বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার পূর্বাপর

– মোহাম্মদ জমির

আমাদের অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন গত তিন মাসে আলোচনা, সমালোচনা, প্রশংসা ও এক প্রকার অন্তর্দর্শনের মধ্য দিয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদরা সব বিষয় বেশ সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং একই সময়ে পর্যালোচনা করছেন, যাতে পুরো চিত্রটি বোঝা যায়। সরকারের শেষ সময়ে এসেও তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন যেসব বিষয়ে তারা সফল হতে পারেনি এবং আগামীতে তাদের যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে।

এ বিশ্লেষণমূলক আলোচনার শুরুটা হয় নিউইয়র্কভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ওয়েলথ-এক্স’-এর ওয়ার্ল্ড আলট্রা ওয়েলথ সমীক্ষাটি প্রকাশিত হওয়ার পরই। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এ সমীক্ষা। ২০১২-১৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশে অতিসম্পদশালী মানুষের হার দ্রুতবর্ধনশীল ছিল এবং অতিসম্পদশালী মানুষের প্রবৃদ্ধির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার উপরে। ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের দিক চেয়েও এ প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি, প্রায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ; যা এ তালিকায় অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি। এ তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের অন্তত ৩০ মিলিয়ন বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ আছে এবং বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পদ যেমন— ব্যক্তিগত বাসা, ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা, ভোগ্যপণ্যের মতো কিছুই অন্তর্ভুক্ত হবে না। এ সমীক্ষায় যে বিষয়টি আরো সামনে এসেছে তা হলো, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। যা একই সঙ্গে চীন, ভিয়েতনাম, কেনিয়া, ভারত, হংকং, আয়ারল্যান্ড, ইসরায়েল, পাকিস্তান এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকেও বেশি। এ সমীক্ষায় বিশ্বের ৯৮ শতাংশ জিডিপির অন্তর্ভুক্তি ছিল।

বাংলাদেশের অবস্থান এ সমীক্ষায় সর্বপ্রথম শুধু অতিধনী ব্যক্তির দ্রুতবর্ধনশীলতার দিক থেকেই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এদিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত তারা সর্বোচ্চ ধনকুবেরদের ভূমি। বিশ্বের প্রায় ৩১ শতাংশ ধনকুবের এখনো মার্কিন ভূমিতে বসবাস করেন, যা সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকরা সেক্ষেত্রে এ সমীক্ষা তৈরিতে ইকোনমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, যেখানে বিভিন্ন জাতীয় চলক যেমন— শেয়ারবাজার মূল্য, জিডিপি, ট্যাক্স, আয়ের মাত্রা, সঞ্চয়ের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। এসব তথ্য তারা বিশ্বব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (আইএমএফ), অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং জাতীয় পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষ থেকে সংগ্রহ করেছেন। এ সংস্থাগুলো আসলে এ সমীক্ষাকে আস্থাপূর্ণ করেছে। সেক্ষেত্রে হঠাৎ ধনী হয়েছেন এমন মানুষ কারা, সে চিত্র পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।

এ পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যে কেবল মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে তা নয়, পাশাপাশি উচ্চমধ্যবিত্ত একটি শ্রেণীর সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এর স্পষ্ট ছাপ আমরা দেখতে পাই। আমরা স্থানীয় বাজারে একটা বৈচিত্র্যময় পরিবর্তন খেয়াল করছি সর্বত্র। সেক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারে মার্কেটিংয়ের ঢঙ অনেকটা পাল্টে গেছে। আমরা এ বৈচিত্র্য অনুভব করছি যখন দেখছি ই-কমার্স সাইটগুলো বেশ সফলভাবে ব্যবসা করছে, মানুষ প্রচুর গাড়ি ও মোটরসাইকেল কিনছে, বিদেশ ভ্রমণ করছে নিয়মিত, পড়ালেখা করাতে অনেক মা-বাবা তাদের সন্তানকে বিদেশ পাঠাচ্ছেন, বিদেশে চিকিৎসা করতে অনেকেই যাচ্ছেন, জমির দাম বেড়েছে কয়েক গুণ, শহরে আবাসিক ফ্ল্যাটের বিক্রি বেড়েছে, পাশাপাশি আবাসিক ব্যবসার প্রসার ঘটেছে। এ বৈচিত্র্য কেবল শহরে নয়, গ্রামেও একইভাবে প্রভাব ফেলছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিষয়টি এখন কেবল যে যারা শ্রমিক হিসেবে দেশের বাইরে কাজ করছেন, তারাই ভূমিকা রাখছেন তা নয়; পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাত ও রফতানিকৃত চামড়াজাত পণ্য, পাট ও ওষুধ শিল্পও একই সঙ্গে ভূমিকা রাখছে। এটা অনেক বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির চিত্র, যা আমাদের জন্য ভালো। গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমদানিকৃত ফল বিক্রি হচ্ছে, এমনকি প্রোটিনের চাহিদা, বিশেষ করে ডিম, মাছ ও পোলট্রির চাহিদাও আমাদের অর্থনীতির উন্নয়নের একটি প্রতিফলন।

এখানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ সালের সমীক্ষার একটি অংশ তুলে ধরলে আরো স্পষ্ট হবে পুরো চিত্রটি। ওই সমীক্ষায় বলা ছিল, ২০১০-১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৫ শতাংশ মানুষের আয় বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। সমীক্ষায় তাদের গড় মাসিক আয় উল্লেখ ছিল ৮৮ হাজার ৯৪২ টাকা।

এ সমীক্ষা বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের একটা বিষয়ে বেশ উদ্বিগ্ন করে তুলছে। আর তা হলো, সমাজে বৈষম্যের মাত্রাটি অনেক বেশি বাড়ছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই, বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বেশ দ্রুত। বিশেষ করে উন্নত অবকাঠামো তৈরি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা থেকে শুরু করে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার মতো বিষয়ে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সফল হয়েছি এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি।

যদিও আমরা আমাদের ব্যাংকিং খাতে অনেক বেশি পিছিয়ে আছি। এতে আমাদের অর্থনীতিতে শঙ্কা বাড়ছে এবং একই সঙ্গে দেশের ভেতরে ও বাইরে নেতিবাচক ব্র্যান্ডিং করছে। এটা আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে বাধা প্রদান করছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর সংসদে অর্থমন্ত্রী যেভাবে ঋণখেলাপিদের পক্ষে কথা বলেছেন, তা অনেকেই সাদরে গ্রহণ করতে পারেননি। তার এ বক্তব্যে সরকারদলীয় অনেক সমর্থকও কষ্ট পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর ডাটাবেজের সমীক্ষার সূত্র ধরে অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, দেশে এ মুহূর্তে ঋণ খেলাপের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮, যার পরিমাণ টাকায় প্রায় ১ হাজার ৩১৬ বিলিয়ন। এ পরিমাণ টাকা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের এক-চতুর্থাংশ। মাননীয় মন্ত্রী একই দিন সংসদে প্রথম ১০০ জন খেলাপির তালিকা প্রকাশ করেন। এটাও উল্লেখ করা হয়, ৮৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ খেলাপ হয়েছে এবং খেলাপি আছে।

তালিকা অনুযায়ী সরকারি ব্যাংকে ঋণ খেলাপের পরিমাণটা উল্লেখ ছিল। সে অনুযায়ী সোনালী ব্যাংকে ঋণ খেলাপের পরিমাণ ১৮ হাজার ৬৬২ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকে ১৪ হাজার ৮৪০ দশমিক ২৭ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে ৯ হাজার ২৮৪ দশমিক ৪০ কোটি ও রূপালী ব্যাংকে ৪ হাজার ৯০১ দশমিক ২৯ কোটি টাকা। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে বেসিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ও প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডে ঋণ খেলাপের টাকার পরিমাণটা অনেক বেশি। এ সমীক্ষা থেকে দেশের অর্থ খাতের বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে অতিদ্রুততম সময়ে সুশাসন ফিরিয়ে আনা উচিত এবং সেটা করতে না  পারলে আমাদের ব্যাংকিং খাত আরো হুমকির মুখে পড়বে।

সাম্প্রতিক অতীতে আমরা দেখেছি প্রসঙ্গত কারণে দেশের প্রথম সারির কিছু শিল্পপতি ও উদ্যোক্তার নাম সামনে এসেছিল, যারা নিয়মিত ট্যাক্স ফাঁকি দেন; ভুয়া রফতানির কাগজ দাখিল করে অর্থ পাচার করেছেন। সামাজিক ও অর্থনীতি খাতে দুর্নীতি, বিশেষ করে সরকারি খাতে যা আরো বেশি বলে লক্ষ করা গেছে। সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেষ্টা ছিল ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ করা, কিন্তু তাতে খুব বেশি লাভ হয়নি।

যেদিন ওয়ার্ল্ড আলট্রা ওয়েলথ সমীক্ষাটি প্রকাশিত হলো, সেদিন অনেক সমালোচক মুখে হাসি নিয়ে বলেছেন, আমরা এ অনিয়মগুলো নিয়েই বারবার বলেছি, যেখানে ভুল হচ্ছে। এ সরকারের অনেক বড় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সত্ত্বেও তাদের সুশাসন এ সমীক্ষা প্রকাশের পর প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থার অনিয়ম ও ঋণ খেলাপ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে সব অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয়ার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন এবং সমীক্ষার সঙ্গে তা সম্পৃক্ত করেছেন।

