উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে চলা বাংলাদেশ

আগামী ৪ মে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উেক্ষপণ করা হবে মহাকাশে। ঢাকায় মেট্রোরেলের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে আগামী বছর। পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আমাদের মাথাপিছু আয় ১৭৫২ ডলার ও প্রবৃদ্ধি ৭.৬৫%। এমতাবস্থায় গত ১৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা শোনা গেল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিনের করা বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তিত্বের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টাইম ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া বাবার উত্তরাধিকার বয়ে চলা হাসিনা কখনও সংগ্রামকে ভয় পান না। তাই যখন গত বছর আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা থেকে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আসতে শুরু করে, তিনি এই মানবিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। অর্থাত্ এর আগে বাংলাদেশ এভাবে শরণার্থীদের ঠাঁই না দিলেও ‘জাতিগত নিধনে’র শিকার রোহিঙ্গাদের থেকে শেখ হাসিনা মুখ ফিরিয়ে নেননি। মূলত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে।

 

শেখ হাসিনা তাঁর নিজের লেখায় ও কাজে প্রমাণ করেছেন যে, রাজনীতির অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন। এজন্য তাঁর সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ ব্যাপক। ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় আমরা দেখতে পেয়েছি অসাধারণ উপস্থাপনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তাদের সাফল্যগুলো নিরন্তর কয়েকটি টিভি চ্যানেলে প্রচার করেছে। সেখানে তথ্যাদির নিরিখে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচার করা হয়। আর তা যে সম্পন্ন হয়েছে এটা জনগণের কাছে আজ স্পষ্ট। না হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া কিংবা কোনো ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য পরিবেশিত হলে তার সমালোচনা করা কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি কেন? মহাজোট সরকারের আমলে সমুদ্র সীমানা সংক্রান্ত মামলায় মিয়ানমার ও ভারতের কাছে জয়ী হওয়ায় বিশাল সমুদ্র অঞ্চল প্রাপ্তি; জোট সরকারের চেয়ে মহাজোট সরকারের আমলে অতিরিক্ত বিদ্যুত্ উত্পন্ন হওয়া, মেয়র হানিফ ও খিলগাঁও ফ্লাইওভার এবং কুড়িল উড়াল সড়ক তৈরি হওয়া, সেনাবাহিনীর জন্য মেকানাইজ্ড ব্রিগেড ও ব্যাটালিয়ন গঠন করা, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়া সবই হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের সদিচ্ছায়। বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের একে একে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা শতগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছিটমহল সমস্যার সমাধানও বর্তমান সরকারের বড় অর্জন।

 

আসলে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দেখলেই বোঝা যায়, দেশের মধ্যে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। প্রশস্ত ও মজবুত করা হচ্ছে মহাসড়কগুলো। এতে সড়ক নেটওয়ার্কের পাশাপাশি মান উন্নয়নের মধ্য দিয়ে নিরাপদ, আরামদায়ক, সময় এবং খরচ সাশ্রয়ী ভ্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে। রেল নেটওয়ার্কের কাজও এগিয়ে চলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নতি হলে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বদল ঘটবে। মহাসড়ক বা রেল ব্যবহার করে বেশকিছু এলাকার বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য খুব সহজেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। আর মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। যারা একসময় ভাবতে শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ দলটি ব্যর্থ, কোনোকিছু গোছাতে পারছে না, তারা এখন বলতে শুরু করেছে সাহসী দল হিসেবে এবং নির্ভীক নেতা রূপে শেখ হাসিনাই এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম। আওয়ামী লীগ এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশকে বিশ্বসভার মধ্যমণিতে আসীন করার জন্য। সফল বাংলাদেশ দেখতে হলে আওয়ামী লীগ সরকার ও শেখ হাসিনার মহিমাকেই সবার ওপরে স্থান দিতে হবে।

 

দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কিছু নীতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থান আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। যেমন, বিশ্বব্যাংক নামক সংস্থাটিকে তোয়াক্কা না করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করা, বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা অন্যতম। আবার কেউ বা কোনো রাষ্ট্র সাহায্য করবে কি-না তা না ভেবে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া। এদেশের মানুষ শেখ হাসিনার এ ধরনের বলিষ্ঠ নীতিই পছন্দ করেন। অনেকে এর ভবিষ্যত্ পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও আমরা মনে করি, দেশের মানুষ যেটা চান তা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় ভয়ের কিছু নেই। বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে দেশের মর্যাদা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে কঠোর থাকলে এবং প্রশাসনের সব জায়গায় দুর্নীতি দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলে উন্নয়নশীল দেশের তকমাও দ্রুত অপসারিত হবে। আমরা অচিরেই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবো।