১৩ লাখ ৬৬ হাজার কেজি চা সরবরাহের সম্ভাবনা

প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর আগামীকাল শুরু হচ্ছে চায়ের ২০১৮-১৯ নিলাম বর্ষ। নতুন মৌসুমের প্রথম আন্তর্জাতিক নিলামে আগের বছরের একই নিলামের তুলনায় ৪১ হাজার কেজি অতিরিক্ত চা সরবরাহ করা হবে। মৌসুমের প্রথম নিলাম হওয়ায় প্রস্তাবিত চা কিনতে ক্রেতারা আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল সময়ে চট্টগ্রামে চায়ের আন্তর্জাতিক নিলাম বন্ধ থাকে। সেই হিসাবে গত ১৩ মার্চ আগের মৌসুমের সর্বশেষ নিলাম (৪৪তম) অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়টা বাগান পরিচর্যার কাজে ব্যয় করা হয়। এরই মধ্যে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন মৌসুমের প্রথম নিলামে ভালো মানের চা সরবরাহ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ নিলাম মৌসুমের প্রথম নিলামে সব মিলিয়ে ২৪ হাজার ৮৪৩ প্যাকেটে ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৫ কেজি চা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করা হবে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫৭ প্যাকেট দানাদার ও ৩ হাজার ৭৮৬ প্যাকেট গুঁড়ো চা। যদিও এর আগের বছরের প্রথম নিলামে ২৪ হাজার ৯৭ প্যাকেটে (দানাদার ও গুঁড়ো) মোট ১৩ লাখ ২২ হাজার ৩৫৬ কেজি বিক্রির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। ওই নিলামে প্রস্তাবিত চায়ের ৮০ শতাংশ বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত হওয়ায় প্রথম নিলামেই আগের বছরের একই নিলামের তুলনায় ৭৪৬ প্যাকেট বা ৪৪ হাজার কেজি বেশি চা নিলামে তোলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিটিটিএর সাবেক সহসভাপতি আবদুল হাই বণিক বার্তাকে বলেন, চায়ের জন্য সবচেয়ে ভালো আবহাওয়া হচ্ছে রাতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। মৌসুম শুরুর আগে দেশের চা উৎপাদন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। ফলে বাগান থেকেও ভালো মানের চা সরবরাহ বাড়িয়েছেন বাগান মালিকরা। আশানুরূপ বৃষ্টি হলে বিগত বছরের উৎপাদিত চায়ের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশের ১৬২টি বাগান থেকে সব মিলিয়ে ৭ কোটি ৮০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। এর আগের বছরে দেশে পণ্যটির উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৮ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার কেজি। মূলত বৈরী আবহাওয়ার জের ধরে গত বছর দেশের বাগানগুলোয় চা উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক নিলামে পণ্যটির সরবরাহও ছিল তুলনামূলক কম। চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে দেশে চা উৎপাদন আগের বছরের পরিমাণকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে বর্তমান বাজেটে চা আমদানিতে ট্যারিফ মূল্য ২ ডলার ৫০ সেন্ট ও সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশ করা করা হয়েছে। আগামী বাজেটে শুল্ক কমানো না হলে আমদানি কমে দেশে উৎপাদিত চায়ের বাজার আরো বাড়বে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।