সুবর্ণচরে লবণাক্ত জমিতে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় অনাবাদি লবণাক্ত পতিত জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে সূর্যমুখী। এতে স্বল্প খরচে বাম্পার ফলনে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।২০১৫ সাল এ অঞ্চলে ১৫ একর অনাবাদি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ শুরু হয়। এ বছর আবাদ হয়েছে ৫১৫ জমিতে। লাভ হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। এ এলকায় সূর্যমুখী চাষ দিন দিন বাড়ছে। সরকারি প্রণোদনা পেলে এ অঞ্চলে সূর্যমুখী চাষে বিপ্লব ঘটবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার আমান উল্যাপুর ইউনিয়নে সূর্যমুখীর হলুদের আভায় ছেয়ে আছে মাঠের পর মাঠ। যেদিকে চোখ যায়, শুধু হলুদের ছড়াছড়ি। এ যেন চোখজুড়ানো মনোমুগ্ধকর এক অপরূপ সৌন্দর্য। রাস্তার দুপাশের মাঠের দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায় ভোজ্য ফসল সূর্যমুখীর বাহারি শোভায়। ফুলের মাঠে মৌমাছি, পাখির আনাগোনাও দেখা গেছে বেশ। কখনো উষ্ণ আবার কখনো নির্মল বাতাসে দোল খাওয়া সূর্যমুখীর হাসিও সবার নজর কাড়ে। গত বছরের চেয়ে এ বছর সূবর্ণচর উপজেলায় বাম্পার ফলন হয়েছে।কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৫১৫ একর অনাবাদি পতিত জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ বছর পতিত ২১৫ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করে গ্লোব কৃষি খামার। বাকি ৩০০ একর জমি আবাদ করেছেন অন্যান্য কৃষক। এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষে খরচ হচ্ছে ১০-১২ হাজার টাকা। এক একরে সূর্যমুখী থেকে আয় হচ্ছে ২০-২২ হাজার টাকা।গ্লোব কৃষি খামারের তত্ত্বাবধায়ক রাজু জানান, এ বছর অনাবাদি জমিতে ২১৫ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়। সেচ সংকট না হলে ফলন আরও ভালো হতো। কৃষক জামাল বলেন, আমি এ বছর ২০ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। সেচ সংকটের করণে চাষে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।তিনি আরও জানান, সরকার যদি নলকূপ স্থাপন করে সেচ সমস্যা সমাধান করে, তা হলে আরও ভালো ফলন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আবুল হোসেন জানান, লবণাক্ত জমিতে অল্প পরিশ্রম ও খরচে ভালো ফলন পাওয়ায়। এতে আগ্রহ বেড়েছে অনেকের। তাই এবার স্থানীয় অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। রবি মৌসুমে চরের পতিত অনাবাদি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ বাড়াতে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের গ্লোবের উদ্যোগে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে।