গ্রিন স্বীকৃতি পেল ১০ পোশাক কারখানা : পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা বাড়ুক

বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার মান, কাজের পরিবেশ, শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল আমদানিকারক দেশগুলো। এমনকি তাজরীন ফ্যাশনস ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনা-পরবর্তী পোশাক আমদানিতে অনাগ্রহ প্রদর্শন করেন বিভিন্ন দেশের বায়াররা। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার গুণগত পরিবর্তন ও মানোন্নয়নের প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ যে সফল্য অর্জন করছে, তা এখন আর অস্বীকারের উপায় নেই। সম্প্রতি পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের আরো ১০টি পোশাক কারখানা। ফলে পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে বাংলাদেশে লিড প্লাটিনাম পোশাক কারখানার সংখ্যা দাঁড়াল ২৪, যা শিল্প দুর্ঘটনা-পরবর্তী বাংলাদেশের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে বিষয়টি দেশের অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক-অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক।

পরিবেশবান্ধব শিল্প-কারখানা হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়ায় বেশকিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। পর্যাপ্ত খোলা জায়গা, শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশের উন্নতীকরণ এবং উৎপাদনে সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার ইত্যাদি। ওই প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করে বাংলাদেশের কারখানা ও স্থাপনা পরিবেশবান্ধব সনদ লাভ করেছে। খাতটির মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে যত ধরনের প্রণোদনা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। তাছাড়া পরিবেশবান্ধব ইস্যুতে বাংলাদেশের এ ধারাবাহিক সাফল্য বহির্বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। এ সাফল্য পুঁজি করে বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে আমদানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনায় পারদর্শী হওয়া চাই। সবুজ পোশাক শিল্প স্থাপনে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। বাংলাদেশকে বর্তমানের চেয়ে বেশি হারে রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পোশাক খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বাজার ও পণ্যে বহুমুখীকরণের ওপর নজর দেয়া জরুরি। তাছাড়া পরিবেশবান্ধব কারখানার বিষয়টি তুলে ধরে দেশী-বিদেশী বায়ারকে মূল্য বেশি দিতে গুরুত্ব প্রদানের আহ্বান জানাতে হবে।

পরিবেশ উন্নয়ন মানবোন্নয়নের অন্যতম শর্ত। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এর গুরুত্ব বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতও বটে। আশার কথা, বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার পরও বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাতটি ক্রমে এগিয়ে চলছে। সবুজ পোশাক শিল্পে ইতালি, আয়ারল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া কিংবা ভারতকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। আমাদের প্রত্যাশা, অগ্রগতির ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি অর্জনে শ্রমিকদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি নতুন বাজার খোঁজার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অটোমেশনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযুক্তির মাধ্যমে পোশাক খাতকে আরো টেকসই করা সম্ভব।