নারীর নিরাপত্তায় প্রস্তুত পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম

স্বামীর নির্যাতন থেকে শুরু করে পথে–ঘাটে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় নারী নিজেকে অনিরাপদ মনে করলে পাশে পাবেন পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমকে (কিউআরটি)। দিন-রাত যেকোনো সময় এ দলকে পাশে পেতে ফোন করতে হবে ০১৩২০০৪২০৫৫ নম্বরে (হটলাইন)। তবে প্রচারের অভাবে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ ফোন পাচ্ছেন না তাঁরা।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্ত বা ভিকটিমকে দ্রুত উদ্ধারসহ অন্যান্য সহায়তা দিতে কিউআরটির যাত্রা। গত বছরের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর তেজগাঁও থানা প্রাঙ্গণের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের অধীনে এই টিমের উদ্বোধন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। ১২ জানুয়ারি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, কিউআরটির নারী পুলিশ সদস্যরা একটি ঘরে বসে আছেন। উদ্ধারজনিত কোনো ফোন পেলেই ছুট লাগাবেন তাঁরা। কিউআরটিতে নারী পুলিশ সদস্য সংখ্যা বেশি হলেও পুরুষেরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হামিদা পারভীন বলেন, এ বিভাগের অধীনে তদন্ত ইউনিট, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পাশাপাশি কিউআরটিও পরিচালিত হচ্ছে। ২৮ জনবলের কিউআরটি পূর্ণাঙ্গ একটি দল হিসেবে কাজ করছে। ডিএমপির অধীনে কোনো স্থানে ঘটনা ঘটলে উদ্ধার পাওয়া যাবে এবং সারা বাংলাদেশের সবাই আইনি পরামর্শ পেতে এ নম্বরে ফোন করতে পারবে।

কিউআরটিতে আসা সব অভিযোগ নথিবদ্ধ হচ্ছে না, যেসব অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেগুলো নথিবদ্ধ করা হয়। সে হিসাবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত নথিবদ্ধ হয়েছে ৯৬টি অভিযোগ। কিউআরটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা বেশি ফোন করে সহায়তা চাচ্ছেন। কল বেশি আসে ঢাকার বাইরে থেকে। ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এই দল থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক, খারাপ ব্যবহার, অনলাইনে প্রতারণাসহ বিভিন্ন বিষয়েও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

কিউআরটির সদস্যরা আইনি পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগে ভিকটিম এলে সমস্যা সমাধান করার ব্যবস্থা নেন। ভিকটিমকে প্রয়োজনে কোনো থানায় যোগাযোগ করিয়েও দিচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। এ পর্যন্ত পারিবারিক নির্যাতনের শিকার কয়েক ভিকটিমকে উদ্ধার করে তাঁদের ইচ্ছানুযায়ী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হটলাইন নম্বরটি আসলেই কাজ করছে কি না, তা যাচাই করতে গত ২৩ জানুয়ারি ফোন করলে একজন নারী কনস্টেবল নাম, পরিচয় ও অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চান। কোন ধরনের ফোন বেশি পাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বললেন, হটলাইন নম্বর তো, অনেক সময় ভুয়া ফোনও আসে, অনেকে ফোন করে কোনো অভিযোগের কথা বলতে পারেন না। অনেকে এ সেবা সম্পর্কে শুধু জানার জন্যই ফোন করেন।

কিউআরটির সদস্যরা ১২ ঘণ্টা করে দলে ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। একজন সাব-ইন্সপেক্টর প্রতিটি দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুজন গাড়িচালকও প্রস্তুত থাকেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মো. ওয়ালিদ হোসেন টেলিফোনে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় কিউআরটি গঠন করা হয়েছে। কিউআরটি ও হটলাইন নম্বরের প্রচার বাড়ানো জরুরি।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো