কৃষকদের আবাসনে প্রথমবারের মতো ঋণ দিতে যাচ্ছে বিএইচবিএফসি

দেশের আবাদি জমি রক্ষা ও কৃষকদের মানোন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশে এই প্রথম তাদের জন্য আবাসন ঋণ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)। এ ব্যাপারে সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী অর্থবছরের যেকোনো দিন এই ঘোষণা আসতে পারে। পেরি আরবান, উপজেলা সদর এবং তৎসংলগ্ন গ্রোথ সেন্টার এলাকায় বাড়ি নির্মাণে কৃষকদের জন্য ৮ শতাংশ সরল সুদে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত একক ও গ্রুপ পর্যায়ে ঋণ দিতে সরকারের অনুমোদনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে। এ ঋণ প্রকল্পের আওতায় ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিইপি) ইতিমধ্যে প্রায় ৯শ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ মঞ্জুর করেছে।

এই সংক্রান্ত বিএইচবিএফসির খসড়া প্রসúেক্টাসে বলা হয়েছে, দেশের উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সরকারের রূপ প্রকল্প ২০২১-২০৪১ এর আওতায় দেশের অগ্রগতির চালিকাশক্তি গ্রামাঞ্চলের কৃষকের জীবন মানোন্নয়ন ও বৃদ্ধির লক্ষে কৃষক আবাসন ঋণ চালু করা হচ্ছে। যারা নিজ জমিতে অথবা লিজকৃত জমিতে বা কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন তারা এই ঋণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে এ ক্ষেত্রে অত্র এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং এক খ- জমি থাকতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। এ ঋণ হবে ৫, ১০, ১৫, ২০ ও ২৫ বছর মেয়াদি। কর্পোরেশনের ঋণ ও ঋণ গ্রহিতাদের নিজস্ব বিনিয়োগের অনুপাত হবে ৮০ ও ২০।

বিএইচবিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী দৈনিক আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের তৃণমূল কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের যুগান্তরকারী ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। আমরা জুন মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক মঞ্জুরকৃত প্রায় ৯শ কোটি টাকা ছাড় পেয়ে যেতে পারি।  এ লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের সামগ্রিক কাজ সম্পাদনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বুয়েটকে ঋণের প্ল্যান মডেল তৈরির জন্য দেয়া হয়েছে। সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে এই ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো অবকাঠামো বর্তমানে হাউজ বিল্ডিংয়ে নেই। সেজন্য লোকবল ও শাখা অফিসের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। আগে আমাদের জোনাল ও রিজোনাল অফিসসহ শাখা ছিল মোট ২৯টি। আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমানে শাখার পরিমাণ বাড়িয়ে ৮৪টি করা হয়েছে। জুন মাসের মধ্যে আমরা আরো ৪০টি শাখা অফিস খোলার কাজ সম্পন্ন করতে চাচ্ছি। আমি মনে করি, সকল অবকাঠামো গত সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে আগামী অর্থবছরের যেকোনো সময় এই গুরুত্বপূর্ণ ঋণ প্রকল্পটি নিয়ে আমরা মাঠে নামতে পারব। সম্পাদনা : হাসিবুল ফারুক চৌধুরী