‘জমিসহ ইটের ঘর পাব স্বপ্নেও কল্পনা করিনি’

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর গ্রামের মর্তুজ আলী ও জোসনা বেগম দম্পতির নিজের কোন জমি ছিল না। থাকতেন অন্যের জায়গায় খুপড়ি ঘরে। কখনো চিন্তাই করেননি নিজের ঘর হবে জমি হবে। নিজের জমিতে নিজের ঘরে থাকতে পারবেন এটা তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। কিন্ত মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দুই শতক জমি ও দুই কক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা তারা।

শুধু মর্তুজ আলী ও জোসনা বেগম দম্পতি নয় একইভাবে তাদের অনুভূতির কথা ব্যাক্ত করেন জমি ও ঘর পাওয়া দিগড় গ্রামের দুলাল হোসেন-আম্বিয়া বেগম, হামিদপুর গ্রামের মর্জিনা খাতুন-জয়নাল আবেদীন, আনোয়ার হোসেন-রেখা বেগম ও কাশতলা গ্রামের আলা উদ্দিন-রমেছা দম্পতিসহ উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কদমতলি আশ্রায়ন প্রকল্পে স্থান পাওয়া ১৭টি পরিবার। কথা বলার সময় তাদের চোখ দিয়ে আনন্দাশ্রু ঝরে পড়ছিল।

তারা জানান, ‘জমিসহ ইটের ঘর পাব কোন দিন স্বপ্নেও কল্পনা করিনি। ঘর পেয়ে আমরা ভীষন খুশি। আল্লাহ যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারে ভাল করে। আমরা দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করি।’

কথা হয় উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের শালিয়াবহ পুকুরপাড়, রঘুনাথপুর ও ঘোড়ারটিকি আশ্রয়ণ প্রকল্পে জমিসহ ঘর পাওয়া রমেশ চন্দ্র ও ঝর্না রানীর সাথে। ঝর্না রানী জানান, ‘নিজের কোন জমি ছিল না বনের জায়গায় থাকতাম। এখন নিজের জমি হয়েছে আবার ইটের ঘর পেয়েছি। সরকারের কাছে আমাদের এর চেয়ে বেশী কি চাওয়ার আছে। গরীর মানুষ সারা জীবন প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনাকে দোয়া করবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, ‘আশ্রায়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার’ মুজিববর্ষে এই শ্লোগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৭টি স্থানে খাস জমিতে গৃহহীন, ভূমিহীন ও ছিন্নমূল পরিবারকে দুই শতক জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। ঘরগুলো নির্মিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের আওতায়। প্রথম পর্যায়ে ১৭৬ পরিবারকে আবাসন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আরো গৃহহীন ১০০ পরিবারের কাছে জমির দলিল ও ঘর হস্তান্তর করা হবে। আগামীকাল ২০ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, ‘ভূমিহনি, গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য দুই শতক জমিসহ আধাপাকা ঘর প্রদানে সরকারের এ স্বপ্নযাত্রায় ক্ষুদ্র অংশীদার হতে পেরে আমি গর্বিত।’

তথ্যসূত্র: কালেরকণ্ঠ