পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী স্টেশন থেকে ঢাকায় যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির আম।

আড়ানী স্টেশনের তথ্যমতে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল’ ট্রেনের উদ্বোধনের ২৭ দিন অতিবাহিত হতে যাচ্ছে। এই ট্রেনের উদ্বোধন করা হয় ২৭ মে। এই ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আম ছাড়াও কৃষিজাত পণ্য ও অন্যান্য মালামালও পরিবহন করা যাচ্ছে। চালুর পর থেকে ট্রেনটি আম পরিবহনে আগ্রহ বাড়ছে। ২৭ দিনে আড়ানী স্টেশন থেকে সোমবার পর্যন্ত ঢাকায় আম গেছে তিন লাখ ১১ হাজার ৭৫০ কেজি।

এর মধ্যে আড়ানী স্টেশন থেকে প্রথম সপ্তাহে ট্রেনটি আম পরিবহন করে এক লাখ ৩০ হাজার ২০ কেজি। দ্বিতীয় সপ্তাহে এক লাখ ৩৫ হাজার ৫০ কেজি। এ ছাড়া তৃতীয় সপ্তাহে এক লাখ ৫১ হাজার ৮০ কেজি।

‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল’ ট্রেনটিতে আড়ানী স্টেশন থেকে এক কেজি আম ঢাকায় পৌঁছাতে খরচ পড়ছে এক টাকা ১৮ পয়সা। অল্প মূল্যে আম পরিবহনের বিষয়টি সবার মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। নিরাপদে আম পরিবহনের জন্য ট্রেনটি ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার আমার ৩৮০ কেজি আম এক টাকা ১৮ পয়সা হিসেবে বুক করেছি। ২৫ কেজি ওজনের ১২টি ক্যারেট বুক করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যারেটপ্রতি ১০ টাকা লেবার খরচ দিয়েছি। ঢাকা স্টেশনে নামাতে লাগবে আরও ১০ টাকা। তবে সড়কের চেয়ে টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

আড়ানী খয়েরমিল নুরনগর গ্রামের আম ব্যবসায়ী আবু হানিফ বলেন, আমি চলতি সপ্তাহে ট্রেনে দুই হাজার ৫০০ কেজি আম ঢাকায় দিয়েছি। আগামীকাল আরও বেশি পাঠাব। অন্য যানবাহনের চেয়ে খরচ কম হচ্ছে।

আড়ানী স্টেশনের কুলির সরদার হোসেন আলী বলেন, এই স্টেশনে আমরা ১১ জন কুলি রয়েছি। এই করোনার কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বসেছিলাম। এ ট্রেনটি চালু হওয়ায় কুলিদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

আড়ানী স্টেশনমাস্টার সদরুল হোসেন বলেন, চলতি সপ্তাহে এক লাখ ৫১ হাজার ৮০ কেজি আম বুক করা হয়েছে। সড়কের চেয়ে পরিবহন খরচ অনেক কম হচ্ছে বলে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।

এই করোনাকালীন আম পরিবহনের চাহিদা ও পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়ছে। ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রাত ১টায়। ঢাকা থেকে ট্রেনটি রাত ২টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে আসছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল’ ট্রেনটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির আন্তরিক প্রচেষ্টায় চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি সুফল পাচ্ছেন। তবে আম পরিবহনের জন্য অল্প সময়ে মধ্যে চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছে জনপ্রিয়তা হয়ে উঠেছে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল’ ট্রেন।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর