শান্তিতে সাত ধাপ অগ্রগতি

বিশ্বশান্তি সূচকে বাংলাদেশের কয়েক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। এটা সুখবরই বটে। শান্তি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সবারই কাম্য। সিডনিভিত্তিক নীতি-গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি)’ প্রকাশিত ২০২০ সালের বিশ্বশান্তি সূচকে আগের বছরের তুলনায় অবস্থানে চার ঘর এগোলেও প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঘটেছে সাত ধাপ। সংস্থাটির প্রতিবেদনে এ কথা স্পষ্ট করেই উল্লেখ করা হয়েছে। এবার ১৬৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে একইসংখ্যক দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০১তম। এবারও শান্তি সূচকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সবচেয়ে বড় অগ্রগতি ছাড়াও সব মানদণ্ডেই বাংলাদেশ এগিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সংখ্যা কমায় ‘সহিংস বিক্ষোভ’ মানদণ্ডে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। দলটি সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আন্দোলনই গড়ে তুলতে পারেনি। কার্যত বিএনপির নিষ্ক্রিয়তায় শান্তি বিনষ্ট হওয়ার হার কমেছে বাংলাদেশে। এটি বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ বটে। তৈরি পোশাক খাতে কাজের পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভ হলেও সেগুলো শান্তিপূর্ণ ছিল। অভ্যন্তরীণ সংঘাত, খুনাখুনি ও সন্ত্রাসবাদের কারণে মৃত্যু কমার ফলে বাংলাদেশের এ অগ্রগতি হয়েছে।

এবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ ভুটান। বিশ্বশান্তি সূচকে তার অবস্থান ১৮তম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান রয়েছে যথাক্রমে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থানে। বিশ্ব সূচকে নেপাল ৭৩তম, শ্রীলঙ্কা ৭৭তম, ভারত ১৩৯তম ও পাকিস্তান ১৬৩তম অবস্থানে রয়েছে। তবে অগ্রগতির বিচারে শান্তি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। সামগ্রিক স্কোরে বাংলাদেশের উন্নতি ২.৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি সর্বোচ্চ হার। সূচক নির্ধারণের সবগুলো ডোমেইনেই উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে সুরক্ষা ও নিরাপত্তায়।

স্থিতি ও শান্তি কোনো রাষ্ট্রের উন্নয়নের পথপরিক্রমা তৈরি করে দেয়। যেসব দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে তাদের সবাইকে দীর্ঘ একটা কাল শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকতে হয়েছে। এটাই ইতিহাসের শিক্ষা। আমরা উন্নয়নশীল মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি এরই মধ্যে। রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতি যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে আমাদের উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার যাত্রা ত্বরান্বিত হবে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা কথাটি মনে রেখে কাজ করবেন বলে আমরা আশা করি।