হাঁস পালনে ভাগ্য ফিরল শহিদুলের

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বিলের খোলা জলাশয়ে হাঁস পালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন শহিদুল ইসলাম। অভাবের সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। তার এ সফলতা দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক বর্তমানে হাঁস পালন শুরু করেছে। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতা পেলে আরো বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন শহিদুল।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা সদর থেকে পশ্চিমে ৪ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে একটু উত্তরদিকে তাকালেই দেখা যাবে বিশাল আকারের বিস্তীর্ণ রসুলপুরের মাঠ। উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের এ মাঠ এখন হাঁসের খামারে পরিণত হয়েছে। তাদের মধ্যে শহিদুল ইসলামের হাঁসের খামার সবার দৃষ্টি কেড়েছে। বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা ৫০০-৬০০। হাঁসচাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, অভাবের সংসারে অর্থের অভাবে ভালো কিছু করতে পারিনি। অনেক ভেবেচিন্তে হাঁসের খামার করার পরিকল্পনা করি। উপজেলার মাধাইমুড়ি এলাকায় খোলা জলাশয়ে বিলের মধ্যে হাঁস পালন করা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আহসানগঞ্জহাট থেকে মাত্র ৫০টি হাঁস কিনে শুরু করি হাঁস পালনের যুদ্ধ। এরপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছি হাঁসের হ্যাচারি। নিজের হ্যাচারিতে এখন তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করছি। তিনি জানান, বিলে বা নদীর তীরে হাঁসের খামার গড়ে তুলতে তেমন খরচের প্রয়োজন পড়ে না। অল্প খরচে লাভও হয় দ্বিগুণ। খোলা বিলে একটি হাঁসের জন্য খরচ হয় ৪০-৫০ টাকা। চার থেকে পাঁচ মাস পর হাঁস ডিম দিতে শুরু করে। ক্যাম্বেল জাতের প্রতিটি হাঁস ২৫০-২৮০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম দেওয়া একেবারে কমে গেলে সেই হাঁস বিক্রি করে দেওয়া হয়। তা থেকে লাভ হয় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। শহিদুলের হাঁস পালনের সফলতা দেখে পার্শ্ববর্তী আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষপাড়া গ্রামের অনেক বেকার যুবক গড়ে তুলেছে বিলের বাঁধে হাঁসের খামার।

আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষপাড়া গ্রামের হাঁস পালনকারী ফারুক আহম্মেদ জানান, লেখাপড়া শিখে চাকরির আশায় বসে না থেকে অল্প খরচে হাঁসের খামার গড়ে তুলে সহজেই স্বনির্ভর হওয়া যায়। তার মতে, লেখাপড়ার পাশাপাশি হাঁস পালন করাটা কোনো কষ্টের নয়। একই গ্রামের শাহাদ আলী ও মজিদ জানান, ‘আমরা বর্তমানে হাঁস পালন করে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক সুখে আছি। স্বল্প খরচে হাঁস পালন করে লাভবান হওয়া সম্ভব।’ এদিকে উপজেলার সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হাঁসের খামার করে স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের ভাগ্যবদল করতে পারবে অনেক বেকার।