চালু হচ্ছে দ্রুত গতির ট্রেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ২ ঘণ্টায় : সংসদে জানালেন মন্ত্রী

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দ্রুত গতির ট্রেন চালুর পরিকল্পনা বাংলাদেশ রেলওয়ে গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। তিনি বলেছেন, ঢাকা থেকে সরাসরি কুমিল্লা/ লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দ্রুত গতির রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাবতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন’ শীর্ষক একটি সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সমীক্ষা প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ অনুমোদন হয়েছে। পরামর্শ নিয়োগের জন্য গত বছরের ২১ জুন ইওআই (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) আহ্বান করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মাত্র ২ ঘণ্টা থেকে সোয়া ২ ঘণ্টা এবং মাত্র ১ ঘণ্টায় কুমিল্লা যাওয়া সম্ভব হবে।

রেলমন্ত্রী জানান, দাখিল করা ইওআই (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) প্রস্তাব মূল্যায়ন করে ৬টি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। গত বছরের ২৭ নভেম্বর রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) ইস্যু করে তা চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে এটি মূল্যায়নাধীন রয়েছে ।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এমপি শিরিন নাঈম (মহিলা আসন-৯) এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের বর্তমান দূরত্ব ৩২১ কিলোমিটার হতে ৯০ কিলোমিটার কমে হবে ২৩১ কি মি। ভ্রমণের সময়ও অনেকাংশে কমে যাবে, আর ঢাকা থেকে কুমিল্লা যেতে সময় লাগবে মাত্র ১ ঘণ্টা। এ প্রকল্পের জন্য ইআরডি হতে অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বজলুল হক হারুন (ঝালকাঠি-১) এর প্রশ্নের জবাবে মুজিবুল হক জানান, রেলওয়েতে বর্তমানে ১৭৯টি মিটারগেজ এবং ৯৪টি ব্রডগেজ- মোট ২৭৩টি ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ রয়েছে। তার মধ্যে সচল ২১২টি। এছাড়া ৩৬টি লোকেমোটিভ কারখানায় মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে।

তবে রেলওয়েতে লোকেমোটিভের সংকট রয়েছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী জানান, এ সংকট নিরসনের জন্য সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় ৭০টি মিটারগেজ, এডিবির অর্থায়নে ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ, ইডিসিএফের ফান্ডের আওতায় ২০টি মিটারগেজ এবং সর্বশেষ এডিবির অর্থায়নে ৪০টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লার (নরসিংদী-৩) এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরে এ পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৩৫০ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৬৮টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৪৯ হাজার ৪৬৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০টি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এ পর্যন্ত ৫১টি প্রকল্প শেষ হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের উন্নয়নে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মেয়াদকাল জুন ২০১৬ থেকে জুন ২০৪৫ পর্যন্ত, মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এর অধীনে ২৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে রেল আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে যাবে বলে মন্তব্য করেন রেলমন্ত্রী।