রাউজানে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃৃষকরা

প্রযুক্তির ছোঁয়া বদলে দিয়েছে কৃষি খাতকে। যে লাঙ্গল-জোয়াল আর ‘হালের বলদ’ ছিল কৃষকের চাষাবাদের প্রধান উপকরণ সে জায়গা এখন দখল করে নিয়েছে ‘কলের লাঙ্গল’ ট্রাক্টর (জমি চাষের যন্ত্র)। সেদিন খুব দূরে নয়, যেদিন লাঙ্গল দেখতে যেতে হবে জাদুঘরে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষাবাদের কারণে একদিকে যেমন সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে তেমনি ফসলের উৎপাদনও বেড়েছে। ফলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। কেবল জমি চাষই নয়, জমিতে নিড়ানি, সার দেয়া, কীটনাশক ছিটানো, ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো ও ধান থেকে চাল- সবই আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে।
রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করছেন কৃৃষকরা। ফসলি জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষকরা। সকাল থেকে সারাদিন ফসলি জমিতে বোরা ধানের চারা বীজতলা থেকে তুলে রোপণ করছেন। এলাকার কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপণ করার জন্য দৈনিক ৫ থেকে ৬শ’ টাকা বেতন দিয়ে চাষাবাদের কাজ করাচ্ছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, রাউজানের হলদিয়া, ডাবুয়া, চিকদাইর, গহিরা, নোয়াজিশপুর, বিনাজুরী, কদলপুর, বিনাজুরী, রাউজান, পূর্ব গুজরা, পশ্চিম গুজরা, উরকিরচর, নোয়াপাড়া, বাগোয়ান, পাহাড়তলী ইউনিয়ন, রাউজান পৌর এলাকার আলী খীল, ওয়াহেদার খীল, ঢালারমুখ, পূর্ব রাউজান, পশ্চিম রাউজান, ঢেউয়াপাড়া, হাজীপাড়া, সাপলঙ্গা, গনি হাজীপাড়া, দলিলাবাদ, ছত্রপাড়া, ছিটিয়াপাড়া, সুলতানপুর, কাজীপাড়া, পশ্চিম সুলতানপুর, মোবারক খীল, দক্ষিণ গহিরা, পূর্ব গহিরা, পশ্চিম গহিরা এলাকার ফসলি জমিতে সেচের পানি দিয়ে এলাকার কৃষকরা বোরো ধানের চাষাবাদ শুরু করছে।
রাউজান উপজেলা প্রশাসন ফসলি জমিতে চাষাবাদ না করে জমি অনাবাদি রাখা হলে ওই জমি সরকারিভাবে খাস করার ঘোষণা দেয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর শুষ্ক মৌসুমে বোরো ধানের চাষাবাদ বেড়েছে- জানান রাউজান উপজেলা কৃষি অফিসার বেলায়েত হোসেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার বেলায়েত হোসেন জানান, বোরো ধানের চাষাবাদের জন্য প্রতিটি এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কৃষক ও সেচ প্রকল্পের ম্যানেজারদের ডেকে উপজেলার উদ্যোগে সমাবেশ করে এলাকার কৃষকদের বোরো ধানের চাষাবাদের জন্য উৎসাহিত করা হয়। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় এ বছর শুষ্ক মৌসুমে ১২০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাত ও ৪ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বোরো ধানের চাষাবাদসহ মোট ৪ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। বাকি জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ চলমান রয়েছে। রাউজানে বোরো ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে এ বছর রাউজানে বোরো ধানের চাষাবাদ থেকে ১৮ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টন চাউল উৎপাদন করা যাবে আশা করেন উপজেলা কৃষি অফিসার।
রাউজানে ডিজেল চালিত সেচ পাম্প ৮৬০টি, বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প ৭৭টিসহ ছোট-বড় ৯৬০টি সেচ পাম্পের মাধ্যমে চাষাবাদে সেচ প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া গভীর নলকূপ, টিউবওয়েলসহ ছোট ছোট সেচ পাম্প চালু রয়েছে। এ ছাড়া রাউজানের উঁচু এলাকায় খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা খালের পানি আটকে ওই পানি সেচের মাধ্যমে কৃৃষকরা বোরো ধানের চাষাবাদ করছেন।

রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, ২২০ শতক ফসলি জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছেন। ২২০ শতক জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদের জমিতে চারা রোপণ করা পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। কৃষক জিয়াউর রহমান আরো জানান, নোয়াপাড়া ইউনিয়নে শেখপাড়া গ্রামের চন্দ্রবিল এলাকায় বিদ্যুৎ চালিত সেচ প্রকল্পের পানি ও কলের লাঙ্গল ট্রাক্টর (জমি চাষের যন্ত্র) সেচ বাবদ ৪০ শতক জমি থেকে ৩ হাজার টাকা নিচ্ছেন সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার জামাল উদ্দিন।