২০০০ কভিড বেড বাড়ছে

২০০০ কভিড বেড বাড়ছে

দেশে করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি চলছে। গত বছর প্রথম ঢেউয়ের পিক টাইমে (জুন-জুলাই) সংক্রমণ যে মাত্রায় ছিল, গত ১০ দিন ধরে সংক্রমণ তার দ্বিগুণ মাত্রায় পৌঁছেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে ৭০-৮০ শতাংশ। এমনকি গতবারের তুলনায় এবার জটিল রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। হাসপাতালে যাওয়া প্রায় সব রোগীরই অক্সিজেন লাগছে। এদের মধ্যে ২০ শতাংশের হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা লাগছে এবং আইসিইউ লাগছে ৩০ শতাংশ রোগীর। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকে। আইসিইউ বেড তো নেই-ই, সাধারণ শয্যাও পাচ্ছেন না রোগীরা। হাসপাতালের বারান্দায় চেয়ারে বসিয়ে অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এমনকি শয্যার জন্য ঘুরতে ঘুরতে মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত দুদিন ধরেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা বলছেন। গত মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি ভবনকে কভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করার এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, লকডাউনের সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানলে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তিনি বলেন, দুই হাজারের জায়গায় যদি ৫০ হাজার মানুষ সংক্রমিত হয়ে যায় তাহলে সরকারের পক্ষে সেটির সংকুলান করা সম্ভব হবে না।

সর্বশেষ গতকাল বুধবারও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আমরা করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করছি। হাসপাতাল বেড়েছে, আইসিইউ বেড়েছে, চিকিৎসা সম্পর্কে এখন জানা গেছে। করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বেড়েছে। দেশে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। এরপরও করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি না। করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে ক্যানসার, কিডনি, স্ট্রোকের রোগীসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে, তাদের চিকিৎসা দিতে পারছি না।’

এমন অবস্থায় গতকালও সর্বোচ্চসংখ্যক ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একইভাবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাংলাদেশে গত বছর ৮ মার্চ করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার এক বছর পর এ বছর মার্চের শেষে প্রথমবারের মতো এক দিনে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী শনাক্তের খবর আসে। এর মধ্য দিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৯ মার্চ ছয় লাখ ছাড়িয়ে যায়। এরপর মাত্র এক সপ্তাহে সেই তালিকায় যোগ হয়েছে আরও অর্ধলক্ষ নাম। মঙ্গলবার দেশে রেকর্ড ৭ হাজার ২১৩ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাতে দেশে মোট শনাক্ত রোগী সাড়ে ছয় লাখ পেরিয়ে যায়। এক দিনের মাথায় বুধবার দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় নতুন রেকর্ড হলো।

রাজধানীর কভিড হাসপাতালের পরিচালকরা বলছেন, করোনা রোগীর চিকিৎসায় পুরো সক্ষমতা ব্যবহার করেও চাপ সামাল দিতে পারছেন না। সাধারণ শয্যা সংকটও চরমে পৌঁছেছে। কোন কোন হাসপাতালে শুধু অক্সিজেন লাগছে, এমন রোগীদেরই ভর্তি করা হচ্ছে। কোথাও শয্যার অভাবে রোগী ভর্তি না করিয়ে অক্সিজেন দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে বলা হচ্ছে, জটিল পরিস্থিতি না হলে বাসায় বসে চিকিৎসা নিতে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার কভিড হাসপাতাল ও রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকার ঢাকায় কভিড রোগীদের চিকিৎসায় দুই হাজার শয্যা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি নতুন কভিড হাসপাতাল চালু ও তিনটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে ৩০০ বেডের কভিড ইউনিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া রাজধানীতে দুটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের ব্যাপারেও আলোচনা চলছে। আর্মি স্টেডিয়াম ও ঢাকা তিতুমীর কলেজে ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরামর্শ দিয়েছে। সেগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া গতবার চালু হওয়া চট্টগ্রামের ফিল্ড হাসপাতালটি আবার চালু করা যায় কি না, সে ব্যাপারেও চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

