কমিউনিটি ক্লিনিক

বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক সারাদেশে মা ও শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে ৩০টি মারাত্মক রোগের ওষুধও দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। সরকারের এই জনস্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জাতিসংঘ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংকসহ বহির্বিশ্বে বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন দেশে আবহমানকাল ধরে প্রচলিত ও অনুসৃত চিকিৎসা এবং ওষুধপত্রের ওপর, যার মধ্যে রয়েছে ভেষজ, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ও হোমিওপ্যাথি। তবে এসব চিকিৎসা পদ্ধতি অবশ্যই আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত হতে হবে। সেই সঙ্গে ওষুধ ও পথ্য হতে হবে মানসম্মত। একই সঙ্গে দেশে রোগ নির্ণয়সহ আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সর্বাধুনিক প্যাথল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিশ্বের স্বাস্থ্যকর দেশের তালিকায় ইতোমধ্যে উঠেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লেগাটাম ইনস্টিটিউটের দ্য লেগাটাম প্রসপারেটি ইনডেক্স-২০১৮ সালে প্রণীত তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান স্বাস্থ্যসূচীর ১০০ নম্বরে অবস্থান করলেও তা ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। বিশ্বের ১৪৯টি দেশ নিয়ে প্রকাশ করা হয় এই তালিকা। তালিকায় স্বাস্থ্যসূচকে ভারতের অবস্থান ১০৯ এবং পাকিস্তানের ১২২ নম্বরে। সর্বশীর্ষে অর্থাৎ এক নম্বরে অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর।

তবে দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে নাÑ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি এক স্বাধীন মূল্যায়নে এ রকম একটি মন্তব্য করেছে। এও বলেছে যে, গত কয়েক বছর ধরে রোগী ও সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যায় প্রায় স্থিতাবস্থা বিরাজ করছে। তবে এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মনে রাখতে হবে যে, দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে ইতোমধ্যে, ৭২ বছরের বেশি। মানুষের মাথাপিছু আয়সহ জীবনমান বেড়েছে। প্রায় সর্বস্তরের মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইপিআই কর্মসূচী তথা শিশুদের টিকাদান, মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সর্বোপরি বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনসহ খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছে। এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে বাংলাদেশ এখন এসডিজি বাস্তবায়নে অগ্রসরমান। এও সত্য যে, বর্তমানে এক হাজার ৪০০ কমিউনিটি ক্লিনিকে ১০ শতাংশ হেলথ প্রোভাইডারের পদ খালি রয়েছে। তবে এসব শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচীর পরিচালক। ৬ হাজার গ্রামীণ মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক করার কথা থাকলেও বর্তমানে আছে প্রায় ১৪ হাজার। যা প্রায় ১২ হাজার মানুষের জন্য উপযোগী। ২০২২ সালের মধ্যে আরও প্রায় এক হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে যাতায়াতসহ যানবাহনের অভাব, খারাপ রাস্তাঘাট, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান, ওষুধপত্রের অভাব, সামাজিক ও ধর্মীয় কিছু সংস্কারও রয়েছে। তবে সবচেয়ে যা আশার কথা তা হলো, কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণসহ বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ, গ্র্যাচুইটি ও অবসরভাতার বিষয়গুলো সরকার বিবেচনা করছে সক্রিয়ভাবে। খুব শীঘ্রই এসবের সমাধান হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও একটি সাফল্য উল্লেখ করার মতো। আর তা হলো খাবার স্যালাইন বা ওরস্যালাইন। সহজে প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সারা বিশ্বে শিশু ও বৃদ্ধদের অন্যতম একটি ঘাতক ব্যাধি হলো কলেরা ও ডায়রিয়া। বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবির উদ্ভাবিত খাবার স্যালাইন বিশ্বব্যাপী ডায়রিয়া ও কলেরা প্রতিরোধে যুগান্তকারী অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতিও মিলেছে। অথচ দেশে সরকারীভাবে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় খুব কম, জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ মাত্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাজেট বরাদ্দে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ হওয়া বাঞ্ছনীয়। সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।