বাঙ্গালী নদীর বুকে হরেক রকম ফসলের চাষ

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা খরস্রোতা বাঙ্গালী নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এক সময় পাল তোলা নৌকা চলাচল করলেও এখন হেঁটে নদী পার হওয়া যাচ্ছে। নদীর বুকে চাষ হচ্ছে হরেক রকম ফসল। খরস্রোতা বাঙ্গালী নদী দিনাজপুর জেলা থেকে উত্পত্তি হয়ে গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়।

 

সারিয়াকান্দি বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী আলহাজ হবিবর রহমান প্রামাণিক বলেন, স্বাধীনতার পরেও বাঙ্গালী নদীতে পালতোলা নৌকায় বেপারীরা মালামাল পরিবহন করত। দিনাজপুর থেকে ধান চাল এবং পাবনার নাকালী বেড়া থেকে মাটির হাঁড়ি পাতিলসহ বিভিন্ন মালামাল নৌকাযোগে সারিয়াকান্দি বন্দরে আনা হতো। লোকজনের নদী পারাপারের জন্য বিভিন্ন স্থানে খেয়া ঘাট ছিল। নদীর দুই পাড়ে গ্রামের জেলেরা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। প্রতি বছর নদীর দুই পাড়ের মানুষের আনন্দ বিনোদনের জন্য নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হতো।

 

পাট ব্যবসায়ী জামাল তরফদার জানান, বাঙ্গালী নদীতে আগে নৌকায় করে গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ থেকে পাট কিনে সারিয়াকান্দি বন্দর হয়ে সরিষাবাড়ী নিয়ে যেতাম। এখন সেই নদীতে ধানসহ হরেক রকম ফসলের চাষ হচ্ছে। নদীটি খনন করে নাব্য ফিরে আনতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, বাঙ্গালী নদী খনন করে নাব্য ফিরে আনতে একটি প্রকল্প পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই নদী খননের কাজ শুরু হবে।