অবশ্য শুধু হাসপাতালের শয্যা বাড়িয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে মনে করছেন বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুধু শয্যা বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হবে। সেটা জোর করে বা বাধ্যতামূলক হলেও করাতে হবে। মূল জায়গা সংক্রমণ কমানো।’

এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজমুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুধু শয্যা বাড়িয়ে চাপ সামাল দেওয়া যাবে না। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আগামী দুই মাস মানুষ একদম ঘরে বসে থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না। এটা যদি মানতে পারি, তাহলে এখন যে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ও মৃত্যুহার কমে যাবে। কারণ ঘরে বসে থাকলে সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে রোগটি ছড়াবে না। এভাবে ১৫ দিন করে হিসাব করলে, এখন যারা সংক্রমিত হয়েছে, বাইরে যাওয়ার কারণে তার থেকে যারা সংক্রমিত হতো, সেটা কমে যাবে। এভাবে চক্রাকারে সংক্রমণ কমে যাবে। সরকার গাড়ি চালু করেছে, কিন্তু মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বের হবে না। আজ (গতকাল) শহরে অনেক গাড়ি, কিন্তু লোক নেই। এটাই হতে হবে। সব চলবে, মানুষ থাকবে না। যার জরুরি প্রয়োজন, সেই শুধু বের হবে। এটা মানুষ বুঝতে পারছে। অনেক লোক মারা যাচ্ছে, হাসপাতালে ঠাঁই নেই। মানুষ এখন ঘরেই বসে আছে। আমার মনে হয় মানুষ এসব বুঝতে পারবে।’

২ হাজার নতুন শয্যা হচ্ছে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কভিড রোগীদের জন্য দুই হাজার শয্যা বাড়াচ্ছি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মার্কেটের করোনা হাসপাতাল করা হচ্ছে। চালু হতে সাত দিনের মতো সময় লাগবে। ১ হাজার ২০০ বেড হবে। ১০০ বেডের আইসিইউ ও এইচইউডি থাকবে। ঢাকার বাইরে সংক্রমণ এত বেশি নয়। বেশি রোগী ঢাকা মহানগরীতে। বেশি চিন্তা এখানকার রোগীদের নিয়ে। প্রথমে ১৫০ বেডের মহানগর জেনারেল হাসপাতাল ও ১০০ বেডের লালকুঠি হাসপাতাল চালু করা হবে। এ দুই হাসপাতালে পাঁচটি করে ১০টি আইসিইউ ও অক্সিজেন থাকবে। এ দুই হাসপাতালও সাত দিনের মধ্যে চালু করা হবে। পরে প্রয়োজন হলে রেলওয়ে হাসপাতাল চালু করা হবে। এছাড়া জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল ও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) ১০০ শয্যা করে মোট ৩০০ শয্যার কভিড ইউনিট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। গতবারের হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল আবার চালু হচ্ছে।’

এ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে স্কয়ার, ল্যাবএইড, গ্রীনলাইফসহ সব বেসরকারি হাসপাতাল কভিড চিকিৎসা দিচ্ছে। ঢাকার বাইরেও অনেক হাসপাতাল চালু হয়েছে। চট্টগ্রামের ফিল্ড হাসপাতালও চালু হয়েছে। আমরা আশা করছি কমপক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালু করতে পারব। দেড় হাজার বেড যদি চালু করতে পারি, তাহলে চিকিৎসার অনেকখানি সমাধান হবে। এসব হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে। এখানে আলাদা করে এখনই নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এসব হাসপাতাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (প্রশাসন) কাছে তাদের চাহিদা দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে দেওয়া হচ্ছে।’

তিনটি ফিল্ড হাসপাতালের চালুর আলোচনা : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকায় দুটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে। সোনবাহিনীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারা ফিজিবিলিটি দেখছে। আমরা দুটি স্থানের কথা বলেছি আর্মি স্টেডিয়াম ও তিতুমীর কলেজ। যখন হবে, তখন সংশ্লিষ্টরাই বেড নির্ধারণ করবেন। দুটির জন্য বলেছি। তারা আমাদের অগ্রগতি জানাবে। তবে এখনো কিছু জানায়নি।’

ফিল্ড হাসপাতালের ব্যাপারে ডা. ফরিদ হোসেন বলেন, ‘কভিড নিয়ন্ত্রণে ১৮ দফার যে পরিপত্র হয়েছিল, তার ভেতরে একটা ছিল ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে। এটার ব্যাপারে এখনো কোনো অগ্রগতি আমাদের জানা নেই। আমাদের অধিদপ্তর থেকে ১৮টি পয়েন্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে দেওয়া হয়েছিল। সেটা অনুযায়ী সরকার পরিপত্র জারি করেছিল। ওই ১৮ পয়েন্টের মধ্যে একটিতে ফিল্ড হাসপাতালের ব্যাপারে বলা হয়েছিল। এছাড়া চট্টগ্রামের ফিল্ড হাসপাতালটি আবার চালু হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিদ্যুৎ বড়–য়া দেশ রূপান্তকে বলেন, ‘এখনো চালু হয়নি। আগের মতোই সেটআপ আছে। এটা নাভানা গ্রুপ চালায়। আমি পরিচালনা করি। এখন সরকারের অনুমতি, নাভানার সম্মতি, জনবল, অর্থবল, সবকিছু সম্মত হলে চালু করা যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেখে এসেছে। সরকার চাইলে এ ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা সম্ভব। সব সাপোর্ট পেলে আমরা চালু করতে পারব। এটা ৬০ বেডের হাসপাতাল।’

অক্সিজেন লাগছে এমন রোগী ভর্তি করা হচ্ছে : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজমুল হক বলেন, ‘চাপ দিনে দিনে আরও বাড়ছে। আমরা বিভিন্ন কৌশল বের করে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিদিন যে রোগীকে ছেড়ে দিই, সেখানে নতুন রোগী ভর্তি করি। যাদের অক্সিজেন দরকার নেই, তাদের ভর্তি করি না। যাদের অক্সিজেন দরকার, শুধু তাদেরই ভর্তি করি।’

তিনি বলেন, ‘কভিড রোগীর জন্য প্রায় ৮০০ বেড আছে। সবগুলোতেই রোগী। রোগীর চাপ এত বেড়েছে যে যাদের দরকার শুধু তাদেরই ভর্তি করি। আগে যেমন কভিড রোগী এলেই ভর্তি করে নিতাম, এখন সেটা হচ্ছে না। যাদের অক্সিজেন দরকার নেই, তাদের ভর্তি করছি না। তাদের বলছি বাসায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেন। আমাদের এখানে এমন হয়, যার কভিড হয়েছে, ফুসফুসে একটু সংক্রমণ আছে, তারাই হাসপাতালে চলে আসেন। অক্সিজেন দরকার নেই, অক্সিজেন প্রবাহ (স্যাচুরেশন) ভালো, তাদের ভর্তির দরকার নেই। তারা বাসায় আইসোলেশনে থাকবেন অথবা আইসোলেশন সেন্টারে থাকবেন। এখানে ৮০০ বেডের সঙ্গে ৮০০ অক্সিজেন। যার দরকার নেই, তিনি একটা বেড দখল করে থাকলে, যার অক্সিজেন দরকার, তিনি তো সিট পাবেন না।’

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিকল্প ভাবার পরামর্শ : বেসরকারি হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বছর যখন সংক্রমণ চূড়ায়, অর্থাৎ জুন-আগস্ট, সে সময়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যাসহ সবকিছু মিলে এখন হাসপাতালগুলোতে ৭০-৮০ শতাংশ চাপ বেড়েছে। গতবার সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী যখন শনাক্ত হয়েছিল, তখনো হাসপাতালগুলোতে জায়গা দেওয়ার অবস্থা ছিল। এ বছর এমনও দিন গেছে যেদিন ঢাকার একটি হাসপাতালেও একটি শয্যা সংখ্যা খালি ছিল না, আইসিইউ তো দূরের কথা। গত বছর শয্যাসংখ্যা নয়, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সংকট ছিল। এবার ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো, কিন্তু শয্যাসংখ্যা সত্যিকার অর্থেই নেই।’

শয্যা সংকটের উদাহরণ দিতে গিয়ে এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ‘সারাদিন আমি প্রায় ১০-১৫টি কল পাই শয্যা আছে কি না, আইসিইউ দেওয়া যাবে কি না।’ সমাধানের পথ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যদি সংক্রমণের ধারাবাহিকতা নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে হাসপাতালে শয্যা বড়িয়ে এ সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। আজকেও (গতকাল) সাড়ে সাত হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০ শতাংশকেও হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে ৭০০ শয্যা দরকার। কিন্তু চাইলেও তো রাতারাতি এ পরিমাণ শয্যা বাড়ানো সম্ভব নয়, কিছু বাড়ানো যেতে পারে। বিকল্প ভাবতে হবে।’

রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেন ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সব রোগীকে আমাদের তিন ভাগে ভাগ করতে হবে মৃদু, মধ্যম ও তীব্র সংক্রমণ। যারা মৃদু ও মধ্যম সংক্রমিত, তারা বাসায় থাকবেন। তীব্র সংক্রমণ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’

এ চিকিৎসক আরও পরামর্শ দেন, কতগুলো ইমার্জেন্সি অক্সিজেন সাপোর্ট সেন্টার করতে হবে, মধ্যম সংক্রমিত যারা, তাদের এ সেন্টারে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া কতগুলো মোবাইল মেডিকেল টিম করতে হবে, মৃদু ও মধ্যম সংক্রমিত রোগীদের যারা বাসায় থাকবেন, মধ্যম সংক্রমিত যারা অক্সিজেন সাপোর্ট সেন্টারে থাকবেন, তাদের কাছে থেকে কল পেলে তাদের গিয়ে দেখবে। এ মেডিকেল টিম নিশ্চিত করবে তাদের হাসপাতালে নিতে হবে, নাকি বাসায় থাকবেন। অক্সিজেন সাপোর্ট সেন্টারগুলোকে কিছু লোককে প্রশিক্ষণ দিয়েই কাজে লাগানো যায়।

এসবের পাশাপাশি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করতে হবে বলেও জানান এ চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘ফিল্ড হাসপাতাল হবে ইমার্জেন্সি সেন্টার। যে মানুষটা চিকিৎসা পাচ্ছে না, ফিল্ড হাসপাতাল হলে তার চিকিৎসাটা শুরু করা যাবে। অনেক সুযোগ-সুবিধা হয়তো থাকবে না, কিন্তু চিকিৎসা শুরু করা যাবে। এমনটা আমরা চীনের উহানে দেখেছি। তারা খেলার মাঠে, স্টেডিয়ামে করেছিল।’

ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি সম্ভব জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, ‘আমাদের দেশে সশস্ত্র বাহিনী ও রেড ক্রিসেন্ট করতে পারে। স্কাউটের জাম্বুরিতে যে তাঁবু খাটানো হয়, সেগুলো দিয়েও একটা হাসপাতাল হতে পারে। ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু করে দেওয়া উচিত। কারণ সামনে শয্যার জন্য হাহাকারটা আরও বাড়বে। কারণ ইতিমধ্যেই হাসপাতালের শয্যা খুঁজতে খুঁজতে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই মৃত্যু তো কাম্য নয়।’

Views: 5