ক্ষুদ্র চা চাষিরা কৃষি প্রণোদনা পাবেন

ক্ষুদ্র চা চাষিদের সরকারের কৃষি প্রণোদনায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে তিনি এ ঘোষণা দেন। সোমবার (৪ মে) তিনি রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর সঙ্গে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় দেশের একমাত্র সমতল ভূমিতে চা চাষের জেলা পঞ্চগড়ের সঙ্গে চা উৎপাদন শ্রমিকদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

এর আগে স্থানীয় এক ক্ষুদ্র চা চাষি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত কৃষি প্রণোদনায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কৃষকদের জন্য যে প্রণোদনা দিচ্ছি তাতে ক্ষুদ্র চাষিরা যাতে থাকে, তার ব্যবস্থা আমরা করে দেবো। তাতে কোনও অসুবিধা হবে না। চা বাগানের শ্রমিকদের আমরা আলাদা ভাবে বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে থাকি। বড় বড় চা বাগান যাদের আছে তারা তো অন্য রকম সুবিধা পায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চায়ের চাহিদা বেড়ে গেছে। মানুষ চা খায় বেশি। করোনার কারণে এখন যেহেতু দোকানপাট বন্ধ এজন্য চায়ের চাহিদা একটু কম।’

তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড়ের চায়ের গুণগত মান অনেক ভালো। অনেকটা দার্জিলিংয়েরই মতো। পঞ্চগড়ের চা এরইমধ্যে নামও করেছে।’

পঞ্চগড়ে চা চাষ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাজহারুল হক প্রধান বলেন, ‘আপনি পঞ্চগড়ে যে চা চাষের কার্যক্রম শুরু করিয়েছিলেন, সেই চায়ের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ। কারণ চায়ের দাম গতবারের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এটা হয়েছে বিদেশ থেকে চা আমদানির কারণে। এই সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায় সেটা আপনি দেখবেন।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী একজন চা চাষির সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন জেলা প্রশাসক চা চাষি আমিরুল ইসলাম খোকনকে ফ্লোর দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার অনুপ্রেরণায় আমরা ২০০০ সাল থেকে পঞ্চগড়ে চা উৎপাদন শুরু করি। প্রায় ছয় হাজার ক্ষুদ্র চা চাষি পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে চা চাষ করছি। গত বছর আমরা প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার এক কোটি কেজি চা উৎপাদন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা শ্রমিকরা কাজ করছে। ২০টি কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত আছে। চায়ের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উৎপাদিত খরচের অর্ধেক মূল্যে তাদের চা বিক্রি করতে হচ্ছে। এভাবে ক্ষতি হলে আমরা চা চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবো। আপনি বলেন, আপনার উদ্ভাবিত চা এখানে যে মঙ্গা দূর হওয়ার সহায়ক হিসেবে কাজ করেছিল, আবার যদি কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আবার আমরা মঙ্গাকে আহ্বান জানাবো। আপনি এখানে চা চাষ শুরু করেছিলেন। অস্তিত্ব আপনাকেই টিকিয়ে রাখতে হবে। আর এটা কীভাবে করবেন তা আপনিই ভালো জানেন।’

তিনি বলেন, ‘আশার কথা হচ্ছে আপনি করোনার কারণে কৃষি প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু আমরা চা চাষিরা এই প্রণোদনায় অন্তর্ভুক্ত নই। এই ব্যাপারে আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

ক্ষুদ্র চাষি আমিরুল ইসলাম মিলন অন্যান্য ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি ত্রাণ হিসেবে চা দেওয়ারও প্রস্তাব করেন।