আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ১২ শতাংশ

চলতি মৌসুমে সারাদেশে ১১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টরে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চাইতে লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ১১ দশমিক ৭১ শতংশ। আর আউশের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধরন করা হয়েছে ২৭ লাখ ২ হাজার টন (চাল)। ঢাকা খামার বাড়ির কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে , হাইব্রিড আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৬ হাজার হেক্টরে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৩ দশমিক ১ টন হিসাবে মোট উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন। উচ্চফলনশীল আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৯ লাখ ৫ হাজার হেক্টরে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন হিসাবে মোট উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৩ লাখ ৮ হাজার মেট্রিক টন। স্থানীয় জাতের আউশ চাষ করা হবে এক লাখ ৬০ হাজার হেক্টরে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন এক দশমিক ৩০ মেট্রিক টন হিসাবে মোট উত্পাদন ধার্য করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার মেট্রিক টন।
আগের দিনে দেশে আউশ ও আমন ধানের চাষ হতো। দেশি জাতের আউশে ফলন কম হতো। এরপর বোরো চাষ শুরু হলে চাষি আউশ ধানের চাষ কমিয়ে দিয়ে বোরো চাষে ঝুঁকতে থাকে। কারন বোরো ধানের ফলন বেশি হয়। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির আশংকাও কম থাকে। এক পর্যায়ে আউশ চাষ উঠে যাওয়ার মত অবস্থায় আসে। বর্তমান সরকারের আমলে কৃষি মন্ত্রণালয় ফের আউশ ধানের চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। অউশ ধান চাষিদের প্রনোদণা প্রদান শুরু করে। এতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। চাষি নতুন করে আউশ চাষ বাড়িয়ে দেয়।
 এ বছর প্রনোদনা হিসাবে বীজ, বিঘা প্রতি ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও সেচ বাবদ নগদ ৫’শ টাকা, নেরিকা চাষের জন্য আগাছা পরিষ্কারের জন্য আরো অতিরিক্ত ৫’শ টাকা করে দেওয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্রপ উইং এর উপ পরিচালক মো. আইয়ুব আলি বলেন, উচ্চফলনশীল আউশ আবাদ করা হচ্ছে। এর ফলন বোরো ধানের কাছাকছি। আর চাষে খরচ কম। বৃষ্টির পানিতে চাষ হয়। এতে সেচ খরচ কম হয়। তিনি জানান, গত মৌসুমে (২০১৬-১৭ অর্ধবছর) সারাদেশে ১০ লাখ ৭ হাজার হেক্টরে আউশ চাষ হয়েছিল। উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন।