পুঁজিবাজারে তিন বছরে সর্বোচ্চ সূচক বৃদ্ধি

ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট মেটাতে ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ বা সিআরআর ১ শতাংশ কমানো এবং সরকারী আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে যাচ্ছে এমন খবরে শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান হয়েছে। আর এই জন্যই রবিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫০ পয়েন্ট বেড়েছে। যা একক দিন হিসেবে বিগত প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উত্থান। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তারল্য সঙ্কটের কারণে গত কিছুদিন ধরেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ লেনদেন থেকে দূরে ছিল। তাদের নিষ্ক্রিয় আচরণের কারণে সূচকের সঙ্গে লেনদেন তলানিতে নেমে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাজার সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগসংক্রান্ত ব্যাংকের কিছু আইন-কানুন সংস্কারের জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ে লিখিত দাবি জানায়, ঢাকা স্টক একচেঞ্জের ব্রোকারেজ এ্যাসোসিয়েশন ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশন। তবে তাদের দাবি না মানলেও ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিএসআর এবং বেসরকারী ব্যাংকের সরকারী আমানত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারবাজার। মূলত তারল্য প্রবাহ বাড়বে এমন আশাবাদেই গত বৃহস্পতিবার ও রবিবারের এই সূচকের উত্থান। সেই সঙ্গে বাড়ছে বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশাবাদ।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তারল্য সঙ্কট বাড়াতে সরকার আন্তরিক এমন আশাবাদেই বৃহস্পতিবারে ডিএসইর সব ধরনের সূচক বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি। এরই ধারাবাহিকতা দেখা গেছে রবিবারে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৪৭ পয়েন্টে। যা বিগত ২ বছর ১০ মাস ২১ দিন বা ২০১৫ সালের ৯ মে’র মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া ডিএসইর ডিএসইএক্স চালুর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সূচক বেড়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের ১০ মে এ সূচকটি ১৫৫ পয়েন্ট বেড়েছিল। সূচকটির ১৫৫ পয়েন্টই ছিল সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। এছাড়া ২০১৫ সালের ২৫ মে সূচকটি ১৩০ পয়েন্ট বেড়েছিল। যা তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরীয়াহ্ সূচক ২৫ পয়েন্ট এবং ডিএসইএক্স ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৩৯ ও ২ হাজার ১৫০ পয়েন্টে।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই একই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বেড়েছে। ডিএসইর সিএএসপিআই ৪৮৯ পয়েন্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭০৪ পয়েন্টে। এর আগে ২০১৫ সালের ১০ মে এ সূচকটি ৪৮৮ পয়েন্ট বেড়েছিল। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৫০ সূচক ৩৯, সিএসই-৩০ সূচক ৩৫৬, সিএসসিএক্স ২৯৪ ও সিএসআই ২৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৪২, ১৬ হাজার ২৩২, ১০ হাজার ৬৯৮ ও ১ হাজার ১৯২ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৯৮টির বা ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে, দর কমে ২৫টির বা ৭ শতাংশের এবং ১৫টির বা ৫ শতাংশের দর অপরিবর্তীত রয়েছে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ২০৮টির বা ৮৭ শতাংশের, কমেছে ২৫টির বা ১১ শতাংশের এবং অপরিবর্তীত রয়েছে ৫টির বা ২ শতাংশের। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৪১ কোটি টাকা। যা আগের দিন থেকে ২৯ কোটি টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৭০ কোটি টাকার। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ২১ লাখ টাকার।

ডিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো ॥ লঙ্কাবাংলা ফাইনান্স, বেক্সিমকো, মুন্নু সিরামিক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ইফাদ অটো ও বিডি থাই।