শিল্পনগরী হচ্ছে রাজশাহী

সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পে বেকারত্ব ঘুচবে

আম ও রেশম শিল্পের মতো উত্তরাঞ্চলে চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা যথেষ্ট থাকায় এবার রাজশাহী শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ৩ দিনব্যাপী চামড়া প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে রাজশাহী ও চট্টগ্রামে চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে শিল্পনগরীতে পরিণত হতে চলছে রাজশাহী। ফলে এ শিল্পে বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে। এতে বেকারত্ব ঘুচবে।
জানা গেছে, চামড়াজাত পণ্যের বৈশ্বিক বাজার এখন ২২ হাজার কোটি ডলার। এ বাজারের বৃহত্তম শরিক দেশ চীন। তবে চীনে মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের সামনে চামড়া শিল্পে নিজেদের অবস্থান জোরদার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে। বেকার সমস্যার সমাধান হবে। রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, সময়মতো পাওনা পরিশোধ না করা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েন রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা। রাজশাহীতে প্রায় ১৩৫ জন চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন। বর্তমানে প্রতি ব্যবসায়ীর ৮ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাকি আছে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে। ট্যানারি স্থানান্তরের নামে দীর্ঘদিন থেকে তাদের অর্থ আটকে রেখেছেন। এতে চামড়া ব্যবসা চালিয়ে নেয়ার মতো সক্ষম ব্যবসায়ী সংখ্যা এখন ৫০ এর নিচে নেমে গেছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাকিতে পাকা চামড়া নিয়ে সময়মতো টাকা দিচ্ছেন না আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা। ব্যাংক ঋণও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন অনেকেই। কিন্তু রাজশাহীতে চামড়া শিল্পনগরী গড়ে উঠলে এ সংকট আর থাকবে না। জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন জানান, রাজশাহীতে চামড়া সংরক্ষণ ও পাকাকরণের কোনো ব্যবস্থা নেই। রাজশাহীতে কোরবানির পশুর চামড়া কিনে পাকা করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পাকা চামড়া নিয়ে যান নাটোরের আড়তগুলোয়। সেখান থেকে ঢাকার ট্যানারি মালিকরা কিনে নেন পাকা চামড়া। নাটোরের আড়ত এমনকি ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে বাকিতেই দিতে হয় চামড়া। বছর ঘুরলেও পরিশোধ হয় না অর্থ। এতে বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে অনেকে এ ব্যবসা থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। কিন্তু রাজশাহীতে চামড়া শিল্পের মাধ্যমে যথাসময়ে চামড়া সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা ও চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন হলে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে। বেকার সমস্যা দূর হবে।