মিশ্র খামারে বেশি লাভ

একসঙ্গে ফল, সবজি ও মাছের চাষ

উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের কবল থেকে গাছ ও নারিকেল রক্ষায় ঝালকাঠিতে ভিয়েতনামের খাটো জাতের সিয়াম ব্লু নারিকেল গাছের চাষ শুরু হয়েছে। নারিকেলগাছের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে ফলফলাদি ও সবজি।

আর এতেই রয়েছে মাছের অভয়ারণ্য। ‘এশা ইন্টিগ্রেটেড অ্যাগ্রিকালচার’ নামে মিশ্র খামার করে আয়ের স্বপ্ন দেখছেন মাহফুজুর রহমান।

জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেশাইন খান গ্রামের মাহফুজুর রহমান তিন একর জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি মিশ্র খামার। ছয় মাস আগে ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ভিয়েতনামের খাটো জাতের সিয়াম ব্লু ১৮০টি নারিকেলগাছের চারা কিনে রোপণ করেন তিনি। বন্যা ও ঝোড়ো হাওয়ায় এই নারিকেলগাছের কোনো ক্ষতি হবে না। চারা রোপণের তিন বছরের মধ্যে ছোট অবস্থাতেই গাছে নারিকেল পাওয়া যাবে।

কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে তিনি নারিকেলগাছের পাশাপাশি চাষ করছেন সাথি ফসল মাল্টা, লাউ, করলা, দুন্দল ও শসার। আর এসব ফসলের কান্দিতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য। মাহফুজের মিশ্র খামারটি দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

লাউ, করলা, দুন্দল ও শসা বিক্রি করে এ খামার থেকে ইতিমধ্যেই সপ্তাহে ১০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে মাহফুজের। তিন বছর পরে তাঁর এ খামারের নারিকেল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যাবে। মাহফুজের এ খামার দেখে গ্রামের অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। খামারটি দেখতে আসছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও বেকার যুবকদের এ খামারের আদলে খামার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মিশ্র এ খামারটি একসময় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নারিকেল ও সবজির চাহিদা মেটানো যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন স্থানীয়রা।

মাহফুজুর রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় খাটো জাতের ভিয়েতনামের নারিকেল চারা রোপণ করতে গিয়ে আমি একটি মিশ্র খামারের বাগান করি। এ বাগানে আমি ১৮০টি নারিকেলগাছের চারা রোপণ করেছি। প্রথমে শখের বসে নারিকেলের চারা লাগিয়েছি। এখন এটা লাভজনক হওয়ায় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে মিশ্র খামার গড়ে তুলেছি। এখন বিভিন্ন সবজি ও মাছের চাষ হচ্ছে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ আবুবকর ছিদ্দিক বলেন, মাহফুজকে প্রথমে নারিকেলের বাগান করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। সে আমাদের কাছ থেকে ১৮০টি ভিয়েতনামের খাটো জাতের নারিকেল চারা নিয়ে রোপণ করেছে। পরে আমাদের পরামর্শে সে কান্দিতে মাছের চাষ ও সাথি ফসল হিসেবে সবজি চাষ শুরু করে সফলতা পেয়েছে।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, ‘আমরা খামারটি পরিদর্শন করেছি। খামারটি সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে ফল, সবজি ও মাছের চাষ হচ্ছে। এটি জেলার সবচেয়ে বড় একটি মিশ্র খামার। এখানে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নারিকেলের ফলন শুরু হলে মাহফুজ এখান থেকে অনেক টাকা আয় করতে পারবেন।

সম্প্রতি মিশ্র খামারটি পরিদর্শনে এসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফরিদা জাহান বলেন, এই খামারে ভিয়েতনামের খাটো জাতের নারিকেল, সবজি ও মাছের চাষ লাভজনক। আমি মাহফুজকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ইতিমধ্যেই খামারটি আদর্শ খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।