নীড় উন্নয়ন কর্ণফুলী নদীর তলদেশে পৌঁছে গেছে দেশের প্রথম টানেল

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে পৌঁছে গেছে দেশের প্রথম টানেল

পাশাপাশি দুটি সুড়ঙ্গ। ভেতরে ২ লেন করে ৪ লেনের সড়ক পথ মাটির তলে ঢুকে যাচ্ছে। সামনে কর্ণফুলী নদী। নদীর তলদেশ ছুঁয়ে ফেলেছে বাংলাদেশের প্রথম টানেল। প্রায় সাড়ে ১২শ মিটার পেরিয়ে এখন টানেলের খনন চলছে নদীর তলদেশে।

উপরে নদীর স্রোত আর স্রোতে ভেসে বেড়াচ্ছে ছোট-বড় নৌযান। দেখে বোঝার উপায় নেই, খরস্রোতা নদীর তলদেশে এফোঁড় ওফোঁড় করে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের একটি সড়ক পথ।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি, ২০২০) টানেল প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এমন অভিনব নির্মাণযজ্ঞ। নেভাল একাডেমির পাশ থেকে টানেল সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ। ২ সারিতে টানেল মাটির নিচে যেতে যেতে নদীর তলদেশ ভেদ করে অপরপ্রান্ত আনোয়ারার দিকে বের হবে।

প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ জানান, এ পর্যন্ত টিভিএম মেশিন ১২শ ৫০ মিটার খনন করে ফেলেছে। একইসঙ্গে টিভিএম মেশিন সেগমেন্ট বসিয়েছে প্রায় সাড়ে ৬শ। দিনে টিভিএম মেশিন নদীর তলদেশে ২ থেকে ৩ মিটার করে খুঁড়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, টিভিএম খনন করে যেমন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তেমনি পেছনের দিক দিয়ে সেগমেন্ট ঢুকে সুড়ঙ্গে পাকা দেয়াল হয়ে যাচ্ছে। টিভিএম মেশিনের পেছন থেকে কংক্রিটের সেগমেন্টগুলো একটি রেল ট্র্যাক দিয়ে ঢুকছে। তারপর ৮টি ভাগে ভাগ হয়ে রিঙ আকারে একটির সঙ্গে অন্যটি লেগে দেয়াল হয়ে যাচ্ছে। প্রতি ৮টি সেগমেন্টে ২ মিটারের একটি রিঙ তৈরি হয়। খনন আর পাকা দেয়াল নির্মাণ সবই হচ্ছে স্বয়ক্রিয়ভাবে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ।

বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (সিসিসি) জানায়, পুরো টানেল নির্মাণে ১৯ হাজার ৪ শত ৮৮টি সেগমেন্ট লাগবে। চীনের কারখানায় দিনে ৩২টি সেগমেন্ট তৈরি হচ্ছে।

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, নদীর তলদেশে ২টি টানেল টিউব নির্মিত হবে। এর একটি দিয়ে গাড়ি শহরপ্রান্ত থেকে প্রবেশ করবে। আরেকটি টিউব দিয়ে ওপাড় থেকে শহরের দিকে আসবে। টানেলের প্রতিটি টিউব চওড়ায় হবে ১০.৮ মিটার বা ৩৫ ফুট এবং উচ্চতায় হবে ৪.৮ মিটার বা প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউবে বসানো হবে ২টি স্কেল। এর ওপর দিয়ে ২ লেনে গাড়ি চলাচল করবে। পাশে হবে একটি সার্ভিস টিউব। মাঝে ফাঁকা থাকবে ১১ মিটার। যে কোনো বড় যানবাহন দ্রুত স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারবে টানেল দিয়ে।

বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প শেষে ২০২২ সাল থেকে টানেল দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে। চালুর প্রথম বছর ৬৩ লাখ গাড়ি নদীর তলদেশ দিয়ে চলাচল করবে। একসময় এই পরিমাণ ১ কোটি ৪০ লাখে গিয়ে ঠেকবে।

চালুর প্রথম বছরে চলাচলকারী গাড়ির প্রায় ৫১ শতাংশ হবে কন্টেইনার পরিবহনকারী ট্রেইলার এবং বিভিন্ন ধরনের ট্রাক ও ভ্যান। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ১৩ লাখ বাস ও মিনিবাস, আর ১২ লাখ কার, জিপ ও বিভিন্ন ছোট বড় গাড়ি।