ইভিএম সম্পর্কে বিরোধিতার আগে জেনে ও বুঝে নিন…

আমরা সেই জাতি যে দেশের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হওয়ার কারণ দেখিয়ে বিনামূল্যের সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং সেই সংযোগ পরবর্তিতে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে মিলিয়ন ডলার খরচ করে আনতে হয়। আজকেও ইভিএম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখলাম। এ নিয়ে সেমিনারও হয়েছে কয়েকটি। অথচ এ যাবত যত সমালোচনা হয়েছে তার প্রতিটি অসত্য কিংবা ভিত্তিহীন অথবা অসম্পূর্ণ উপস্থাপনা হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। সকল সমালোচনা শুধু একটি বক্তব্য দিয়েই খণ্ডন করা সম্ভব, আর তা হচ্ছে, ইভিএমের বিরুদ্ধে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দীর্ঘদিন গবেষণা করে যে সমালোচনাগুলো জাতির সামনে প্রকাশ করেছেন তা ইলেকট্রনিক ভোট কাউন্টিং মেশিন সংশ্লিষ্ট; আর আমরা যেটি ব্যবহার করতে যাচ্ছি সেটাই প্রকৃতপক্ষে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন। আমরা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে চিঠি ব্যবহার করেছি, অতঃপর ফ্যাক্স এবং এখন করছি ইমেইল। ইলেকট্রনিক এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে ফ্যাক্স মেশিনের সমালোচনা করে ইমেইলের পরিবর্তে চিঠি ব্যবহারের যুক্তি যতটা হাস্যকর, অযৌক্তিক ও উন্নয়ন প্রতিবন্ধক; ঠিক সেটাই ঘটছে ইভিএম বিরোধী অবস্থানের ক্ষেত্রে। প্রযুক্তিগত বিষয় বলে ইভিএম সম্পর্কে অনেকেই নীরবতা পালন করছেন। তাই সহজ ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশ সম্পর্কে কে কি চিন্তা করেন জানি না, তবে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ। এক সময় ইলেকট্রনিক কোনো পণ্য উন্নত বিশ্বের বাজারে আসার দুই থেকে পাঁচ বছর পর এদেশে আসতো। উনিশ শতকের শুরুতে চালু হওয়া ফ্যাক্স আমরা পেয়েছি বিংশ শতাব্দীতে। এখন সর্বশেষ মডেলের পণ্য বাজারে আসার এক সপ্তাহের মধ্যেই আমাদের হাতের নাগালে চলে আসে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শীঘ্রই বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয় হিসেবে স্থান পাবে। ইভিএম মেশিনের অগ্রদূত হিসেবে ভারতকে বিবেচনা করা হয়। আমরা যে প্রযুক্তির ইভিএম ব্যবহার করতে যাচ্ছি তা বিশ্বের প্রথম। আমাদের এ উদ্ভাবনের ফলে ভারত বা অন্যান্য দেশের ইভিএম ভোট কাউন্টিং মেশিনের সমতূল্য হয়েছে। ইভিএম সম্পর্কে বানোয়াট একটি তথ্য প্রকাশ করা হয় যে বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ইভিএম মেশিন তৈরি করা হচ্ছে আমাদের গৌরবের মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে। এর যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়েছে, যেমন: বায়োমেট্রিকস এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এর সফটওয়্যারও এমটিএফ ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ে তৈরি। মেইড ইন বাংলাদেশ ইভিএম বিদেশে রপ্তানি করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। যারা এই প্রশংসনীয় অর্জনকে নস্যাৎ করতে চাচ্ছেন তারা কি জেনে ও বুঝে সবকিছু করছেন?

 ভোট কাউন্টিং মেশিন ও ইভিএম:
ব্যালট বাক্স ছিনতাই, নিরাপদ প্রিন্টিং, ব্যালট ভাঁজের কারণে বা কোনক্রমে কালি অন্য ঘরে গেলে ব্যালট বাতিল হওয়া এবং ভোট গণনার ঝুঁকি, জটিলতা ও সময়সাপেক্ষতার কারণে ১৯৮৯ সালে ভারতে ইভিএম মেশিন উদ্ভাবন হয়। সময়ের সাথে সাথে সাধিত হয়েছে এর উন্নয়ন। ইভিএম মেশিনে ভোট দিতে একজন ভোটারকে নিজের পরিচয় সনাক্ত করার পর পোলিং বুথে ইভিএম মেশিনের একটি ডিভাইসের বাটনে চাপ দিতে হয়। প্রথম বাটনটি চাপ দিলে দ্বিতীয় একটি ডিভাইস সক্রিয় হয় এবং যেখানে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক দেয়া থাকে। সেখানে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশের বাটনে চাপ দিলে ভোট দেয়া সম্পন্ন হয় এবং সেই তথ্য ইভিএমের তথ্যভান্ডারে জমা হয়। প্রতিটি ভোট দেয়ার সময়ই বিভিন্ন প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট ও মোট ভোট হালনাগাদ হয়ে যায়।

 আমাদের ইভিএমঃ
কেউ যদি অন্যান্য ইভিএম ও আমাদের ইভিএমের পার্থক্য বিবেচনা করেন তাহলে শুধু আশ্বস্তই হবেন না, উপরন্তু গর্ববোধ করবেন যে এমন একটি যুগান্তকারী অর্জনের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়েছে। আমাদের ইভিএম বিশ্বের প্রথম বায়োমেট্রিক পদ্ধতির ভোটিং সিস্টেম যার নিরাপত্তা অন্য যেকোনো ভোট ব্যবস্থার তুলনায় শক্তিশালী। ইভিএম মেশিনের তিনটি কানেক্টেড ডিভাইস থাকে। ১. ডিসপ্লে ২. ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস ৩. পোলিং ডিভাইস। আর পোলিং এজেন্ট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য একটি সীমিত ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ডিভাইস থাকে। সেই ডিভাইসও ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারের মত ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিরাপত্তা সম্বলিত। শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডাটা থাকে সেটিতে। অন্য কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে তা সক্রিয় করা যাবে না।

ভোটদানের প্রক্রিয়া:
একটি ইভিএম মেশিনে সর্বোচ্চ ৩৫০ জন ভোটারের তথ্য সম্বলিত চিপ থাকে। প্রক্রিয়াটি এমন:
i) ভোট দেয়ার সময় ভোটারের তথ্য ইনপুট দিলে তার ছবি ও প্রাথমিক তথ্য ডিসপ্লেতে প্রদর্শিত হয়। পোলিং এজেন্ট ভোটদাতার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে এক্সেস দেন এবং এর সময়সীমা পাঁচ মিনিটের মতো। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাকে ভোট প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
ii) ভোটারকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইসে চাপ দিতে হবে। নির্দিষ্ট ৩৫০ জনের বাইরে কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট কাজ করবে না। ভোটার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইসে আঙ্গুল রাখলে ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচ হলে পোলিং ডিভাইসটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সক্রিয় হবে।
iii) উক্ত ডিভাইসে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকের পাশে পৃথক পৃথক বাটন থাকে। নির্বাচিত প্রার্থীর বাটনে চাপ দিলে স্ক্রিন জুড়ে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দেখাবে। এ সময় কনফার্ম বাটনে চাপ দিলে ভোট সম্পন্ন হবে
এবং ডিভাইস পরবর্তী ভোটার আসার আগ পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় থাকবে।

 নিরাপত্তা প্রসঙ্গঃ
১. আমাদের উদ্ভাবিত ইভিএম বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম যার গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা সকল বিচারে সর্বোত্তম বলে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার। ইভিএমে কোনো ওয়্যারলেস, ইন্টারনেট, রেডিও ওয়েভ, ব্লুটুথ বা ইনফ্রারেড ব্যবস্থা নেই যার মাধ্যমে অন্য কোনো ডিভাইস থেকে এক্সেস পাওয়া যাবে। অন্য কোনো নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র দিয়ে হ্যাক করার দাবি অবাস্তব ও অসম্ভব একটি ব্যাপার।

২. ইভিএমে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তার সমজাতীয় এ্যাপ্লিকেশন উন্নত বিশ্বের সকল দেশে রয়েছে। আমাদের দেশে যে সিনেপ্লেক্স হয়েছে তা ডিএসপি প্রযুক্তিতে চলে। এতে কোনো হলে, কোন দিন, কতটি শো চলবে তাও কনফিগার করে দেয় প্রযোজক প্রতিষ্ঠান। হল মালিক বা অপারেটররা চাইলেও বেশি শো প্রদর্শন, এমন কি শিডিউল সময়ের এক মিনিট আগেও তা সক্রিয় করতে পারবে না। ইভিএম মেশিনে এরচেয়ে অধিক নিরাপত্তা সংযোজিত ব্যবস্থা রয়েছে। ভোটের দিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উক্ত মেশিন সক্রিয় হবে। এছাড়া ভোট দান প্রক্রিয়ার একটি ধাপের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সক্রিয় হওয়া অন্য ধাপের উপর নির্ভরশীল।

 ইভিএম হ্যাকিংঃ

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে ইভিএম হ্যাকিং করে কারচুপির দৃষ্টান্ত দিয়েছেন ইভিএম বিরোধীরা। হ্যাকিং বিবেচ্য হলে ভোট বাক্স ছিনতাই বা ইচ্ছামতো সীল মারার কথা ভেবে কি ভোট বন্ধ করার কথা বলা যাবে? ব্যালট থেকে ভোট কাউন্টিং মেশিন নির্ভরযোগ্য বলেই ভারতে দলমত নির্বিশেষে সকল ভোটকেন্দ্র ক্রমান্বয়ে ইভিএমে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এছাড়া উন্নত দেশের উদাহরণ দেয়া অযৌক্তিক কারণ ভোট জালিয়াতির প্রবণতা সেসব দেশে ততটা নেই যতটা রয়েছে এ উপমহাদেশে। তারপরও ভারতের ইভিএমের সমালোচনা প্রসঙ্গে বলছি। হ্যাকিং করে ফলাফল পরিবর্তনের যে ডেমো দেখানো হয়েছে তাতে একটি পদ্ধতিতে উক্ত মেশিনে আগে থেকে ভোটের ফলাফল সংরক্ষণ করে এবং ডুপ্লিকেট একটি ডিসপ্লেতে ভিন্ন ফল প্রদর্শন করে হ্যাকের পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। আরেক পদ্ধতিতে ইমিএম মেশিন খুলে ইভিএমের অভ্যন্তরীণ একটি বাটনে চাপ দিয়ে ভোট বাড়ানোর উপায় দেখানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে একটি ইভিএম হ্যাকের জন্য যে প্রস্তুতি ও পরিবেশ প্রয়োজন সেই বিবেচনা করে এত শত ইভিএম মেশিনে ভোট জালিয়াতি করা কোনভাবেই বাস্তবসম্মত নয়, তাই অন্তত ব্যালটের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

বায়োমেট্রিক ইভিএম:
বাংলাদেশের ইভিএম প্রসঙ্গে যদি বলি তাহলে ভারতীয় ইভিএম কেন্দ্রিক সমালোচনা আর ক্যালকুলেটরের সমালোচনা করে কম্পিউটার ব্যবহারের বিরোধিতা সমপর্যায়ের অজ্ঞতা। ইভিএম সম্পর্কে না জানার কারণে এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় শ্রেণীর ইভিএমের যে হ্যাকের কথা বলা হচ্ছে তা হার্ডওয়্যার কেন্দ্রিক, অন্যদিকে আমাদের ইভিএম হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বিত প্রক্রিয়া। তবু ধরে নিচ্ছি কেন্দ্র দখল করা হয়েছে। কেন্দ্র দখল করার পর প্রথম ডিভাইস সক্রিয় করতে পোলিং অফিসারদের এবং ভোট দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট ৩৫০ জনের আঙ্গুল কোথায় পাবে দখলকারীরা?

তর্কের খাতিরে ধরে নিচ্ছি ভোট শেষ এখন ফলাফলের চিপটি কেউ নিয়ে গেল। চিপে থাকা তথ্য এনক্রিপ্ট করা থাকে। ডিক্রিপ্ট কোড কোথায় পাবে? পেলেও বা কি করতে পারবে? আবার ধরে নিচ্ছি সেরা প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে এটি হ্যাক করবে; কিন্তু এজন্য সময় প্রয়োজন, এ দীর্ঘসময়ে প্রার্থী ও তার লোকেরা কি করবে? এটাও সম্ভব হলে ইসির এনআইডি ডাটাবেইজের জন্য অফিশিয়াল সাপোর্ট ও এক্সেস প্রয়োজন হবে। কতজনকে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যাবে এবং কতজনকে তথ্য গোপন রাখতে বলা সম্ভব? এখানে চিপ নেয়া থেকে শুরু করে যতগুলো ধাপের কথা উল্লেখ করেছি তার একটি ধাপে উৎরে আসাই প্রায় অসম্ভব।

 সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রাণাধীন:
বিএনপি দাবি করে থাকে, সেনাবাহিনীকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে দেখতে চায়। ইভিএম উদ্ভাবন ও ডেভেলপ হয় মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে যা সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত। ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে সকল নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনী ও ইসির সমন্বিত। তার মানে দাঁড়ায়, এ কারচুপির জন্য সেনাবাহিনীকে যুক্ত করতে হবে। তাহলে একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর উপর চরম অনাস্থা প্রকাশ করে, বক্তৃতা বিবৃতিতে অংশগ্রহণের কথা বললে কোনটি বিবেচ্য হবে?

আমাদের দুর্ভাগ্য যে এদেশে বিএনপি জামাতের মত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রয়েছে যারা বরাবর তথ্যপ্রযুক্তি বিরোধী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের এমন একটি গৌরবময় উদ্ভাবনকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ভেস্তে যেতে দিবো, তা ভাবতেই কষ্ট হয়। এই উন্নয়ন বিরোধী গোষ্ঠী হয়তো জানেও না কতটি দেশে বাংলাদেশের মত স্মার্ট এনআইডি কার্ড আছে বা কারা আমাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়! ইভিএম প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দকে প্রচার করা হয়েছে ইভিএম আমদানির কথা উল্লেখ করে এরচেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে! এ ইভিএম শুধু ওয়ানটাইম ব্যবহারের জন্য নয়। আগামী স্থানীয় ও জাতীয় সকল নির্বাচন এর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। ইভিএমের কারণে নিকট ভবিষ্যতে কত টাকার সাশ্রয় হবে তা বোঝার ক্ষমতা হয়তো অবিবেচকদের নেই। আমরা যে উদ্ভাবন নিয়ে রপ্তানির স্বপ্ন দেখছি তাতে সম্ভাব্য ক্রেতা রাষ্ট্র নিজ দেশে বিরোধিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করলে সরকার কি জবাব দিবে জানি না। তবে অদূর ভবিষ্যতের পেপারলেস ডিজিটাল যুগে এই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর কথা নিশ্চয়ই ইতিহাস হয়ে থাকবে।