রাজবাড়ীতে ভ্রাম্যমান মৌ চাষ করে স্বাবালম্বি কলেজের ২ ছাত্র

রাজবাড়ী সরকারী কলেজের অনার্সের ছাত্র সজল হোসেন এবং আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ।এরা দুজনেই বাড়ী সদর উপজেলার বেনী নগর ও গোপিনাথ পুর গ্রামের বসিন্দা।

সজল এবং মাসুদ দুজনে সহ পাঠি এবং বন্ধু। আগে এদের সংসারে খুব একটা স্বচ্ছলতা ছিল না। পড়াশুনার যোগান দিতে তাদের অভিভাবকদের হিমসিম খেতে হতো। সংসারে ছিল টানপোরন।

একদিন তারা জানতে পারে যে রাজবাড়ী বিসিকে ভ্রাম্যমান ক্ষুদ্র মৌ চাষের উপর প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। তখন সজল এবং মাসুদ দুজনে এক মত হয়ে বিসিকের মৌ চাষ প্রশিক্ষনে অংশ গ্রহন করে। প্রশিক্ষন শেষে তাদের একটি করে মৌ চাষের বক্স (বাক্স) দেয়া হয়।

প্রথমে তারা পরিক্ষামুলক ভাবে বাড়ীতে মৌ চাষ শুরু করে। বিষয়টি তাদের আয়ত্বে এসে গেলে তারা মৌবক্স বৃদ্ধি করে বানিজ্যিক ভাবে মৌ চাষ শুরু করে।

বর্তেমানে তারা ৭০টি মৌ বক্স নিয়ে মৌ চাষ করছে। তাদের দুইতলা বিসিষ্ট প্রতিটি বক্সে রয়েছে মৌচাক বানানোর জন্য ১০টি করে ফ্রেম। অর্থাৎ ১০ করে মৌচাক। এই মৌচাক গুলি একবাই তৈরি করতে হয় ।এই মৌচাক গুলিতে মৌমাছি মধু তৈরি করে।

চাক মধুতে পূর্ণ হলে চাক থেকে মাছি সরিয়ে মধু সংগ্রহের পর চাকগুলি পুনরায় বক্সে রেখে দিতে হয়। মৌমাছি ্ঐ চাকেই আবার মধু তৈরি করে । পুনরায় চাক বানানোর প্রয়োজন হয়না। এ ভাবেই তারা তাদের বক্স গুলি নিয়ে ভ্রাম্যমান মৌ কারখানা গোরে তুলেছে।

যেখানে ফুলের সমাগম বেশী তারা সেখনেই তাদের বক্সগুলি স্থাপন করে মৌমাছি দ্বারা মধু উৎপাদন শুরু করে।

বর্তমানে তারা জেলার কালুখালী উপজেলার মোরারী পুর গ্রামে পদœার শাখা নদীর পারে শরিষা,কালীজিরা ও খেসারী ক্ষেতের পাশে ভ্রাম্যমান মৌ কারখানার (মৌবক্স বসিয়ে) মাধ্যমে মধু আহোরন করে চলেছে।

প্রতি সপ্তাহে এদের উৎপাদিত মধুর পরিমান ৩ থেকে ৪মন।যার মূল্য ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকা। প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৪শত টাকা

সজল জানায়, তাদের মধু সম্পুর্নভাবে প্রাক্রিতিক ভাবে ফুল থেকে মাছি রস নিয়ে এসে মধু তৈরি করে। তৈরিকৃত মধু মেসিনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। এতে হাতের কোন ষ্পর্শ লাগে না। এটা সম্পূর্ন নির্ভেজাল ঘাটি মধু।
তাদের উৎপাদিত মধু প্রচুর সুনাম থাকায় , এখন আর তাদের মধু নিয়ে বাজারে যেতে হয়না। দোকানীরাই (পাইকার) এখন তাদের ভ্রাম্যমান কারখানা খুজে সেখান থেকে মধু নিয়ে যায়।

সজল জানায়, এই জানুয়ারী মাসে সে সকল প্রকার খরচ বাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছে। এখন সে সম্পুর্ন রুপে স্বাবালম্বি। সে নিজের খরচ চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছে। তাদের আগের সেই অভাব এখন আর নেই।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানায়, গত নভেম্বর,ডিসেম্বর এবং জানুয়ারী এই ৩মাসে তার ১লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।এটা একটি লাভজনক ব্যবসা। এই ব্যাবসা বছরে ৬মাস চলে। এ ব্যাবসা করে লেখা পড়া করা যায় কোন অসুভিধা হয় না। আমি এখন স্বাবালম্বি।

সে আরো জানায় , যে সকল যুবক বেকার আছে হতাশায় ভুগছে তারা যদি এভাবে এই মধু চাষে আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসে তা হলে তারাও লাভবান হবে এবং বেকার সমস্যা কমে যাবে।

সজল এবং মাসুদ আরো জানায়, এবারে বৃষ্টি,কুয়াশা,এবং শীতের কারনে মধু তুলনামুলক ভাবে কম উৎপাদন হয়েছে। কারন কুয়াশা ও বৃষ্টির মধ্যে মৌমাছি বক্স থেকে বের হয় না এবং ফুলের রস আনতে পারেনা। বৃষ্টি কুয়াশা না থাকলে মধুর উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেত।

রাজবাড়ী বিসিক শিল্প নগরীর সহকারী মহা ব্যাবস্থাক মোঃ ফরহাদ হোসেন জানান, প্রতি বছরই আমরা মৌ চাষের উপর আমরা প্রশিক্ষন দেই। আমাদের এখান থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে রাজবাড়ী সরকারী কলেজের ২টি ছাত্র খুব ভাল ভাবে মৌচাষ করছে এবং তারা লাভবানও হয়েছে।