খুলনাঞ্চল থেকে বেড়েছে চিংড়ি রফতানি

তিন মাসে রফতানি ১ হাজার ১৮৪ কোটি টাকার

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে খুলনাঞ্চল থেকে ১ হাজার ১৮৪ কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ি রফতানি হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রফতানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। গত এপ্রিলে দাবদাহে বাগদা চিংড়ির খামারে ভাইরাসে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। পরবর্তী সময়ে আগস্ট মাসে অতিবৃষ্টির ফলে বড় আকারে মড়ক দেখা দেয়। এ সত্ত্বেও এ বছর চিংড়ি রফতানি বেড়েছে।

মৎস্য অধিদফতর সূত্র জানায়, অপরিকল্পিতভাবে চাষের কারণে উন্নত বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় দক্ষিণাঞ্চলে বাগদা ও গলদার উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়া গত বছর নভেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক পরিম-লে দক্ষিণাঞ্চলের হিমায়িত বাগদা ও গলদার দাম প্রতি পাউন্ডে দেড় থেকে দুই ডলার কমেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে প্রায় প্রতি বছরই দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ি খামার মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত এবং ব্যাংকের কাছে ঋণখেলাপি হচ্ছেন। এপ্রিলের দাবদাহে গলদার খামারে বড় ধরনের ভাইরাস দেখা দেয়। এছাড়া এ বছরের জুন মাসে ৩৫৬ মিলিমিটার, জুলাই মাসে ৬৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮ দিনে ২৫ মিলিমিটার বেশি এবং অক্টোবর মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৮০ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে তিন দিনের শৈত্যপ্রবাহ এবং ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তিন দিনের মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বাগদা চিংড়িতে মড়ক দেখা দেয়।

মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপপরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকারের দেয়া তথ্যমতে, এ বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা মূল্যের ১১ হাজার ৯৮৭ টন হিমায়িত চিংড়ি বিদেশে রফতানি হয়। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৮৩ কোটি টাকা মূল্যের ১২ হাজার ৭৮২ টন চিংড়ি রফতানি হয়। খুলনাঞ্চলের ৪৩টি হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসব চিংড়ি বিদেশে রফতানি করছে। রফতানিকৃত পণ্যের মধ্যে ৮৩ শতাংশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রফতানি হয়। সূত্র আরও জানায়, মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া থাকায় দুইটি হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুকতকারী প্রতিষ্ঠানকে র‌্যাপিড অ্যালার্ট (সতর্কবার্তা) দেয়া হয়েছে। হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্ন সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজার (বিক্রয়) সাইফুদ্দিন তনু জানান, বেলজিয়াম, জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসে সবচেয়ে বেশি রফতানি হচ্ছে। প্রকারভেদে হিমায়িত বাগদার দাম নি¤œমুখী। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রতি পাউন্ডে দেড় থেকে দুই ডলার দাম কমেছে। ইউকেতে গলদা রফতানি ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের চতুরতার কারণে এবং সেখানকার মুদ্রার মান নি¤œমুখী হওয়ায় রফতানির পরিমাণ কমেছে। ন্যাশনাল সি ফুডের প্রতিনিধি জানান, এক পাউন্ড ওজনের ৫ পিস হিমায়িত বাগদা চার মাসে আগে ১৩ ডলার মূল্যে বিক্রি হয়েছে। এখনকার মূল্য ১১ ডলার। এ সত্ত্বেও ন্যাশনাল সি ফুড তিন মাসে ৩০ কোটি টাকার পণ্য রফতানি করেছে। উল্লেখ্য, খুলনা জেলায় এ মৌসুমে ২০ হাজার ৭০৬ হেক্টর জমিতে গলদা এবং ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে বাগদার উৎপাদন হয়েছে।