মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ডিজিটাল দক্ষতা

দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দেশে খাদ্যশস্যের ভয়াবহ সংকট চলছিল। ঐ সময়টায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও খাদ্যের সংকটের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জও বঙ্গবন্ধুর সরকারকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল। তবে তা মোকাবিলা করতে পেরেছিলেন দূরদর্শী নেতৃত্বের অধিকারী বিশ্বের শোষণ ও বঞ্চিত মানুষের নেতা বঙ্গবন্ধু। বিপর্যয়কর অবস্থা মোকাবিলায় জনগণকে সম্পৃক্ত করেই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন করে ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন তিনি। এই জনগণকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে সাফল্য পাওয়ার যে সক্ষমতা এ জাতির রয়েছে তা তিনি জানতেন, বুঝতেন।

স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দী পর দেশের জনসংখ্যা এখন ১৭ কোটির বেশি। এর মধ্যে রয়েছে বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী। যাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে পারলে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের রোল মডেল। সে সুযোগও রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ছাড়াও বিশ্ব অর্থনীতিকেরাও এ কথা স্বীকার করেছেন। তবে এর জন্য সবার আগে জনসংখ্যাকে দক্ষ ও জনসম্পদে রূপান্তর করা জরুরি। এবার আসা যাক জন বা মানবসম্পদ কী? মানব ও সম্পদ মিলিয়ে মানবসম্পদ।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রত্যয়টি সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ও সম্যক জীবন যাপনের গুণগত পরিমাণ দ্বারা পরিমাপযোগ্য। একটা জাতিকে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে বলা যায়, দেশের মানুষ অর্থাত্ মানব যাতে আপদ না হয়ে সম্পদ হয়, সেদিকে লক্ষ রাখাটা সমাজ, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই মানবসম্পদকে প্রকৃত সম্পদে রূপান্তরিত করার জন্য মানবের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, জ্ঞানগত এবং পেশাগত দক্ষতা, কর্মসংস্থান এ রকম নানা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উন্নতির প্রয়োজন। এসবের অভাব দেখা দিলে মানবসম্পদ আপদে পরিণত হতে পারে।

বর্তমানে একটি দেশের উন্নয়ন পরিমাপের ক্ষেত্রে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই একমাত্র নির্দেশক নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এ কারণে মানবসম্পদ উন্নয়ন এখন বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পল জে মায়ার মানবসম্পদকে একটি দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে অভিহিত করেছেন। আর এই মানবশক্তি তখনই মানবসম্পদে পরিণত হবে, যখন তা সুপরিকল্পিত উপায়ে পরিচালিত হবে।

আমরা দেখতে পাই, সীমিত আয়তনের জাপান, হংকং, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো তাদের দক্ষ মানবসম্পদ। আমরা যদি আমাদের বিপুল পরিমাণ তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে মানবসম্পদে পরিণত করতে পারি, তাহলে আমরাও সে জায়গায় নিজেদের তুলে ধরতে পারব।

ইতিহাস বলছে, পৃথিবীর জনসংখ্যা ৫০০ কোটিতে উন্নীত হয় ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই। এর পর থেকে প্রতি বছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

এখন পৃথিবীব্যাপী ক্রমেই বেড়ে চলছে জনসংখ্যা। কিন্তু সম্পদ সীমিত, সেই আগেরটাই রয়ে গেছে। তাই এই সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে এবং তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সম্ভাবনাময় জনগণকেও সম্পদে রূপান্তর করার সময় এসেছে। এজন্য প্রয়োজন কর্মমুখী শিক্ষা।

বিশ্বভূখণ্ডে বাংলাদেশ নামের দেশটি জন্মের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে তার সম্পদ বলতে সেই অর্থে কিছুই নেই। তাই যে সাড়ে সাত কোটি মানুষ রয়েছে তাদের সম্পৃক্ত করে এবং কাজে লাগিয়েই দেশটি গড়ে তুলতে হবে।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার সময় বঙ্গবন্ধু প্লেন থেকে দেখছিলেন লাখো মানুষ তাকে বরণ করতে কীভাবে উন্মুখ হয়ে রয়েছে। প্লেনের জানালা দিয়ে বিপুল এই মানুষকে দেখে চোখের জল মুছে মুছে তিনি বলেছিলেন, ‘এত মানুষকে খাওয়াব কীভাবে?’

বঙ্গবন্ধু এই মানুষকে নিয়েই ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশটিকে স্বপ্নের সোনার বাংলা করতে চেয়েছিলেন। সেভাবে পরিকল্পনাও গ্রহণ করেন তিনি। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ছিলেন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বাধীনতার পর নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সম্প্রসারণ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার চাহিদা নিরূপণ, উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং একটি মেধাসম্পন্ন ও জ্ঞানবিজ্ঞানে সমৃদ্ধ জাতি গড়ার লক্ষ্যে স্বাধীনতা লাভের পরপরই ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে, অর্থাত্ প্রথম বিজয় দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির ১০ নম্বর আদেশে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার প্রতি তার সর্বোচ্চ প্রাধান্য ও প্রয়োজনীয়তার কথা জাতির সামনে তুলে ধরেন।

জাতির পিতা আমাদের একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। আর সেই দেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করতে কাজ করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এরই মধ্যে আমাদের একটি ফ্রেমওয়ার্ক করে দিয়েছেন। সেটি হচ্ছে ২০২১, ২০৩০, ২০৪১ ও ডেলটা প্ল্যান। ভিশন-২০২১-এর মূল বিষয় হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ, যা এখন বাস্তব। ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।

