সবজি চাষে ভাগ্য বদল

সদর উপজেলার চর রমেশে সবজি চাষে ভাগ্য বদলেছে মো. আবু সাইদের। এজন্য প্রায় ১০ বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। সবজি চাষে একাগ্রতা তাকে সফলতা এনে দিয়েছে।

বর্তমানে স্থানীয়ভাবে সফল সবজি চাষি হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত সাইদ। তার দেখাদেখি এখন সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেক যুবকই।

আবু সাইদ জানান, আগে ধান চাষ করতেন তিনি। তাতে লোকসান হওয়ায় সবজি আবাদে ঝোঁকেন। বর্তমানে বাড়ির পাশের প্রায় ৪ একর জমিতে লাল শাক, লাউ, টমেটো, ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া, শশা, করলা, মূলা ও শিমের চাষ করছেন। পাইকাররা সরাসরি তার মাঠ থেকই সবজি কিনে নিয়ে যান। এবার এরইমধ্যে সবজি বিক্রি করেছেন প্রায় দুই লাখ টাকার। আরো দুই লাখ টাকার সবজি বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা।

সাইদ জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ সেবায় রোগ-বালাই’র আক্রমন থেকেও নিরাপদ তার সবজি। পোকা দমনে ব্যবহার করছেন ফেরোমন ট্রাপ পদ্ধতি। ফলে ছোট পোকা ফসলের ক্ষতি করতে পারে না।

সরেজমিনে চর রমেশ দেখা যায় বসত ঘরের পাশে সবজির ক্ষেতে পরিচর্যায় ব্যস্ত আবু সাইদ। জানালেন, ২০০৫ সালে এসএসসি পাস করার পর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে লেখাপড়া আর করতে পারেননি। বাবার কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। প্রথম দিকে ধান চাষ করলে লোকসান হয়। পরে সবজি চাষে সফলতা আসে।

আবু সাইদ জানান, এখন শুধু নিজেদের খাবার ধানটা চাষ করেন। এছাড়া ১২ মাসই সবজির চাষ করেন তিনি। চলতি মৌসম ছাড়াও আগামী মৌসুমের জন্য পুঁই শাক, পাট শাক, তরমুজ, বেগুন, বাদাম, ধুন্দল চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সবজি ক্ষেত পরিচর্যার জন্য একজন লোক নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এবছর সবজির বাজার দাম ভালো হওয়ায় লাভ বেশি হচ্ছে বলে জানান কৃষক সাইদ।

আবু সাইদ আরো বলেন, সবজির চাষ করেই তিন বোনকে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বাড়ির পাশে প্রায় ৪০ শতাংশ জমি কিনেছেন। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ব্যয় বহন করেছেন। বর্তমানে বাবা, মা, স্ত্রী, ছোট ভাই ও শিশু সন্তান নিয়ে সুখে আছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক আকবর হোসেন ও নাগর হোসেন বলেন, তারা সবজি চাষ করলেও সাইদের মত লাভ হতো না। অধিকাংশ সবজি রোগ-বালাই’র কবলে পড়ত। পরে সাইদের পরামর্শে উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে তাদের কথা মত সবজি চাষ শুরু করেন। এখন তাদের ফলন ভালো হচ্ছে। পোকা-মাকড় থেকে রক্ষার জন্য ফেরোমন ট্রাপ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। প্রায় দুই একর জমিতে পালং শাক, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধা কপি, লাউ, মিষ্টি কুমড়ার চাষ করছেন তারা।

সবজি চাষি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, সবজি চাষের প্রতি সাইদের আগ্রহটা মূলত কৃষি বিভাগই সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কিভাবে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা যায়, এ ধারণাটা কৃষি বিভাগ থেকে নিয়ে কাজে লাগান তিনি। তার মাঠের সবজির অবস্থা ভালো। নিয়মিত আমাদের তদারকি ও পরামর্শ সেবা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে তিনি সফল কৃষক হিসেবে পরিচিত। অনেকেই তাকে দেখে সবজি চাষ শুরু করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজউদ্দিন জানান, আবু সাইদ অত্যন্ত পরিশ্রমী সবজি চাষি। তার সবচেয়ে বড় গুণ, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ছাড়া তিনি কোনো কাজ করেন না। ক্ষেতের যে কোনো সমস্যায় তিনি আমাদের কাছে আসেন। আমরা তাকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে থাকি।