কৃষকের নজর কাড়ছে এডব্লিউডি প্রযুক্তি

শেরপুরের নকলা উপজেলায় বোরো আবাদে বেশ কিছু জমিতে ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ (এনএটিপি-২) প্রকল্পের আওতায় ‘পর্যায়ক্রমে ভিজানো এবং শুকানো সেচ পদ্ধতি তথা সেচ সাশ্রয়ী (এডব্লিউডি)’ নামে নতুন প্রযুক্তি কৃষকের নজর ও মন কেড়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারে এ প্রযুক্তির সুফল পাওয়া গেছে। যারা দেখেছেন বা জেনেছেন এমন সব কৃষক ওই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছেন। এতে পানির ব্যবহার ও সেচ ব্যয় কমবে, কিন্তু কৃষি উন্নয়ন ঠিকই অব্যাহত থাকবে।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিস্তার এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ওই এডব্লিউডি প্রযুক্তিটি সব কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জমির ওপর থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চারদিকেই ছিদ্রওয়ালা প্রযুক্তির রাবারের পাইপ পুঁতে রেখে এবং পাইপের মাধ্যমে জমিতে পানির উপস্থিতি দেখে সেচের ব্যবস্থা করেন কৃষক। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে যেসব কৃষক তাদের বোরো আবাদে এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারে মাধ্যমে সেচ দিচ্ছেন, তাদের প্রায় ৩০ শতাংশ সেচ সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। ফলে বোরো আবাদে সেচ কম লাগায় কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।  ভূরদী কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ছাইদুল হক, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ বেলাল মিয়া, কৃষানি নাসিমা ও মিনা বেগমসহ বিভিন্ন্ এলাকার অনেক কৃষক এডব্লিউডি প্রযুক্তিত ব্যবহারে সেচ দেওয়ার বিষয়ে বা ওই প্রযুক্তির খোঁজ দেওয়ায় কৃষি বিভাগের প্রতি তারা খুশি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইসমাতুন মাসুমা জাহান পলাশী ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, এনএটিপি-২ প্রকল্পের মাধ্যমে এখানে বোরো ধানে পানির সমস্যা সমাধানে এডব্লিউডি প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সফলতা এসেছে।