এরই আলোকে জাতীয় শিক্ষানীতিকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে মিল রেখে উচ্চশিক্ষার কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। অবাধ বুদ্ধিচর্চা, মননশীলতা ও চিন্তার স্বাধীনতা বিকাশে সহায়তাদান এর অন্যতম লক্ষ্য। নিরলস জ্ঞানচর্চা ও নিত্যনতুন বহুমুখী মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণার মধ্য দিয়ে জ্ঞানের দিগন্তের ক্রমপ্রসারণের কাজও চলছে। এক্ষেত্রে বিশেষ করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ জাতির দুঃসময়ে কোনো যুগোপযোগী ও জনকল্যাণকর গবেষণা দিয়ে বিশ্বকে পথ দেখাতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।

তাদের অবশ্যই কার্যকরভাবে বিশ্বমানের শিক্ষাদান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিত্সা জাগানো এবং মানবিক গুণাবলি অর্জনে সহায়তা দিতে হবে। এছাড়া পাঠদান পদ্ধতিতে সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে দেশের বাস্তবতাকে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, রাষ্ট্র ও সমাজের সমস্যা শনাক্ত করা ও সমাধান বের করতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। কেননা, বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই।

এক্ষেত্রে সরকারও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ডিজিটাল দক্ষতায় শিক্ষার্থীদের সম্পদে পরিণত করে তুলতে শিক্ষায় আইসিটি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০১০ সাল থেকে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক এনসিটিবির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে।

জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের উপযোগী বিজ্ঞানমনষ্ক, অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, মানবমুখী, প্রগতিশীল ও দূরদর্শী নাগরিক সৃষ্টি করতেও কাজ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী হতে জ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করার পাশাপাশি মেধার বিকাশ এবং সৃজনশীল নতুন নতুন পথ ও পদ্ধতির উদ্ধাবন করতেও সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় বাংলাদেশের সাফল্যও বেশ ভালো। অর্থের মানদণ্ডে ২০০৮ সালে বাংলাদেশের আইসিটি খাতের আকার ছিল ২৬ মিলিয়ন ডলার, যা আজ ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮-এর ১১ মে স্যাটেলাইট উেক্ষপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মহাকাশ যুগে পদার্পণ করে। আর এ সবই হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শী পরামর্শ ও পরিচর্যার ফলে।

একটা কথা আগেই বলেছি যে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলায় প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি। বিষয়টি মাথায় রেখে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এলআইসিটি) প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এলআইসিটি প্রকল্প থেকে আউটসোর্সিংয়ের ওপর ১০ হাজার তরুণ-তরুণীকে হাই ভ্যালু প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অধীনে প্রফেশনাল আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার। এছাড়া সাপোর্ট টু ডেভেলপমেন্ট অব কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক প্রকল্পের আওতায় স্কিল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম, সি-লেভেল, ওরাকল অ্যান্ড এসএপিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্সূচি চালু রয়েছে।

তৃণমূলের তথ্য জানালা কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) প্রায় ১০ হাজার উদ্যোক্তাকে ফিচার, প্রতিবেদন, আউটসোর্সিং এবং ই-কমার্সের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যা খুবই প্রশংসনীয় এবং ভালো উদ্যোগ। তবে বিপুল এই জনগোষ্ঠীর জন্য অপ্রতুলই বলা চলে।

সম্পদ যেহেতু সীমিত, তাই এই সম্পদের মধ্যেই নিজেদের জন্য ভালো এমন কিছু গ্রহণ করতে হবে। তরুণদের অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করা প্রয়োজন। কেননা, মানবসম্পদ উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকে তরুণেরা। তারাই শক্তি, তারাই আশা-ভরসা, তারাই ভবিষ্যত্।

এই তরুণেরাই যদি মাদকের আক্রমণে জীবনশক্তি হারিয়ে ধুঁকতে থাকে, মাদকের মতো অসুস্থ রাজনীতি কিংবা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে, তাহলে আমাদের আশার আর জায়গা থাকবে না।

তাই উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ হবে শুধু বাজারের জন্য কর্মী তৈরি করা নয়, শিক্ষার্থীদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, যারা শুধু সনদ অর্জন করবে না। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বাস্তবিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ মানুষ হবে, যাদের নিজের চিন্তাভাবনা, কল্পনা, উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ ঘটবে।

এছাড়া আমাদের ভাষা দক্ষতারও অভাব রয়েছে। ভালো বাংলা বলার পাশাপাশি বৈশ্বিক ভাষা হিসেবে ইংরেজিতেও দক্ষতা থাকতে হবে তরুণদের। তবেই তারা বিদেশে ভালো মানের আয়ের পাশাপাশি উন্নত জীবন যাপন রতে পারবে।

পত্র-পত্রিকায় দেখা যায়, এশিয়ার অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা, ভারত থেকে আসা অনেকেই আমাদের তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্প, আইটি খাতে কাজ করছে; যারা বার্ষিক ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার দেশে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ বিদেশে কর্মরত আমাদের ষাট-সত্তর লাখ শ্রমিক উদয়াস্ত পরিশ্রম করে দেশে রেমিট্যান্স হিসেবে পাঠাচ্ছেন প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার।

একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কেননা, দক্ষতাই উন্নত সভ্যতা বিনির্মাণের হাতিয়ার। এর জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেম ও একতা। কথায় আছে—একতাই শক্তি। এ প্রসঙ্গে মানবসম্পদের জনক জর্জ এলটন মায়ো যথার্থই বলেছেন, ‘Monetary incentives and good working conditions are less important to the individual than the need to belong to a group.’ মুজিববর্ষে আমাদের শপথ হোক প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।

অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন
শিক্ষাবিদ; সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন