তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার

ফেব্রুয়ারি মাস চলছে। অন্য দিকে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। ‘ফেব্রুয়ারি মাস’ ও ‘বাংলা ভাষা’ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ভাষাগুলোর সঙ্গে আমাদের মাতৃভাষাও এগিয়ে যাচ্ছে সমান তালে। এই ভাষা ব্যবহার হচ্ছে গবেষণায়, অর্থনীতিতে, অ্যাপস তৈরিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাতে। আমাদের এবারের আয়োজন তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে। বিস্তারিত লিখেছেন মাহবুব শরীফ

 

আমাদের দৈনন্দিন কাজ, কথা বলা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষার ব্যবহার রয়েছে। দেশের গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও অবস্থান করছে আমাদের প্রাণের মাতৃভাষা বাংলা। সম্প্রতি গুগল বিজ্ঞপনে বাংলা ভাষার ব্যবহার তার অন্যতম উদাহারন হতে পারে।

 

ডোমেইন এ বাংলা ভাষা

 

২০১২ সালে এই ডোমেইনটির ব্যবহারের অধিকার পেতে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পক্ষে ভারত সরকার আইসিএএনএনের কাছে আবেদন করে। পরবর্তীতে আইসিএএনএন ডোমেইনটি বাংলাদেশকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। ব্যবহারের জন্য অনুমতি পাওয়ার পর তিন বছরে তা কার্যকর করতে না পারায় ২০১৫ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ ডোমেইনটি ব্যবহারের অধিকার হারায়। পরবর্তীতে .বাংলা ডোমেইন সক্রিয় করতে সরকার তত্পর হয়। ২০১৬ সালের জুন মাসে আইএএনএ তাদের ওয়েবসাইটে ডট বাংলা ডোমেইনটি বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে। বাংলা ভাষাতে ডট বাংলায় ওয়েব ঠিকানা লেখা যায়। যেমন- উইকিপিডিয়ার ওয়েব ঠিকানা হিসেবে উইকিপিডিয়া .বাংলা লিখা যাবে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ থেকে এটি সাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল যা পরবর্তীতে, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে .বাংলা ডোমেইনের উদ্বোধন করেন।

 

গুগল বিজ্ঞাপনে বাংলা অনুমোদন

 

২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স চালু করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন গুগল। গুগল বলছে, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কিছু বিবেচনা করে বাংলায় গুগল অ্যাডসেন্স চালু করা হয়েছে।

 

বাংলা অ্যাডসেন্স চালুর আগে গত ১৪ আগস্ট গুগল নতুন ৩০টি ভাষা যোগ করেছে স্পিচ-টু-টেক্সটে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা ভাষাও। এতে গুগলের এ সুবিধাটি ব্যবহার করে বাংলায় উচ্চারণ করে টাইপ করা যায়। পাশাপাশি উচ্চারণ করেও গুগল সার্চ ইঞ্জিনে কোনো কিছু খোঁজা যায়। এদিকে গুগল সার্চে বাংলা অনেক আগে থেকে যুক্ত হলেও সার্চের সময় বাংলা অটো-কপ্লিট যুক্ত হয়েছে কিছুদিন আগে। ফলে বাংলা জন্য বাংলা ইন্টারফেসের সাইট www.google.com.bd (বাংলা ইন্টারফেস না আসলে Google.com.bd offered in এর ডানে বাংলাতে ক্লিক করে বাংলা ইন্টারফেস নিয়ে আসুন) থেকে সার্চ করার সময় বাংলাতে (ইউনিকোড) বা ইংরেজিতে (ফনেটিক) কিছু লিখা শুরু করলে বাংলা অটো-কমপ্লিট হিসাবে নিচের তালিকাতে কিছু প্রস্তাবিত শব্দ বা শব্দ সমষ্টি আসবে যার উপরে ক্লিক করলে বা নির্বাচন করলে উক্ত বিষয় সার্চ করবে।

 

ই-কমার্স এ বাংলার ব্যবহার

 

বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ই-কমার্স। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই গড়ে উঠছে এক একজন উদ্যোক্তা। কিন্তু ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে টেকনলজিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর পূর্ণ ধারণা না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে অনেকেই, সফলতার মুখ দেখার আগেই থেমে যাচ্ছে অনেক উদ্যোক্তা। মেসেঞ্জার বট হতে পারে এসব উদ্যোক্তাদের এগিয়ে চলার এবং সফলতার পথে এক নতুন সূচনা। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে বাংলাভাষী বট তৈরি করেছে ‘প্রেনিউর ল্যাব’। নাম দিয়েছে ‘বাংলা বট’। বটটি বাংলা এবং ইংরেজি হরফে লিখা বাংলা বুঝতে ও উত্তর দিতে সক্ষম।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেসেঞ্জার বট একটি স্বয়ংক্রিয় মাধ্যম যা সরাসরি ক্রেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এবং কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারে। কথোপকথনের ভাষা হতে পারে বাংলা, ইংরেজি অথবা বাংরেজি, এই বট যেকোনো ভাষাতেই সমানভাবে দক্ষ। এর ফলে উদ্যোক্তা বা বিক্রেতাদের দিক থেকে ক্রেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য অতিরক্ত সময় আর ব্যয় করতে হবে না। বটকে দেয়া নির্দেশ অনুযায়ী তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে থাকবে। আর ক্রেতাদেরও এর জন্য আলাদা কোন অ্যাপ ইন্সটল করতে হবে না।

 

ডিজিটাল অভিধান

 

ভাষা, বিশেষত শব্দ ও অর্থগত বুনিয়াদ মজবুত করার জন্য অভিধান হলো সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম। অভিধানকে বলা হয় ভাষার আকর, যা এখন ডিজিটালাইজ হয়ে যাচ্ছে। কম্পিউটার-নির্ভর তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে অভিধানের ডিজিটাল রূপও তৈরি হয়ে গিয়েছে। সিডি বা ডিভিডি ছাড়াও অভিধান এবং বিশ্বকোষ (এনসাইক্লোপিডিয়া) ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে। এক নিমেষেই এখন শব্দ, অর্থ, উত্পত্তি, সংজ্ঞা ইত্যাদি জেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশেষ সফটওয়্যার/এপিকে ব্যবহার করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের কাছেও আলো হয়ে ধরা দিচ্ছে সদ্য প্রকাশিত অভিগম্য অভিধান। ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ডিজিটাল অভিধানটি উদ্বোধন করেছেন। এটি তৈরি করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের সহায়তায় ইপসা নামক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা ছাড়াও অনলাইনে ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ পরিচালিত স্মার্টফোনে ব্যবহার করা যায় এই ‘অ্যাকসেসিবেল ডিকশনারি’ (অভিগম্য অভিধান)। (অভিগম্য অভিধান) (http://accessibility dictionary.gov.bd)  ব্যবহার করে ইংরেজি ও বাংলা শব্দের উচ্চারণসহ অর্থ শুনতে পারছেন বিভিন্ন বয়সের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

 

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে কথা হয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে। তিনি বলেন,‘তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহারের অগ্রগতি এখনো শিশু অবস্থাতে রয়েছে। শুধুমাত্র ডটবাংলা ডোমেইন ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ব্যবহার দেখা যাচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন,‘বাংলাদেশ সরকার ‘তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধকরণ’ নামের একটি প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এই প্রকল্পের কাজ।’

 

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প

 

বাংলা ভাষা ব্যবহারের দিক থেকে এর অবস্থান পৃথিবীর প্রভাবশালী ভাষাগুলোর মধ্যে একটি। বাংলা ভাষার বহু ব্যবহারের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এর ব্যবহারের ভূমিকা বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাধীনতার পর থেকে এই ভাষার সঠিক ব্যবহার ও এর মান অক্ষুন্ন রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। যদিও এই পদক্ষেপগুলো ছিল খুব ছোট পরিসরের। সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে এর ওপর একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পটির নাম ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাভাষার সমৃদ্ধিকরণ’। এই প্রকল্পের পরিচাক মো. ছারোয়ার মোস্তফা চৌধুরীর সঙ্গে আমাদের কথা হয় তার প্রকল্পের পরিকল্পনা ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে।

 

ছারোয়ার মোস্তফা ‘গবেষণা ও উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প সম্পর্কে বলেন,‘বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলা ভাষাকে তুলে ধরার জন্য ‘গবেষণা ও উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। ইতোমধ্যে এর কার্য শুরু হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আশা কারা যায় মুখে উচ্চারিত সঠিক বাংলা ভাষা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পোজ হয়ে যাবে, লিখিত বার্তা কম্পিউটার পড়ে শোনাবে, মুদ্রিত বই-দলিল সফট কপিতে রুপান্তরিত হবে, বাংলা ভাষার সঠিক অনুবাদ পাওয়া যাবে, বাংলা ভাষার বিশাল মৌখিক ও লিখিত নমুনা (করপাস) গড়ে উঠবে। এই রকম ১৬টি উপাংশের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে এই প্রকল্প।’

 

তিনি জানান, দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে একটি প্রধান শর্ত বাংলা ভাষাকে প্রযুক্তিবান্ধব করা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও প্রয়োগ হলে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ কাঠামোতে নতুন পরিবর্তন সূচিত হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলা ভাষাকে যথাযথ মর্জাদাদান ও উত্কর্ষে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

 

চলমান প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ছারোয়ার মোস্তফা চৌধুরী জানান, এই প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিসরে নেত্রীস্থানীয় ভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষ করে কম্পিউটিং ও আইসিটিতে বাংলা ভাষাকে অভিযোজিত করা বা খাপ খাইয়ে নেয়া। গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণের লক্ষ্যে প্রকল্পটির আর একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে- বাংলা ভাষার জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি মাধ্যমে (ওয়েব, মোবাইল, কম্পিউটার)-এ ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন সফটওয়্যা/ টুলস/গবেষণার উন্নয়ন করা, যাতে বাংলা ভাষা কম্পিউটারে ব্যবহার করতে কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে।

 

‘গবেষণা ও উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের কার্যক্রম তিনি আরো জানান, বাংলা ভাষার জন্য ১৬টি সফটওয়্যার/ টুলস/রিসোর্স উন্নয়ন করা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। সম্পূর্ণ বাংলা কারপাস এবং বাংলা স্টাইল-শিট সম্পন্ন হলে বিশ্বমানের বাংলা কম্পিউটিং এর ভিত্তি তৈরি করা যাবে। এই ১৬টি উপাংশ হলো- ক. আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পূর্ণাঙ্গ বাংলা কারপাস উন্নয়ন। খ. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক তৈরিকৃত বাংলা ওসিআর এর আরো উন্নতিসাধন এবং এর সাথে হাতের লেখা সনাক্তকরণ পদ্ধতিএকীভূত করা। গ. কথা থেকে লেখা ও লেখা থেকে কথায় রুপান্তর সফটওয়্যার উন্নয়ন। ঘ. জাতীয় কিবোর্ড (বাংলা) এর উন্নয়ন। ঙ. বাংলা ভাষাশৈলীর নীতি প্রমিতকরণ। চ. বাংলা ফন্ট আন্তঃক্রিয়া বা রুপান্তর ইঞ্জিন। ছ. বাংলা সিএলডিআর উন্নয়ন এবং ইউনিকোড কনসোরটিয়মে জমা দেয়া। জ. বাংলা বানান ও ব্যাকরণ পরীক্ষক উন্নয়ন। ঝ. বাংলা যান্ত্রিক অনুবাদ উন্নয়ন। ঞ. স্ক্রিন রিডার সফটওয়্যার উন্নয়ন। ট. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাষিক যোগাযোগের জন্য সফটওয়্যার উন্নয়ন। ঠ. বাংলা অনুভূতি বিশ্লেষণের সফটওয়্যার উন্নয়ন। ড. একটি বহুভাষিক কন্টেন্ট রুপান্তর পদ্ধতি ও প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন করা। ঢ. সবচেয়ে জনপ্রিয় বা ব্যবহূত সাইটগুলো আন্তর্জাতিক ভাষায় অনুবাদ। ন. বাংলা ভিন্ন দেশের অন্য প্রচলিত ভাষা বা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ভাষার জন্য প্রমিত কিবোর্ড। ত. বাংলা ভাষা সহায়ক আইপিএ ফন্ট ও সফটওয়্যার উন্নয়ন করা।