ধান সংরক্ষণে নির্মাণ করা হবে ৩০টি সাইলো সেন্টার

কীটনাশক ছাড়া দীর্ঘ সময় ধান সংরক্ষণের একটি প্রকল্প নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৮ জুন) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে ধান শুকানো, সংরক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ আধুনিক ধানের সাইলো নির্মাণ’ প্রকল্পটি তোলা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০টি সাইলো নির্মাণ করা হবে। একনেক কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। একনেকে অনুমোদনের পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৩ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে খাদ্য অধিদফতর। পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অষ্টম পাঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং এসডিজির লক্ষ্যের সঙ্গে প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের মাধ্যমে উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য প্রদান, সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ১.৫০ লাখ টন ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা, সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির অভিযোজন, কীটনাশক বিহীন মজুদ ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ থেকে ৩ বছর শস্যের পুষ্টিমান বজায় রাখা, আদ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মজুদ শস্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিরাপদ ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাদ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে।

প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ধান ঝাড়াই, বাছাই, শুকানো, আদ্রতা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ প্রতিটি ৫ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার ৩০টি ধানের সাইলো নির্মাণ করা হবে। সাইলোতে ট্রাক ও বাল্ক ওজন যন্ত্র, কনভেয়িং, বাকেট এলিভেটর সিস্টেম সংযোজন করা, ৩০টি সাইলোর সিভিল ফাউন্ডেশন, মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ (প্রতিটি ১৮৫.৮৭ বর্গমিটার), ৩০টি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন স্থাপন (মোট ৩০টি) এবং ৩০টি কেন্দ্রে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ (প্রতিটিতে ৩৫৫.০৮ মিটার) করা হবে।

কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০টি ধানের সাইলো নির্মাণ করা হবে। সাইলোগুলো নির্মাণ হলে আগামী ৩ বছরের মধ্যে ১.৫০ লাখ টন ধান সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এ সব সাইলো নির্মাণ করা হলে সারাবছর কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষক সহজেই সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রয় করতে উৎসাহিত হবেন। উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাবেন। এ বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ঢাকাপোস্ট