১ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা ব্যয় হবে তিন প্রকল্পে

সরকারি চাকুরেদের জন্য রাজধানী ঢাকায় ১ হাজার ৯৬০টি ফ্ল্যাট তৈরি করবে সরকার। এসব ফ্ল্যাট তৈরিতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আজিমপুর, মতিঝিল ও জিগাতলায় এসব ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। এ বিষয়ে পৃথক তিনটি প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এসব প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদেও নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। একনেকে অনুমোদন পেলে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করবে গণপূর্ত অধিদফতর।
আগামীকাল একনেকে উপস্থাপন হতে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংশ্লিষ্ট তিন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আজিমপুরে সরকারি কলোনির অভ্যন্তরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়), ঢাকাস্থ মতিঝিল সরকারি কলোনীতে (হাসপাতাল জোন স্টোর কম্পাউন্ড) বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং ঢাকাস্থ জিগাতলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের (গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদফতর) জন্য ২৮৮টি  আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প।
তিন প্রকল্পের প্রস্তাবনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণায়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থাপনা দীর্ঘকাল থেকেই চাহিদার তুলনায় বেশ ঘাটতি ছিল। সম্প্রতি সরকারের কাজের পরিধি অনেক বেড়েছে।  সরকারের নতুন নতুন অধিদফতর, পরিদফতর ও সংস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়লেও আবাসন সুবিধা আগের মতোই রয়ে গেছে। ফলে বর্তমানে আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সরকারি আবাসন পরিদফতরের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রস্তাবনায় বলা হয়, ঢাকা মহানগরীতে পদায়িত ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৫ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাত্র ৮ শতাংশ সরকারি আবাসন ভোগ করছেন। এ কারণে অনেক সময়ই সরকারি-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিম্নমানের বেসরকারি বাসভবনে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। ফলে তাদের কর্মক্ষমতার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিষয়টি অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবাসন সুবিধা বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে নিদের্শনা দিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে আবাসন পরিদফতর ২০১৫ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২টি ফ্ল্যাট থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৩২০টি ফ্ল্যাটে উন্নীতকরণ, ২০১৭ সালের মধ্যে ১৬ হাজার ৯৬৮টিতে এবং ২০১৯ সালের মধ্যে ১৮ হাজার ২৭৬টি ফ্ল্যাটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য পূরণ করা গেলে এক্ষেত্রে বর্তমানের ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছাবে। আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯০ কোটি ২৩ লাখ টাকা, এর আওতায় আজিমপুর সরকারি কলোনিতে অতিরিক্ত খালি জায়গায় দ্বিতীয় পর্যায় ১৭টি ভবন তৈরি করা হবে। এগুলোতে ফ্ল্যাটের সংখ্যা হবে ১ হাজার ২৯২টি। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৯টি ২০ তলা ভবনে ১ হাজার বর্গফুটের ৬৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা। এক্ষেত্রে প্রতিটি ভবনে ৭৬টি করে ফ্ল্যাট তৈরি হবে। এছাড়া ৮টি ২০ তলা ভবনে ৮০০ বর্গফুটের ৬৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ভবনে ফ্ল্যাটের সংখ্যা হবে ৬০৮টি। মতিঝিল সরকারি কলোনিতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ৩৮০টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ২টি ২০ তলা ভবনে প্রতিটি ১ হাজার বর্গফুট আয়তনের ১৫২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ, ৩টি ২০ তলা ভবনে প্রতিটি ৮০০ বর্গফুটের ২২৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ, ২ লাখ গ্যালন ক্ষমতার ভূগর্ভস্থ জলাধার তৈরি, ৫০০ কেভিএ সাবস্টেশন ৩ সেট, ৬০০-৬৩০ কেভিএ নির্মাণ করা হবে।
জিগাতলায় (গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদফতর) আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৮৮টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। প্রকল্পের আওতায় একটি ১৩ তলা ভবনে দেড় হাজার বর্গফুটের ৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ, ৩টি ১৩ তলা ভবনে ১২৫০ বর্গফুটের ১৪৪টি ফ্ল্যাট তৈরি, ২টি ১৩ তলা ভবনে ১ হাজার বর্গফুটের ৯৬টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। এছাড়া ৫ হাজার বর্গফুটের একটি ৬ তলা কমিউনিটি ভবন, ১ লাখ ৪০ হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতার ভূগর্ভস্থ জলাধার, ৭টি সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে।