নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনে এগিয়েছে বাংলাদেশ

রোববার ‘ফুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সেফটি ইন কমার্শিয়াল পোল্ট্রি প্রোডাকশন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সেমিনারের শেষ দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে দেশের খ্যাতনামা পোল্ট্রি, পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য বিশেষজ্ঞ ছাড়াও বেলজিয়াম, জার্মানি ও ভারতের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

শেষ দিনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর প্রেসিডেন্ট মসিউর রহমান।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য একে অন্যের পরিপূরক। যেকোনো মূল্যে খাদ্যকে নিরাপদ রাখতে হবে।

 

তিনি বলেন, আমাদের দেশে মুরগির মাংসের বেশিরভাগ এবং ডিমের প্রায় পুরোটাই আসে পোল্ট্রি থেকে। এ শিল্পের সাথে অসংখ্য খামারি জড়িত, তাই তারা যেন টিকে থাকতে পারে সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।

কয়েকটি কোম্পানি সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এন্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটার (এজিপি) আমদানি করছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, যারাই আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওয়াপসা-বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, প্রতিদিন জনসংখ্যা বাড়ছে অথচ কমছে আবাদি জমি। তাই মানুষের জন্য খাদ্যের সংস্থান করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে শুধু খাদ্যের সংস্থান করাটাই যথেষ্ঠ নয়, বরং তার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে এন্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটার (এজিপি) মুক্ত পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে। বিশ্বের সর্বাধিক পোল্ট্রি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, চীন এজিপি’র ব্যবহার বন্ধ করতে না পারলেও বাংলাদেশ সরকার তা পেরেছে। বর্তমান বাজারে পোল্ট্রিই হচ্ছে সবচেয়ে সস্তার প্রাণিজ আমিষ। এসডিজিতে যে ১৭টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে ১৪টি লক্ষ্য অর্জনে কোনো না কোনোভাবে পোল্ট্রি শিল্পের অবদান রয়েছে।

অর্থনীতিতে পোল্ট্রি শিল্পের অবদান বোঝাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন- যুক্তরাষ্ট্রে চিকেন ইন্ডাস্ট্রি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৭৪৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। মজুরি হিসেবে প্রদান করে থাকে ৬৮.৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার। মোট বার্ষিক ইকোনমিক ইম্প্যাক্ট প্রায় ৩.১৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পোল্ট্রি খাত উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে মোট প্রায় ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গ্রামীণ পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। গ্রাম থেকে শহরের মাইগ্রেশন কমাতে সহায়ক হয়েছে। তাছাড়া পোল্ট্রি পালন হাউসহোল্ড ইনকাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. আইনুল হক বলেন, প্রাণিজ আমিষকে নিরাপদ রাখতে আমরা ফুড সেফটি অথরিটি, ইনস্টিটিউট অব পাললিক হেলথ এবং এফএওর সাথে যৌথভাবে কাজ করছি। খামারিদের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সচেতনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।