কুমিল্লার মেঘনায় খাঁচায় মাছ চাষে ভাগ্য বদল

কুমিল্ল­ার মেঘনা উপজেলার মেঘনা নদীতে সারি সারি খাঁচা তৈরি করে তেলাপিয়া মাছ চাষ পদ্ধতি বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন ওই উপজেলার চাষিরা।  মেঘনা নদীর ওমরাকান্দা এলাকায় বর্তমানে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন অসংখ্য খাঁচা রয়েছে। এতে এলাকার অনেক মানুষের স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। স্থানীয় মত্স্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট মাছ চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। মেঘনা উপজেলার লুটেরচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ও ওমরাকান্দা গ্রামের কয়েকজন চাষি জানান, অনেকদিন আগে থেকেই তাদের মাছ চাষের অভিজ্ঞতা রয়েছে। চাষি জসিমউদ্দিন জানান, তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ২০১৬ সালের ২৪ জুন থেকে বাড়ির পাশের মেঘনা নদীতে ১০টি খাঁচায় তেলাপিয়া মাছের চাষ শুরু করেন। পরবর্তীতে তার দেখাদেখি ওই এলাকার অনেকে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হন এবং ২০ জন ব্যক্তি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করেন।

 

উপাজেলার লুটেরচর ইউপি চেয়ারম্যান সানাউল্ল­াহ শিকদার জানান, এ এলাকায় খাঁচা পদ্ধতিতে মাছ চাষির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বছরব্যাপী প্রতিটি খাঁচায় তিনজন লোকের স্থায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে। মেঘনা নদীর ওমরাকান্দা এলাকায় বর্তমানে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন একশ’টি খাঁচা রয়েছে। এতে এলাকার তিনশ’ মানুষের স্থায়ী এবং অর্ধশতাধিক মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এভাবে মাছ চাষ করে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হচ্ছে এবং তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।

 

মেঘনা উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য জানান, নদীর পানিতে মাছ কম সময়ে দ্রুত বেড়ে ওঠে। তাই এলাকার লোকজন এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এই পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।