উত্তরাঞ্চয়ে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন, খুশি কৃষক

বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। মরিচের জন্য বিখ্যাত বগুড়ার কৃষকের খেত আর আঙিনাজুড়ে এখন শুধু মরিচ আর মরিচ। অন্যান্য ফসলের তুলনায় মরিচের কিছুটা ভালো দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটফুলবাড়ির চাষি লাল মিয়া বলেন, ‘ধান আবাদ করে দাম পাই না। সবজি আবাদ করে দাম পাই না। যিডা আবাদ করব্যার যাই, খালি লোকসান খাই। সেই দিক থ্যাকে চিন্তা করলি এইবার মরিচের ভালোই দাম পাচ্চি। শুকনা মরিচ ছয় হাজার টেকা মণ দরে বেচিচ্চি। তবে খেতত থ্যাকে কাঁচা মরিচ ব্যাচপার য্যায়া দাম পাইনি। গতবার যে মরিচ ব্যাচনো আড়াই হাজার টেকা মণ দরে, সেই মরিচ এইবার ব্যাচিচ্চি বারো শ টেকা মণ।’ একই ধরনের কথা বলেন নারুলী গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেনসহ কয়েকজন।

বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গুণগতমানের জন্য বগুড়ার মরিচ সারা দেশে বিখ্যাত। এই মরিচ উৎপাদন হয় বগুড়া সদর, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, শাজাহানপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলায়। জেলায় এবার আট হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে।

সারিয়াকান্দি, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকের খেত, বাড়ির উঠান আর আঙিনা এখন পাকা মরিচে উপচে পড়ছে। চলছে মরিচ শুকানোর ধুম। কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে কাঁচা অবস্থায় ৩০ মণ করে মরিচের ফলন হচ্ছে। শুকানোর পর বিঘাপ্রতি ফলন টিকছে ১০ থেকে ১২ মণ। খেত থেকে তুলেই প্রতি মণ মরিচ এক হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করে বিঘাপ্রতি কৃষক পাচ্ছেন ৩৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১২ মণ শুকনা মরিচ বিক্রি করে পাচ্ছেন ৭২ হাজার টাকা। অবশ্য এক বিঘা জমির মরিচ শুকাতে মজুরি বাবদ পাঁচ-ছয় হাজার টাকা খরচ হয়।

কৃষকেরা জানান, এবার খেত থেকে উঠানো পর্যন্ত এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে খরচ হয়েছে গড়ে ২৫-২৬ হাজার টাকা। এক মণ মরিচ খেত থেকে তোলার জন্য শ্রমিকদের মজুরি দিতে হচ্ছে ১০০ টাকা। হাটে নিতে পরিবহন বাবদ আরেক দফা খরচ হচ্ছে। সেই হিসাবে খেত থেকেই যাঁরা পাকা মরিচ বিক্রি করে দিচ্ছেন, তাঁদের খুব একটা লাভ টিকছে না। তবে যাঁরা শুকিয়ে বিক্রি করছেন, তাঁরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, জেলায় এবার মরিচের রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। এবারও মরিচের ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাচ্ছেন কৃষক।

তথ্যসূত: প্রথম আলো