চৌগাছায় মাচায় পটল চাষ করে কৃষক লাভবান

যশোরের চৌগাছায় মাচায় পটল চাষ করে সাফল্য পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা। পটল মাচায় চাষ করার পাশাপাশি তা পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন ধরনের ফাদ পেতে তাতেও সাফল্য মিলছে। কৃষকরা কৃষি কাজে নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করায় এই সাফল্য বলে অনেকে মনে করছেন। উপজেলার বিস্তৃর্ণ মাঠে চলতি মৌসুমে চাষ করা হয়েছে পটল। অধিকাংশ পটলই মাচার চাষ করা হয়েছে। বর্তমান বাজার দর ভাল থাকায় কৃষক বেশ লাভবান হবেন বলে মনে করছেন। তবে এ সকল চাষিদের আরও বেশি বেশি প্রশিক্ষনের আওতায় আনা দরকার বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সূত্র জানায়, কৃষি প্রধান উপজেলা হিসাবে পরিচিত যশোরের চৌগাছা। প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাস এ জনপদের শতকরা আশি শতাংশ মানুষই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কৃষি কাজের সাথে জড়িত। বছরের পুরো সময়ে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকার অধিকাংশ মাঠে নানা ধরনের সবজি চাষ করা হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে চাষকৃত ফসল থেকে কৃষক বরাবরই লাভবান হন। চলতি মৌসুমে সব ধরনের সবজির পাশাপাশি ব্যাপক ভাবে পটল চাষ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এমন এক সময় ছিল এ জনপদের কৃষক মাটিতে পটল চাষ করেছেন। আধুনিকতার ছোয়ায় তাদের সেই পুরানো দিনের চাষ পদ্ধতিও পাল্টাতে শুরু করেছেন। বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি গ্রামা লের কৃষক মাটির পরিবর্তে মাচায় (বানে) পটল চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। তাই দিন দিন এই চাষ পদ্ধতি সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭শ হেক্টর জমিতে পটল চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া এখনও কৃষকের অনুকুলে, তাই কৃষক এই ফসলে লাভবান হবেন বলে অনেকে মনে করছেন। এক সময় সমতল ভুমির মাটিতে পটল চাষ করা হলেও বর্তমান সময়ে তা নিচু জলাবদ্ধ জমিতেও ব্যাপক ভাবে চাষ করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছেন। পটল চাষি উপজেলার হাজরাখানা গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১৫ কাটা জমিতে পটল চাষ করেছেন। বাজার দর ভাল থাকায় তিনি লাভের আশা করছেন। মাচায় চাষ পদ্ধতি অনেক ব্যয় বহুল বলে তিনি জানান। কারন মাচায় চাষ করতে হলে অতিরিক্ত খরচ হয় বাঁশ, তার, সুতা, পাটখড়ি ইত্যাদি। কিন্তু মাটিতে চাষ করলে এ সব কোন কিছ্ইু লাগেনা। তবে মাটির চাষ থেকে মাচায় চাষ করলে ফলন বেশি হয় বলে তিনি জানান। প্রতি বাংলা সনের আষাঢ়, শ্রাবন ও ভাদ্র মাস এই তিন মাসের মধ্যে পটলের লতি মাটিতে রোপন করতে হয়। চারা বের হওয়ার পর পরই পরিচর্জা শুরু, এরপরই মাচা তৈরী করে প্রতিটি চারা ওই মাচায় তোলার ব্যবস্থা করা হয়। চারা বের হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসা শুরু করে। কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, গত ২/৩ বছর ধরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকের মাঝে সেক্্র ফেরোমন ফাঁদ বিতারণ করা হচ্ছে। এই ফাঁদ ফসলকে পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা করে। সেক্্র ফেরোমন ফাঁদের কারনে ফসলের উৎপাদনও বেড়ে যায় বলে তিনি জানান। কৃষক সাইফুলের মত ওই মাঠে মোস্তফা ১০ কাটা, জালাল ১৩ কাটা, আনোয়ার ১২ কাটা, গোলঅম মোস্তফা ৩ বিঘা, সোহেল রানা ৫ বিঘা, আব্দুল আলিম ১ বিঘা, আজিজুর রহমান ২ বিঘা, আব্দুল মজিদ ১ বিঘা জমিতে পটল চাষ করেছেন। সমতল ভ‚মির পাশাপাশি নিচু জলাবদ্ধ জমিতেও মাচায় চাষ হচ্ছে পটলের। ব্যতিক্রমধর্মী এই চাষ পদ্ধতিতে উপজেলার ফুলসারা, সিংহঝুলী ,জগন্নাথপুর, আড়াদাহ, সলুয়া, আফরা, জামলতা, রানিয়ালীসহ অধিকাংশ গ্রামের কৃষকরা ব্যাপক সাফল্য পেতে শুরু করেছেন। নতুন নতুন উদ্ভাবনে কৃষককে বেশি বেশি সহযোগীতা প্রদান করা জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচউদ্দিন বলেন, কৃষকের সব ধরনের ফসল ফলাতে কৃষি অফিস যথাযথ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষেতের ফসলের যাতে কোন ক্ষতি না হয় তার জন্য প্রতিটি এলাকায় সুপারভাইজারর নিয়মিত কৃষকের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।