এর পর থেকে নানা রকম সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তা অর্জনে বর্তমান প্রতিকূলতা ও উত্তরণে করণীয় নিয়ে। গত কয়েক বছরে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য বেড়েছে একাধারে সুশাসন ও দায়িত্বহীনতার কারণে, যা বারবার উঠে এসেছে বিভিন্ন সমীক্ষায়। একই সঙ্গে ব্যাংকের ঋণ খেলাপের মাত্রা যেভাবে বাড়ছে, সেটাও পরিবর্তিত অর্থনৈতিক দৃশ্যপটের একটি নেতিবাচক দিক।

এ পরিপ্রেক্ষিতে অনেক বিশেষজ্ঞ একটি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। আর তা হলো, যদি সরকার এ দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে পুনরায় এ রকম অনিয়ম হতেই থাকবে এবং তারা করতে উদ্বুদ্ধ হবেন। সেক্ষেত্রে যারা ঋণ খেলাপের সঙ্গে জড়িত এবং দেশের বাইরে অবৈধভাবে অর্থ পাচার করেছেন, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারিক প্রক্রিয়ার সম্মুখীন করা উচিত। জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে তা দ্রুত করা উচিত। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের লিড অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, এ হঠাৎ ধনসম্পদের মালিকরা কেউ দেশের ধারাবাহিক টেকসই উন্নয়নের ধারায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে সম্পদশালী হননি; বরং তারা এ অর্থনীতির ভেতরে থেকে উন্নয়নের ধারাকে বিলম্বিত করছেন। তিনি আরো বলছেন, যদি একটা শ্রেণীর এভাবে দুর্নীতি, একতরফা ব্যবসা ও মানুষ ঠকিয়ে অর্থ আয়ের মনোভাব থাকে, তাহলে তা একটা সময় জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করবে। কাউকে না কাউকে এ বিষয়ে একমত হতেই হবে।

তবু আমাদের কিছু বিষয়ে কথা বলতেই হবে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটা সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, যা এ অঞ্চলে একটি বৈষম্যহীন বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। এ মুহূর্তে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি অনেক কম উচ্চ শুল্কহারের কারণে। সঠিক তদারকিতে আমরা এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হব।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ম্যাট্রিক্সকে সঠিকভাবে না সাজিয়ে যদি মন্তব্য করা হয় যে গ্লাসটি অর্ধেক ফাঁকা, তাহলে তা সঠিক মূল্যায়ন করা হবে না।

বিশ্বব্যাংক হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্স গত ১১ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গড় ও নিম্নমধ্যম আয়ের সব মানদণ্ডে এগিয়ে, শুধু শিশুদের উন্নয়ন মানদণ্ডে পিছিয়ে আছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলংকা প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ১৫৭ দেশকে নিয়ে তালিকাটি করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্স আজকে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, তার উৎপাদনশীলতার সঙ্গে এক বছর পর জন্মগ্রহণ করলে তার উৎপাদনশীলতা কী হতে পারে, সে ব্যাপারেও একটা ধারণা প্রদান করে। এ অবস্থায় মানসম্পন্ন সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য নিশ্চিতকরণের বিষয়ে বলা হয়েছে, একাধারে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আর এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে আমরা অমিয় সম্ভাবনার পুরোটাই অর্জন করতে পারব। আমরা সম্ভাবনার দিক থেকে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছি, কিন্তু তা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের কারিগরি শিক্ষার দিকে নজর দিতে হবে। উৎপাদনশীলতা ও দারিদ্র্য বিমোচনের দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা ও নারীর ক্ষমতায়ন অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। এ বিষয়গুলো ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে বিদেশী বিনিয়োগ সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে। এসব বিষয় প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং একই সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং করবে।

আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে দেশের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা সৃষ্টি করা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দেশের জনগণের ক্ষতি করে। রাজনীতিবিদদের মনে রাখতে হবে, এ জনগণের কাছেই তাদের দিন শেষে ভোট চাইতে যেতে হবে। জনগণের কল্যাণচিন্তা সবসময় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগে আসতে হবে। আমরা গত এক দশকে অনেকটা পথ এগিয়ে এসেছি। এ মুহূর্তে এসে আমাদের বিভ্রান্ত হলে হবে না। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আসুন সবাই একসঙ্গে কাজ করি।

লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত

সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার

Views: 140