সমুদ্রে হবে সবচেয়ে বড় রানওয়ে

দেশের সবচেয়ে বড় রানওয়ে, অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে বর্তমানে এক নম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তবে শাহজালাল বিমানবন্দরকেও ছাড়িয়ে যাবে কক্সবাজার বিমানবন্দর। এ জন্য পর্যটননগরী কক্সবাজার বিমানবন্দরের বর্তমান ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়েকে মহেশখালী চ্যানেলের দিকে আরও ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারিত করা হবে। আর ১০ হাজার ৭০০ ফুটের দৃষ্টিনন্দন এই রানওয়ের ১ হাজার ৩০০ ফুটই থাকবে সাগরের ওপর।

প্রথমবারের মতো সমুদ্রের ওপর ব্লক তৈরি করে নির্মিতব্য কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কার্যাদেশ পেয়েছে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিইসিসি)। রবিবার দুপুরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান এ কার্যাদেশ দেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই নোটিফিকেশন অ্যাওয়ার্ড (এনএ) দেবে চীনা কোম্পানি। তার পর পরবর্তী ২৮ দিনের মধ্যে বেবিচক ও সিসিইসিসির মধ্যকার চুক্তি (পারফরম্যান্স গ্যারান্টি) সম্পন্ন করা হবে। এর পর মার্চের মাঝামাঝি যে কোনো দিনে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করে রানওয়ে খুলে দেওয়া হবে। এর পর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সুপরিসর বিমান চলাচল করতে পারবে পর্যটননগরী কক্সবাজারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই বিমানবন্দরকে রিজিওনাল এয়ার হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বারবার উচ্চারণ করেছেন। মূলত তার স্বপ্ন থেকেই অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করে গুরুত্বের সঙ্গে বিমানবন্দরটির কাজ শেষ করা হবে।

বেবিচক সূত্র জানায়, কার্যাদেশ পেতে এতদিন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এতে নানা অজুহাতের কারণে বারবার পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিমানবন্দর নির্মাণের কাজের মান যাচাই করে গত ২৯ ডিসেম্বর সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে ঠিকাদার কোম্পানি হিসেবে অনুমোদন পায় সিসিইসিসি। ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি ৬৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেও করোনা ভাইরাসের কারণে কার্যাদেশ প্রক্রিয়া মন্থরগতিতে চলে।

বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মালেক জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দর প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়ের সম্প্রসারণ কাজ শেষ হয়েছে, যা এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। কিন্তু স্থানীয় বসতভিটা উচ্ছেদসংক্রান্ত জটিলতায় তা সময় লাগছে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় পর্যায়ের অত্যাধুনিক রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেবিচক কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়।

বেবিচক কর্মকর্তারা বলছেন, সমুদ্র তীরবর্তী অত্যাধুনিক বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় দেখা যাবে দিন ও রাতের সৌন্দর্য। দেশের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর নির্মাণকাজ শেষ হলে সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা আসবে। এতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। সমৃদ্ধ হবে দেশের পর্যটন খাত, যা বাংলাদেশের এভিয়েশন রুটকে আন্তর্জাতিকভাবে ইমেজ বৃদ্ধি করবে।

তথ্যসূত্র: আমাদের সময়

Views: 10