জাহাজ রপ্তানি করে চারশ কোটি ডলার আয়ের টার্গেট

সরকার জাহাজ রপ্তানি করে ২০২৫ সালের মধ্যে চার বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এজন্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ‘জাহাজ নির্মাণশিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০২১’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। চার বছরের মধ্যে জাহাজ নির্মাণ খাতের কর্মী সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ করারও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্নিষ্টরা জানান, করোনা মহামারির মধ্যে প্রায় ১০ মাস পর মন্ত্রিসভা বৈঠকে সশরীরে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছয়জন মন্ত্রী ও ছয়জন সচিব অংশ নিয়েছেন। সবশেষ গত বছরের ৬ এপ্রিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গণভবনে মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক হয়েছিল। এর পর থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠকগুলো ভার্চুয়ালি হয়েছে। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা অংশ নেন। আর গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন, ২০২০-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন, বয়লার আইন, ২০২০-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, সরকারি করপোরেশন (ব্যবস্থাপনা সমন্বয়) আইন প্রণয়নের আবশ্যকতা নিরূপণ বিষয়ে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রিসভা গঠিত কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জাহাজ নির্মাণ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি, এই শিল্প-সংশ্নিষ্ট নানাবিধ ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পের বিকাশ, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ এ শিল্পের টেকসই বিকাশ ত্বরান্বিত করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনাসহ উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নীতিমালার মূল লক্ষ্য হচ্ছে- অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জাহাজ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা। বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পকে বিশ্ব জাহাজ নির্মাণশিল্পের উপযুক্ত অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া অধিক বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২৫ সালের মধ্যে জাহাজ রপ্তানি খাতের অবদান ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। এখন জাহাজ রপ্তানি করে আয় হয় এক বিলিয়ন ডলার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণশিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করাও নীতিমালার উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, জাহাজ নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের কীভাবে ঋণ সহায়তা দেওয়া যায়, ট্যাক্স ও ভ্যাটের ক্ষেত্রে তাদের কীভাবে একটু সুবিধা দেওয়া যায় এগুলো এই নীতিমালার মধ্যে আছে। এটা (জাহাজ নির্মাণ) অত্যন্ত ভালো শিল্প। উন্নত দেশগুলো সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণশিল্প থেকে দূরে সরে এসেছে। তারা এখন আউটসোর্সিং করছে। যাতে এই শিল্পকে ধরা যায় সেজন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সেটা সম্ভব হলে এখান থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের অবসর সুবিধাদি বৃদ্ধি, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং এ-সংক্রান্ত অটোমেশন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: সমকাল